আপডেট : ২১ April ২০২১
করোনা মহামারীর কারণে কঠোর লকডাউন, জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে আসার ওপর কড়াকড়ি আরোপ, সর্বোপরি অবৈধভাবে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে যাওয়া-আসা বন্ধে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতের সীমান্ত রক্ষীবাহিনী (বিএসএফ)-এর কঠোর নজরদারির মধ্যেও বাংলাদেশ থেকে সীমান্ত পাড়ি দেওয়া অব্যাহত রয়েছে। এসব আইন থোড়াই কেয়ার করে দালালদের সহায়তায় ওরা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছে ভারতে অবিরত। আর সীমান্ত পারাপারের আগেই ওদরে কেউ কেউ ধরা পড়ছে সীমান্ত পাহাররত বাহিনীর সদস্যদের হাতে। ঘরের বাইরে না যেতে লকডাউন আর সীমান্তরক্ষীদের কড়াকড়িও থামাতে পারেনি অবৈধ ভারতযাত্রা। বিজিবি-৫৮ ব্যাটালিয়ন পরিচালক কামরুল আহসানের বরাত দিয়ে সহকারী পরিচালক নজরুল ইসলাম খান জানান, এ বছর জানুয়ারি থেকে এপ্রিলের মাঝামাঝি পর্যন্ত মহেশপুর সীমান্তের বিভিন্ন আউটপোস্ট ও এলাকায় তারা ৩৪৫ জন বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করেন, আটক করেন কয়েকজন দালালকেও। এদের মধ্যে বেশ কিছু নারি ও শিশু রয়েছে। এদের ৪৭ জন জানুয়ারি, ১১১ জন ফেব্রুয়ারি, ৬৫ জন মার্চ এবং বাদবাকি ১২২ জন এপ্রিলের মাঝামাঝি বিজিবির হাতে আটক হয়। আটকরা মহেশপুরের বাঘাডাঙ্গা, মাটিলা, একাশিপাড়া, সেজিয়া, মকরধজপুর, দরবেশনগর, বাঁশবাড়িয়া, পদ্মপুকুর, মাইলবাড়িযা, খোসালপুর ও হঠাৎপাড়াসহ উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে সীমান্ত পাড়ি দিতে চেষ্টা করে। আটকদের চেয়ে অবৈধপথে ভারতে যাওয়ার সংখ্যা নেহাত কম নয়। এসব মানুষ খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, ঢাকার সাভার, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, পিরোজপুর, যশোর, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, খুলনা, নড়াইল ইত্যাদি জেলা থেকে ভারতে যাওয়ার জন্য সীমান্তে জড়ো হয়। যাদের অধিকাংশ হয় বাংলাদেশের বিজিবি, না হয় ভারতের বিএসএফের হাত ধরা পড়ে নির্ঘাত জেলের ঘানি টানে বলে জানান ওই বিজিবি কর্মকর্তা। বিজিবি-৫৮ ব্যাটালিয়নের পরিচালক কামরুল আহসানের সাথে আাালাপ করলে তিনি জানান, আটকরা সাধারণত ভারতে তাদের নিকটাত্ময়দের বাড়ি বেড়ানো, ভালো চাকরি আর কম খরচে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, মাদ্রাজ ও চেন্নাইয়ে চিকিৎসার কথা বললেও অধিকাংশই সেখানে স্থায়ী বসবাসের জন্য ঘাঁটি গাড়তে চায় বলে বিজিবি কর্তৃপক্ষের কাছে স্বীকার করে। কিন্তু বন্ধুপ্রতিম দুই দেশের মধ্যে সীমান্তে চোরাচালান, অনাকাঙ্ক্ষিত হত্যা বা হানাহানি বন্ধ এবং সম্পর্কোন্নয়নের অংশ হিসেবে উভয়পক্ষ কোনো বেআইনি কর্মকাণ্ড বন্ধে একমত পোষণ করে। সম্পর্ক আরো নিবিড় করতে বাঙালির প্রাণের উৎসব পয়লা বোশেখে বিজিবি ভ্রাতৃপ্রতিম ভারতীয় বিএসএফ’র ৩টি ব্যাটালিয়ন ও ২৮টি ক্যাম্পে নববর্ষের মিষ্টি পাঠিয়ে অকৃত্রিম বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। ভারতীয় বন্ধুরাও বাংলাদেশের এ উপহারকে স্বাগত জানিয়েছেন।
Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.
বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com
অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com
ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১