আপডেট : ২৫ May ২০২১
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ার শঙ্কায় দেশে আন্তঃজেলা গণপরিবহন বন্ধ ছিল অনেকদিন। চলমান বিধিনিষেধের মধ্যেই দূরপাল্লার বাস চলাচলের অনুমতি দিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে সাত সপ্তাহ বন্ধ থাকার পর অর্ধেক আসনে যাত্রী নিয়ে আবারো গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে যায় ট্রেন। পাশাপাশি টানা ৪৯ দিন বন্ধ থাকার পর শিমুলিয়া-বাংলাবাজার ও শিমুলিয়া-মাঝিকান্দি নৌপথে লঞ্চ চলাচল শুরু হয়েছে। ঘাটগুলোয় ফিরেছে ব্যস্ততা। চলছে দূরপাল্লার বাস : দূরপাল্লার বাস বন্ধ থাকায় গত ঈদে গ্রামে যেতে পারেননি এমন অনেককে গতকাল বাড়ির উদ্দেশে রওনা হতে দেখা গেছে। বাস চালু হওয়ায় যাত্রী ও পরিবহন খাত সংশ্লিষ্টদের মধ্যেও সন্তোষ দেখা গেছে। গতকাল সোমবার সকালে রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনালে এ চিত্র দেখা গেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, দীর্ঘদিন পর বাস কাউন্টারগুলো খুলেছে। বাসগুলো টার্মিনালে কাউন্টারের সামনে এসে দাঁড়াচ্ছে। কিছু কিছু বাসে জীবাণুনাশক ছিটাতে দেখা গেছে। তবে পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চাহিদা অনুযায়ী যাত্রীর চাপ নেই। যাত্রী আসা মাত্রই দাঁড়িয়ে থাকা বাসের চালক-সহকারীরা তাদের ডেকে তুলছেন। যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকদের আগমন বাড়ায় টার্মিনাল সংলগ্ন দোকানপাট, হোটেলগুলোও খুলেছে। গাবতলী বাস টার্মিনালের সামনে সাইফুল ইসলাম নামে এক যাত্রী বলেন, ‘ঈদে বাড়ি যেতে পারিনি। অফিসে রাতে ডিউটি ছিল। খবরে দেখলাম দূরপাল্লার বাস চলবে আজ সকাল থেকে। তাই ডিউটি শেষে বেরিয়ে আসলাম। গ্রামের বাড়ি ঠাকুরগাঁও যাব। যদি বাস চলতো তাহলে হয়তো ঈদেই বাাড়িতে যেতাম।’ ঢাকা-গাইবান্ধাগামী অরিন পরিবহনের চালক মো. মঈনুল বলেন, ‘গত রোববার রাত ১১টায় দুই সিটে একজন করে মোট ১৬ জন যাত্রী নিয়ে গাইবান্ধা থেকে রওনা দিয়েছিলাম। ঢাকায় এসে পৌঁছেছি ভোর সাড়ে ৬টায়। তারপর বিশ্রাম নিয়ে সকাল ১১টায় ট্রিপে যাচ্ছি।’ তিনি বলেন, ‘আসার সময় গাড়ি স্প্রে করে নিয়েছিলাম। এখন রওনা দেব দেখে আবার স্প্রে করে নিলাম। সব ধরনের স্বাস্থ্যবিধি মেনেই আমরা গাড়ি চালাচ্ছি।’ ঢাকা থেকে পাবনাগামী শাহজাদপুর ট্রাভেলস কাউন্টারের সুপারভাইজার মো. নাসিরুদ্দিন বলেন, ‘গতরাত ১২টার পর দুয়েকটা পরিবহনের গাড়ি হয়তো যেতে পারে। সেটা আমরা জানি না। আজ সকাল ৭টায় আমরা কাউন্টার খুলেছি। সকাল থেকে আমাদের গাড়ি চলছে।’ সাত সপ্তাহ পর ট্রেন চলাচল শুরু : সাত সপ্তাহ বন্ধ থাকার পর গতকাল থেকে অর্ধেক আসনে যাত্রী নিয়ে আবারো গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে যায় ট্রেন। ঢাকার কমলাপুর রেল স্টেশন থেকে দুপুর পর্যন্ত ৬টি যাত্রীবাহী ট্রেন বিভিন্ন গন্তব্যে ছেড়ে গেছে। তবে সাধারণ সময়ের তুলনায় যাত্রী কিছুটা কম বলে রেল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ভাইরাস সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি রোধে গত ৫ এপ্রিল সরকার লকডাউনের বিধিনিষেধ আরোপ করলে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। সরকার রোববার দূরপাল্লার যাত্রী পরিবহনে বিধিনিষেধ শিথিল করলে সোমবার থেকে ট্রেন চালানোর ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ রেলওয়ে। প্রাথমিকভাবে সারা দেশে ২৮ জোড়া আন্তঃনগর ট্রেন, ৯টি মেইল এক্সপ্রেস ও কমিউটার ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। এসব ট্রেনের অর্ধেক আসন ফাঁকা রাখা হচ্ছে এবং সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মানতে হচ্ছে। সকালে কমলাপুর রেল স্টেশন পরিদর্শনে গিয়ে রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন বলেন, আপাতত কেবল অনলাইনে টিকিট পাওয়া যাবে। ট্রেনের আসন সংখ্যার অর্ধেক টিকিট বিক্রি হবে। টিকিট ছাড়া কেউ স্টেশনে প্রবেশ করতে পারবে না। সকল স্টেশনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কড়া নির্দেশনা রয়েছে জানিয়ে রেলমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে যাত্রী কম, যাত্রী সংখ্যা বাড়লে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কমলাপুর রেল স্টেশনের ম্যানেজার মাসুদ সারোয়ার বলেন, সকাল থেকে ঢাকা-সিলেট রুটে পারাবত এক্সপ্রেস, লোকাল ট্রেন বলাকা এক্সপ্রেস, মহানগর প্রভাতী, কর্ণফুলী ও কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস ছেড়ে গেছে। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, রেলওয়ের ৩৬২টি ট্রেনের মধ্যে স্বাভাবিক সময়ে ১০২টি আন্তঃনগর ট্রেন এবং ২৬০টি লোকাল, কমিউটার ট্রেন ও মালবাহী ট্রেন চলাচল করে। শিমুলিয়ায় লঞ্চ ছাড়ল ৪৯ দিন পর : ভোর ৬টার দিকে শিমুলিয়া, বাংলাবাজার ও মাঝিকান্দি ঘাট থেকে যাত্রী নিয়ে লঞ্চ ছেড়ে যায়। এতে ফেরিতে ভিড় কমে স্বস্তি ফেরে। দ্বিতীয় ঢেউয়ে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়তে থাকায় গত ৫ এপ্রিল লঞ্চ চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে স্পিডবোট ও ট্রলারও চলাচলেও নিষেধাজ্ঞা আসে। বিআইডব্লিউটিএ’র শিমুলিয়া ঘাটের সহকারী পরিচালক শাহাদাত হোসেন বলেন, সকাল থেকে ৮০টি লঞ্চ চলাচল করছে। ধারণক্ষমতার অর্ধেক যাত্রী নিয়ে চলছে সব লঞ্চ। স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাত্রী পার করার চেষ্টা চলছে। তবে স্পিডবোট এখনো চালু হয়নি। লঞ্চ চলা শুরু হওয়ায় ফেরিতে যাত্রীর চাপ কমেছে বলে জানিয়েছেন বিআইডব্লিউটিসির শিমুলিয়া ঘাটের ব্যবস্থাপক আহাম্মদ আলী।
Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.
বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com
অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com
ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১