বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ১০ July ২০২১

লকডাউন ও ঈদকে পুঁজি, সিলেটে অস্থির নিত্যপণ্যের বাজার


করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে সারা দেশের ন্যায় সিলেটেও চলছে ‘কঠোর লকডাউন’। এ লকডাউন ও আসছে ঈদুল আজহাকে পুঁজি করে নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে। লকডাউনে গৃহবন্দিদের কমেছে আয়। কিন্তু কমছে না নিত্যপণ্যের দাম, বরং বেড়েই চলেছে। করোনার প্রভাব বেড়ে যাওয়ায় এবং আসছে ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে সীমিত আয়ের মানুষের মধ্যে দুৎশ্চিন্তা বাড়ছে। এমন সময় নিত্যপণ্যের দামও নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। প্রতিদিনই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বিভিন্ন ধরনের পণ্যের দাম।

সিলেটে চলতি সপ্তাহে নতুন করে বেড়েছে চাল, সবজি ও মাছের দাম। বিক্রেতারা বলছেন, ‘লকডাউনের’ কারণে পণ্য আনা নেওয়ার খরচ বেড়েছে। মূলতঃ এ জন্যই চালসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে ।

আজ শনিবার সিলেটের কয়েকটি কাঁচা বাজার ঘুরে দেখা যায়, কঠোর বিধিনিষেধের কারণে কাঁচাবাজারে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ক্রেতার ভিড় বেশ কম। তবে পণ্যের দামে তা প্রভাব ফেলেনি।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, বেগুনের দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া ঝিঙে ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। করলা বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি, যা আগে ছিল ৪০ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে। চিচিঙ্গার কেজি সপ্তাহের ব্যবধানে ২০ টাকা বেড়ে ৬০ টাকা হয়ে গেছে। ৬০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া বরবটির দাম বেড়ে ৮০ টাকা হয়েছে । আগের মতো ঢেঁড়স ৪০ থেকে ৫০ টাকা এবং পটল ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। কাঁচকলার হালি বিক্রি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। পেঁপের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা। বাজারে চাল কুমড়া পিস ৪০ থেকে ৫০ টাকা, প্রতি পিস লাউ আকারভেদে বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়, মিষ্টি কুমড়ার পিস ৪০ টাকা, কচুর লতি ৬০ টাকা, ধুন্দুল ৫০ টাকা। কাঁচামরিচের কেজি ৪০ টাকা। শশার দাম ৪০ টাকা। কাঁকরোল প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা, লেবুর হালি বিক্রি হচ্ছে ১০-১৫ টাকায়। আলুর কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৫ টাকা।

এদিকে, আমদানি করা আদা কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা। আর দেশি আদার কেজি বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকা। দেশি পেঁয়াজের কেজি গত সপ্তাহের মতো ৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া শুকনা মরিচ প্রতিকেজি ১৫০ থেকে ২৫০ টাকা, হলুদ ১৬০ টাকা থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চিনি প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ৭৫ টাকা। এছাড়াও প্যাকেটকৃত চিনি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭৮ থেকে ৮০ টাকায়।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, মাছের দাম গত সপ্তাহের চেয়ে বেশি। তেলাপিয়া মাছ বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা কেজিতে, যা আগে ছিল ১২০ থেকে ১৩০ টাকা। রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ২৩০ থেকে ২৮০ টাকা কেজি, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ২০০ থেকে ২৫০ টাকার মধ্যে। মৃগেল মাছ বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২২০ টাকা কেজি, যা আগে ছিল ১৬০ থেকে ১৮০ টাকার মধ্যে। পাবদা মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। রূপচাঁদা মাছ বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৮৫০ টাকায়।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারে অধিকাংশ পণ্যের দাম বাড়লেও কিছুটা কমেছে ব্রয়লার মুরগির দাম। বন্দরবাজারের লালবাজারে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৫০ টাকা কেজি। এদিকে, ব্রয়লার মুরগির দাম কমলেও অপরিবর্তিত রয়েছে পাকিস্তানি কক বা সোনালী মুরগি এবং লাল লেয়ার মুরগি। লেয়ার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৩০ থেকে ২৪০ টাকা। আর সোনালী মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২৩০ টাকা।

