বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ২৭ June ২০২১

অন্ধকার দেখছেন নিম্নবিত্ত ও পরিবহন শ্রমিকরা


করোনা সংক্রমণের বিস্তার ঠেকাতে আগামীকাল সোমবার থেকে শুরু হচ্ছে সারা দেশে কঠোর লকডাউন। ফলে জীবিকা নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন পরিবহন শ্রমিকরা ও নিম্নবিত্তরা। অভাবের ভয় জেঁকে বসেছে নিম্নবিত্তদের। কাজ না থাকলে খাবে কি? সংসার চলবে কি করে? এমন হাজারো প্রশ্ন খুরপাক খাচ্ছে তাদের ভেতরে। তাদের অধিকাংশের মজুরি দৈনিকভিত্তিক। বাস-লঞ্চ না চললে মজুরি পাওয়া যায় না। সংসার চালাতে হয় ধারদেনা করে।

সরকারের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সুরথ কুমার সরকার জানান, করোনার সংক্রমণ রোধে আগামী সোমবার থেকে সারা দেশে ৭ দিনের কঠোর লকডাউন থাকবে।  এ সময়ে জরুরি পরিষেবা ছাড়া বন্ধ থাকবে সব ধরনের সরকারি-বেসরকারি অফিস। অ্যাম্বুলেন্স ও চিকিৎসাসংক্রান্ত কাজে যানবাহন এবং জরুরি পণ্যবাহী ছাড়া বন্ধ থাকবে সব ধরনের যান চলাচল।

সারা দেশে কঠোর লকডাউনের খবর ছড়িয়ে পড়তে হতাশার ছায়া নেমে আসে শ্রমজীবীদের মাঝে। তারা বলছেন, করোনার প্রথম ধাপেও দেখা গেছে লকডাউনে মানুষ না খেয়ে কষ্ট করেছে। পরিবার-পরিজন নিয়ে পথে বসেছে, অনেকে ধার-দেনা করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গ্রামে চলে গেছে।

রাজধানীর নিউ র্মাকেটে কাপড়ের দোকানে চাকুরি করতেন কামাল। করোনার প্রথম লকডাউনের সময় তিনি চাকুরি হারান। অনেক কষ্টে তিন মাস  আগে তিনি একটি দোকানে চাকুরি জোগাড় করেন।  মাঝখানে যে কয় মাস তিনি বেকার ছিলেন, সে সময়ের ধকল এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেন নি তিনি। অনেক ধার-দেনা রয়েছে তার। এবার যদি সেই আগের মতো লকডাউন হয় তাহলে পথে বসা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না। লকডাউনের খবরে হতাশ পরিবহন শ্রমিকরা। ঢাকার আশপাশের ৪ জেলাসহ ৭টি জেলায় কঠোর লকডাউন চলমান থাকায় এমনিতেই গণপরিবহনের চলাচল অনেকটা সীমিত। তার ওপর সারা দেশে শাটডাউন যেন নির্বাক করে দিয়েছে গণপরিবহন শ্রমিকদের।

সৌখিন পরিবহনের সুপারভাইজার রঞ্জু হতাশা প্রকাশ করে গণমাধ্যমকে বলেন, আমাদের কপালই খারাপ। কয়দিন গাড়ি চলল, এহন আবার বন্ধ। চলমু কেমনে। জানি না কী হয়।

পরিবহন মালিকরা বলছেন, গত বছর থেকেই পরিবহন সেক্টরে সংকট যাচ্ছে। কয়েক দফায় সবকিছু বন্ধ থাকার ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার সুযোগ আসতে না আসতেই আবার সব বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ব্যাংকগুলোতে দেনা বাড়ছে। সরকার প্রণোদনা দেবে বললেও তা শুধু আশ্বাসেই সীমাবদ্ধ থাকছে।

লালন পরিবহন ও পাটগ্রাম পরিবহনে ৮টি গাড়ি রয়েছে মালেক মিয়ার। চালক, হেলপার, সুপারভাইজারসহ ৪০ জনের মতো জনবল রয়েছে তার অধীনে। গাড়ি বন্ধ থাকলেও শ্রমিকদের বেতন দিতে হবে বলে জানালেন মালেক। তিনি বলেন, এই শ্রমিকরাই আমার মূলশক্তি। তাদের ছাঁটাই করি না। বেতন দিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু কত দিন দিতে পারব জানি না।’

আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সরকারের কোনো সহায়তা পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানালেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ। তিনি বলেন, আমরা নিজ উদ্যোগে শ্রমিকদের সহায়তা করছি। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে কিছু পাওয়া যাচ্ছে না। করোনায় আমরা পরিবহন সেক্টরের লোকজন অনেক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।

একই অবস্থা নৌপরিবহন সেক্টরে। ঢাকার আশপাশসহ ৭টি জেলায় কঠোর লকডাউনের কারণে একরকম বসে সময় কাটছে এই খাতের শ্রমিকদের।  শ্রমিকদের বেতন-ভাতা দিয়ে চালিয়ে যাওয়ার জন্য সরকারের কাছে ৪০ কোটি টাকা চাওয়া হয়েছে। কিন্তু সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ এখনো কিছু জানায়নি। যে কারণে নিরুপায় হয়ে থাকতে হচ্ছে লঞ্চ মালিকদেরও।

লঞ্চ মালিকদের সংগঠনের মহাসচিব সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারী বলেন, আমাদের কিছুই করার নেই। সরকার যখন যে সিদ্ধান্ত দিচ্ছে, আমরা মেনে চলছি। কিন্তু আমাদের কিছুটা সোজা হয়ে দাঁড়াতে সরকারের সহায়তা পাচ্ছি না। শ্রমিকদের বেতন বাবদ কিছু টাকা চাওয়া হয়েছে। সেটার ব্যাপারেও কোনো সিদ্ধান্ত নেই। আমরা আমাদের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১