বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ২০ April ২০২১

বগুড়ায় ভূট্টা চাষে ত্রিমুখী লাভে কৃষক


সূর্যের তীর্যক কীরণ, প্রাকৃতিক দৈব দুর্ঘটনা সব কিছুকে পেছনে ফেলে ভাগ্য বদলের চেষ্টা করছেন বগুড়া জেলার কৃষকরা। ইতিমধ্যে ভাগ্য বদলের হাতিয়ার ভূট্টা জমি থেকে ঘরে তুলতে শুরু করেছেন তারা। এ জেলায় দিন দিন আগ্রহ বাড়ছে ভূট্টা চাষে। অনেক কৃষক তাদের ফসলি জমিতে নিয়মিত ভাবে ভূট্টা চাষ করছেন। জেলার বেশ কয়েকটি উপজেলা ঘুরে এ দৃশ্য দেখা যায়।

কৃষকরা বলছেন, এ বছর রোগ বালাই কম থাকায় ভূট্টা তেমন কোন ক্ষতি করতে পারেনি। ফলে গত বছরের তুলনায় এবারে ফলন ভাল হয়েছে। এ ফসল উৎপাদনে কৃষক ত্রিমুখীভাবে লাভ হয়ে থাকে। সব মিলিয়ে ভুট্টাতেই ভাগ্য বদলাতে চান বগুড়ার অনেক কৃষক।

ভূট্টা চাষী আয়নাল হক, আব্দুল মান্নান জানান, বগুড়া জেলার শেরপুর-ধুনট সারিয়াকান্দি উপজেলায় সবচেয়ে বেশি ভূট্টা চাষ হয়। বীজ, সার, পানি, জমি প্রস্তুত, লাগানো, শ্রমিক মজুরি, কাটা-মাড়াইসহ প্রতি বিঘায় তাদের খরচ হয় সর্বোচ্চ ৮ হাজার টাকা। এরমধ্যে এবারে প্রতি বিঘায় উৎপাদন হয়েছে গড়ে ৩০-৩২ মণ। তারা প্রতিমণ শুকনো ভুট্টা বাজারে বিক্রি করছেন ৭৬০ টাকা।

এ জেলায় ধানের চেয়ে ভূট্টা চাষে আগ্রহী বেশি। কারণ হিসেবে তারা জানান, এক বিঘা জমিতে ধানের চেয়ে ভূট্টা বেশি উৎপাদন হয়। তাছাড়া এর পরিশ্রমও কম। সেই সাথে এক ভূট্রা চাষে কৃষকরা ত্রি-মুখি লাভবান হচ্ছে। একদিকে ভাল দামে ভূট্টা বাজারে বিক্রি করছে, অন্যদিকে এর মুচি প্রতি বস্তা ১১০ টাকায় বিক্রি করছে। আর ভূট্রার গাছ জ¦লানি হিসেবে বিক্রি হয়। সব মিলিয়ে এ জেলার কৃষকরা ভূট্রা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছে দিনদিন।

ভূট্টা চাষী আজমল, হাফিজার, সাহেব আলীসহ একাধিক কৃষকরা জানান, এ ফসল মানুষের নানা ধরনের খাদ্য ও শিল্পজাত ছাড়াও বহুবিধ কাজে ব্যবহার হয়ে থাকে। তাই এটিকে বাদ দিয়ে অন্য ফসলের চিন্তা খুব কমই হয়। এখন আবহাওয়া ভালো না থাকায় তড়িঘড়ি করে ফসল ঘরে তুলতে হচ্ছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে বাকি অল্প কিছু জমির ফসলের কাজ শেষ হবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর থেকে জানাযায়, এ জেলায় রবি ও খরিফ দুই মৌসুমে ভূট্টা চাষ হয়। এ বছর রবি মৌসুমে জেলায় প্রায় ৮ হাজার ৩৫৮ হেক্টর জমিতে ভূট্টা চাষ করে চাষিরা। যার মোট উৎপাদন লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে ৮৩ হাজার ২৮০ মেট্রিক টন। খরিফে জেলায় ৭০০ হেক্টর জমিতে ভূট্টা চাষ করা হয়েছে। নভেম্বর-ডিসেম্বর থেকে এ জেলায় রবি মৌসুমে ভূট্টা চাষ শুরু হয়। যা কৃষকের ঘরে উঠতে সময় লাগে ৫ থেকে ৬ মাস। খরিফ মৌসুমের চাষ শুরু হয় এপ্রিল মে থেকে। ভূট্টা এ আবাদ ঘরে তুলতে সময় লাগে ৪ থেকে ৫ মাস।


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১