এছাড়া ব্রয়লার মুরগী ডিম বিক্রি হচ্ছে প্রতি ডজন ১০৮ থেকে ১১০ টাকা। হাঁসের ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে এখন ১৫০ থেকে ১৬৫ টাকা। সোনালি (কক) মুরগির ডিমের ডজন ১৫০ টাকা।

এসব বাজারে অপরিবর্তিত রয়েছে গরু ও খাসির গোশত। বাজারে প্রতিকেজি খাসির গোশত বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা, ও গরুর গোশত বিক্রি হচ্ছে ৬০০ টাকা।

 

চাল ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে প্রতি কেজি চালের দাম বেড়েছে ৪-৫ টাকা। বিআর-২৮ চাল বিক্রি হচ্ছে ৫০-৫২ টাকা। গত সপ্তাহে এই চালের দাম ছিল ৪৬ থেকে ৪৮ টাকা। বাজারে এখন মিনিকেট বিক্রি হচ্ছে ৬০-৬২ টাকা, গত সপ্তাহে এই চালের দাম ছিল ৫৮ টাকা থেকে ৬০ টাকা কেজি। এখন পাইজাম চাল বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৫০ টাকা। গত সপ্তাহে এই চালের দাম ছিল ৪৮ টাকা কেজি। বাজারে নাজিরশাইল চাল বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা গত সপ্তাহে এই চালের দাম ছিল ৬৭ কেজি।

এদিকে ভোজ্যতেল পরিশোধন ও বিপণনকারীদের সংগঠন বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৪ টাকা কমানোর ঘোষণা দেয়া হলেও খুচরা বাজারে তা এখনও কার্যকর হয়নি। আগের বাড়তি দামেই সয়াবিন তেল কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। নতুন মূল্য অনুযায়ী, বোতলের এক লিটার সয়াবিন তেল ১৪৯ টাকা এবং পাম সুপার এক লিটার ১০৮ টাকায় বিক্রি হওয়ার কথা। কিন্তুবিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বোতলের এক লিটার সয়াবিন তেল ১৫৩ টাকা বিক্রি হচ্ছে। আর পাম সুপারের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকায়।

তেলের দামের বিষয়ে বন্দরবাজারের ব্যবসায়ী মো. শিপলু বলেন, তেলের দাম কমানোর ঘোষণার কথা শুনেছি। কিন্তু নতুন দামের তেল এখনও আমরা পাইনি। নতুন দামের তেল এলে, তখন আমরাও দাম কমিয়ে বিক্রি করব।

এদিকে, সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, অসৎ ব্যবসায়ীদের একটি সিন্ডিকেট রয়েছে যারা সুযোগের অপেক্ষায় থাকেন। কোন সুযোগ পেলেই পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয় তারা। এবার কঠোর লকডাউন ও আসছে ঈদকে সুযোগ হিসেবে নিয়েছে। কিন্তু সারাদেশে লকডাউন থাকলেও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহন আওতামুক্ত রয়েছে। তাদের প্রশ্ন তাহলে কেন দাম বাড়বে? এছাড়া এসব পণ্যের কোন ঘাটতি নেই। দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় সব ধরনের পণ্যের যথেষ্ট মজুদ থাকা সত্বেও পণ্যের দাম বাড়লে তা কারসাজি ছাড়া আর কিছুই নয়।

এ বিষয়ে সিসিকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুনন্দা রায় বলেন, প্রতিদিনই সিলেটের বাজারগুলোতে অভিযান চালিয়ে জরিমানাও করা হচ্ছে। সিসিকের অভিযান সবসময় অব্যাহত আছে। আমরা যখন বাজারগুলোতে অভিযানে যাই তখন ক্রেতারা যদি বেশী দামে পণ্য কেনার অভিযোগ দেন, তখন আমরা আরও কঠোর হবো। এজন্য তিনি সবার সহযোগীতা কামনা করেন।


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১