আপডেট : ২৯ April ২০২১
এশিয়ার বৃহত্তম হাকালুকির ৯০ ভাগ বোরো ধান গোলায় তুলেছেন কৃষকরা। সুন্দরভাবে গোলায় ধান তুললেও দুশ্চিন্তায় আছেন থড় নিয়ে। এবার হাওরে খড় চুরির হিড়ক পড়েছে। স্থানীয়দের দাবি কিছু অসৎ খামারি এসব খড় চুরির সাথে জড়িত রয়েছেন। সরেজমিন ভুকশিমইল, জয়চন্ডী ও বরমচাল ইউনিয়নের হাকালুকি হাওর তীর এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বোরো ধান কাটা প্রায় শেষ। কৃষক পরিবারের ছোট বড় সবাই এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন ধান শুকানো ও খড় শুকানোর কাজে। হাওর তীরের কয়েকজন কৃষক জানান, এবার বোরো ধানের বাস্পার ফলন হয়েছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় ইতোমধ্যে বোরো ধান কাটা ও গোলায় তোলায় কাজ ৯০ ভাগ শেষ হয়েছে। হাওরের মধ্যবর্তী স্থান থেকে ধান তীরবর্তী সড়কে নিয়ে আসার কোন রাস্তা না থাকায় কাঁধে বহন করতে হয়। এমনকি অনেক জায়গায় দু’টি বিলের সংযোগ খাল থাকায় পড়তে হয় নানা বিপাকে। এসব খালে নেই কোনো ব্রীজ, তাই বাঁশের সাঁকো দিয়ে ধানের বোঝা নিয়ে পারাপার হতে হয়। প্রতিটি বিল থেকে যদি পরিকল্পনা করে রাস্তা করা হয়, তাহলে কৃষকরা কম খরচে হাওর থেকে বাড়িতে ধান আনতে পারবে। স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কৃষি বিভাগ এ ব্যাপারে কার্যকর উদ্যোগ নেয়ার জন্য স্থানীয় কৃষকরা আহবান করেন। কৃষক আব্দুল বারী জানান, এবার খড় চুরি একটা প্রবণতা দেখা দিয়েছে। আমরা বোরো খড় সংরক্ষণ করে রাখি, বর্ষা মৌসুমে গবাদি পশুগুলোকে এসব খড় খাবার হিসেবে খাইয়ে থাকি। এবার হাওরাঞ্চলে খড় বিক্রিও হচ্ছে ভালো দামে। প্রতি বিঘার খড় হাজার থেকে ১২শ টাকা কিনে নিচ্ছেন খামারিরা। কিন্তু খড় চুরি হওয়ায় দুশ্চিন্তায় আছি আমরা। হাকালুকি হাওর তীরের শুধু কুলাউড়া নয় পার্শ্ববর্তী জুড়ি ও বড়লেখা এবং ফেঞ্চুগঞ্জ ও গোলাপগঞ্জ উপজেলায়ও কৃষকরা শেষমুহুর্তে ধান কাটছেন। যে সামান্য ধান হাওরে কাটার বাকি রয়েছে, তাতে ভারী বৃষ্টিপাতেও আর কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। কুলাউড়া উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা যায়, হাকালুকি হাওরের কুলাউড়া উপজেলা অংশের ৬টি ইউনিয়নে মোট ৭ হাজার ৯১২ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ করা হয়েছে। যা কৃষকের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি। হাওর তীরের ৫ উপজেলায় প্রায় ৩০ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়ে থাকে।
Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.
বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com
অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com
ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১