বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ২৭ July ২০২১

তবু অসচেতন সাধারণ মানুষ


চরম আকার ধারণ করেছে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি। কিন্তু সংক্রমণ রোধে কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যেও চলছে মানুষের খামখেয়ালিপনা। পাড়া-মহল্লাগুলোতে পুলিশের সাথে চোর-পুলিশ খেলছে পণ্যের ক্রেতা-বিক্রেতারা। ঈদের ছুটি শেষে ঢাকায় ফিরতে ফেরিঘাটগুলোয় প্রতিদিনই সৃষ্টি হচ্ছে মানুষের উপচে পড়া ভিড়। আইন লঙ্ঘন করে শিল্পকারখানা খোলারও অভিযোগ আছে। অযথাই বাইরে বের হয়ে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা জরিমানা আদায়ের পরও রোধ করা যাচ্ছে না সাধারণ মানুষের অকারণ চলাচলকে। 

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে কঠোর লকডাউনের চতুর্থ দিনে রাস্তায় আগের চেয়ে মানুষের বেশি উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। নানা কারণেই বের হচ্ছে তারা। যানবাহনও কিছুটা বেড়েছে। গতকাল সোমবার সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে আগের মতোই কড়াকড়ি অবস্থানে ছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। মোড়ে মোড়ে বসে চেকপোস্ট। তবে এদিন যৌক্তিক কারণ দেখাতে না পারায় অনেককেই গুনতে হয়েছে জরিমানা। নগরীর শাহবাগ, ফার্মগেট, শ্যামলী, মহাখালী, তেজগাঁও, বিজয় সরণি, বাংলামোটর, মগবাজার ও রামপুরা এলাকায় এমন চিত্র দেখা গেছে।আবার পাড়া- মহল্লায় অবাধে চলছে কেনাবেচা। তবে পুলিশ দেখলেই ঝপাঝপ পড়তে থাকে দোকানে শাটার। পুলিশ চলে গেইে আগের অবস্থা। তবে দোকান খোলা রাখার বিষয়ে জীবন-জীবিকার কারন দেখিয়েছে বিক্রেতারা। গতকাল সকাল পৌনে ১০টয় ঢাকার মোহাম্মদপুরের শিয়া মসজিদ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সেখানে মুদি, মোবাইল বিল রিচার্জ, লন্ড্রি, ইলেকট্রনিক্সসহ বিভিন্ন পণ্যের বেশ কিছু দোকান খোলা। তবে বেশিরভাগ দোকানের শাটার আধখোলা। পুলিশ আসলে শাটার পুরো বন্ধ হয়ে যায়। মোহাম্মাদীয়া হাউজিং এলাকার মুদি দোকান নূরজাহান ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের মালিক শফিকুল আলম বলেন, পুলিশ এলে কিছু করার থাকে না। তারাতো কথা শুনতে চায় না। আমাদের দোকান নিত্যপণ্যের, কিন্তু তারা বন্ধ করতে বলে। আমাদের তো টিকতে হবে। মানুষেরও কেনাকাটার দরকার আছে।

মিরপুরের রূপনগর এলাকার মহল্লাগুলোতেও মোহাম্মদপুরের মতো প্রায় একই অবস্থা দেখা গেল। মোড়ে আড্ডা দিতে থাকা কমবয়সিদের জটলা থেকে টহল পুলিশ দেখলেই এক গ্রুপ আরেক গ্রুপকে শিস দিয়ে কিংবা ফোনে জানিয়ে দিচ্ছে পুলিশ আসার খবর। এরপর সুবিধামতো জায়গায় সরে যাচ্ছে তরুণ-যুবাদের দল। আবার পুলিশ চলে গেলেই হইহুল্লোড় করছে। তাদের বেশিরভাগের মুখে মাস্ক নেই।

রূপনগর থানার এসআই দেবরাজ চক্রবর্তী বলেন, সাধারণ মানুষ সচেতন না হলে আমরা বেশি কিছু করতে পারি না। স্থানীয় ছেলেরা আমাদের সাথে চোর-পুলিশ খেলছে। আমরা একদিকে গেলে তারা দৌড়ে অন্যদিকে গিয়ে চিল্লাচিল্লি করে। যেন আমাদের পাগল পেয়েছে। তারপরও আমরা মাথা ঠান্ডা রেখে ডিউটি করার চেষ্টা করছি।

এদিকে ঈদ শেষে সোমবার সকাল থেকে পাটুরিয়া ও আরিচা ঘাটে কর্মস্থলে রাজধানী ঢাকামুখী যাত্রীদের ভিড় দেখা গেছে। তবে চলমান লকডাউনে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় ঈদের ছুটি শেষে যাত্রীরা চার গুণ ভাড়া বেশি দিয়ে কর্মস্থলে ফিরছেন।  দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলার মানুষ ঢাকায় ফিরে যাচ্ছেন সকাল থেকেই। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যাত্রী চাপ বাড়ছে। এ নৌরুটে চলাচল ২২টি লঞ্চ দিয়ে যাত্রী পারাপার করা হতো। কিন্তু লকডাউনের কারণে লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীরা ফেরিতে নদী পারাপার করছেন। তবে কর্মস্থলে ফেরা যাত্রীরা পরিবার-পরিজন নিয়ে পাটুরিয়া ঘাটে এসে বিপাকে পড়েন। দূরপাল্লার বাস বন্ধ থাকায় অনেকে ঘাটে অপেক্ষায় থেকে যানবাহন না পেয়ে ৭-৮কিলোমিটার পায়ে হেঁটে উথলী, টেপড়া, বরংগাইলসহ বিভিন্ন স্টেশনে এসে হ্যালোবাইক, অটোরিকশা, ভ্যান, সিএনজি ও প্রাইভেটটার, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনে ভেঙে ভেঙে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে ঢাকায় যান।

এদিকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে শিল্পকারখানা খোলার প্রমাণ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। গতকাল সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। করোনাভাইরাস সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে গত ২৩ জুলাই থেকে কঠোর বিধিনিষেধ শুরু হয়েছে। এই বিধিনিষেধ থাকবে আগামী ৫ আগস্ট মধ্যরাত পর্যন্ত।

খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াকরণের সঙ্গে যুক্ত মিল-কারখানা; কোরবানির পশুর চামড়া পরিবহন, সংরক্ষণ এবং ওষুধ শিল্পকারখানা বাদে সব শিল্পকারখানা, সরকারি-বেসরকারি অফিস বিধিনিষেধে বন্ধ থাকার কথা। বিধিনিষেধের মধ্যেও অনেকে শিল্পকারখানা চালু রেখেছেন-এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কেউ খুলে থাকলে তা পর্যবেক্ষণ করছি, কারা খুলছে? যদি খুলে থাকে, প্রমাণ পাওয়া যায়, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি বলেন, বর্তমানে কঠোর বিধিনিষেধের কোনো বিকল্প নেই। করোনা যেভাবে ছড়িয়ে গেছে, সে বিষয় নিয়ে আজ ক্যাবিনেটে আলোচনা হয়েছে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে কঠোর লকডাউনের চতুর্থ দিনে গতকাল সোমবার রাস্তায় আগের চেয়ে মানুষের বেশি উপস্থিতি দেখা গেছে। নানা কারণেই বের হন তারা। যানবাহনও কিছুটা বেড়েছে। তবে সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে আগের মতোই কড়াকড়ি অবস্থানে ছিল  আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। মোড়ে মোড়ে বসেছে চেকপোস্ট। তবে এদিন যৌক্তিক কারণ দেখাতে না পারায় অনেককেই গুনতে হয়েছে জরিমানা। নগরীর শাহবাগ, ফার্মগেট, শ্যামলী, মহাখালী, তেজগাঁও, বিজয় সরণি, বাংলামোটর, মগবাজার ও রামপুরা এলাকায় এমন চিত্র দেখা গেছে।

দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা জানিয়েছেন, সকালের পর থেকে মানুষের চলাচল বেড়েছে। অনেকেই কাজের জন্য বের হচ্ছেন বলে জানাচ্ছেন। কারণ দেখাতে না পারলে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কয়েকটি চেকপোস্টে বেশ কয়েকজনকে জরিমানা করার তথ্য দিয়েছেন ওইসব স্থানের পুলিশ সদস্যরা।

এরআগে বিনা প্রয়োজনে বাইরে বের হওয়া এবং স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ না করায় গত রোববার রাজধানী ঢাকায় ৫৮৭ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ২৩৩ জনকে এক লাখ ৯৫০ টাকা জরিমানা করেছেন পুলিশের ভ্রাম্যমাণ আদালত। ৫২১টি গাড়িকে জরিমানা করা হয়েছে ১২ লাখ ৭২ হাজার টাকা। সারাদেশে র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয় ২৬টি। এসব আদালত ১৮৯ জনকে এক লাখ ৬৮ হাজার ৫০ টাকা জরিমানা করেছেন।

করোনা পরিস্থিতিতে গত পহেলা জুলাই থেকে ৭ জুলাই কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে সরকার। এরপর তা ১৪ জুলাই পর্যন্ত বাড়ানো হয়। ঈদের কারণে ৮ দিন লকডাউন তুলে নিয়ে আবার ২৩ জুলাই থেকে কার্যকর করা হয়। এই লকডাউন চলবে আগামী ৫ আগস্ট পর্যন্ত।


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১