আপডেট : ০৭ August ২০২১
করোনাভাইরাসের বিস্তাররোধে দেওয়া লকডাউনে গতকাল শুক্রবার রাজধানীর সড়কগুলোতে যানবাহনের চাপ কম থাকলেও বাজারে ছিল উপচেপড়া ভিড়। এদিকে ফেরিঘাটগুলোতে অব্যাহত আছে ঢাকামুখী মানুষের চাপ। আবার অফিস-কলকারখানা খুলে দিয়ে কঠোর লকডাউন দেওয়ার এর সমালোচনা করেছেন সাধারণ মানুষ। লকডাউনের পঞ্চদশ দিনে ঢাকার প্রধান সড়কগুলোতে গত কয়েকদিনের তুলনায় প্রাইভেট কারসহ পণ্যবাহী কাভার্ডভ্যান কম দেখা গেছে। তবে অলিগলিতে ছিল প্রচুর রিকশা। সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় কাঁচাবাজারগুলোতেও ছিল ক্রেতাদের ভিড়। শুক্রবার রাজধানীর রামপুরা, মালিবাগ, মৌচাক, শান্তিনগর, কাকরাইল, মগবাজার, কাওরানবাজার, ফার্মগেট, ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, সাত মসজিদ রোড, হাজারীবাগ ঘুরে এরকম দৃশ্যই দেখা গেছে। লকডাউনে শুরুর দিকে মানুষ বাইরে কম বের হলেও এখন বিভিন্ন প্রয়োজনে রাস্তায় নামছেন। তল্লাশি চৌকিগুলোতেও পুলিশের তৎপরতাও কমে গেছে। ছুটির দিনে বাজার এলাকাগুলোতে মানুষের বেশ ভিড় দেখা গেছে। সকাল থেকেই নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে বেরিয়েছিল অনেকে। লালবাগ নবাবগঞ্জ বাজারের মুদি ব্যবসায়ী খালেক মিয়া বললেন, গত শুক্রবারের চেয়ে আজ (গতকাল) বাজারে ভিড় বেশি ছিল, দোকানে কেনাকাটায় চাপও বেশি ছিল। আশিকুর রহমান নামে এক ক্রেতা বললেন, শুক্রবার ছাড়া অন্য দিনে সময় পাওয়া যায় না, তাই বাজার করতে আসা। লকডাউনের প্রথম দিকে অলি-গলিতে ভ্যানে করে সবজি বিক্রি হতো প্রচুর। এখন বাজারে ভিড় বাড়ায় ভ্যানের বিক্রি কমে গেছে বলে জানালেন সুলায়মান নামের এক বিক্রেতা। তিনি বলেন, আগে করোনার ভয়ে অনেক সাহেব-বিবি সাহেবরা কাঁচাবাজারে যাইতেন না। এখন ওই ভয় কইমা গেছে। আমাগো কপাল পুড়ছে। এখন বিক্রি কম। রাজধানীর চেকপোস্টগুলোতেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঢিলেঢালা ভাব দেখা গেছে। রামপুরা চেকপোস্টে কিছু পুলিশ সদস্য থাকলেও সব গাড়ি কোনো ধরনের বাধা ছাড়াই বেরিয়ে যেতে দেখা যায়। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, গত ২৩ জুলাই থেকে শুরু হওয়া কঠোর বিধিনিষেধ গত বৃহস্পতিবার শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে সংক্রমণ ও মৃত্যু না কমায় বিধিনিষেধের সময়সীমা আরো পাঁচদিন বাড়ানো হয়েছে। তবে লকডাউন যেভাবে হচ্ছে, তা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন কর্মজীবী নাগরিকরা। সুমাইয়া নামে এক কর্মজীবী নারী বলেন, অফিস-টফিস, কলকারখানা খুলে দিয়ে বলা হচ্ছে লকডাউনে বাসায় থাকুন। এটা কেমন লকডাউন আমি বুঝি না। আমার কাছে মনে হচ্ছে, কোথাও গলদ আছে। সংক্রমণ রোধ করতে হলে অবশ্যই কঠোর লকডাউন এবং মানুষের জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। একটা করবেন, আরেকটা করবেন না এটা হয় না। শিমুলিয়াঘাটে ঢাকামুখী কয়েকজন যাত্রীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রয়োজন ও কর্মস্থলে যোগ দিতেই চরম ভোগান্তিকে সঙ্গী করে ঢাকা ফিরছেন তারা। আলী আহমেদ নামের এক যাত্রী বলেন, লকডাউন বেড়েছে। কিন্তু আমরা তো কাজ করে খাই। কয়দিন আর বসে থাকা যায়। নীরব বেপারি নামের আরেক যাত্রী বলেন, দোকানদারি করে জীবন চালাই। বারবার লকডাউনের সময় বাড়ালেও তো আমাদের বসে থাকলে চলে না। ঢাকায় গিয়ে দোকানপাট খুলতে হবে। তাই যাচ্ছি। এদিকে শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌরুটে গতকাল উপচেপড়া ভিড় ছিল ঢাকামুখী যাত্রী ও যানবাহনের। বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে ফেরিতে পার হয় শত শত যাত্রী। তবে দক্ষিণবঙ্গগামী যাত্রীদের চেয়ে ঢাকামুখী যাত্রীদের চাপ বেশি ছিল। বিআইডব্লিউটিসি শিমুলিয়াঘাটের ব্যবস্থাপক মো. ফয়সাল বলেন, সকাল থেকে দুই ঘাটে উভয়মুখী যানবাহনের চাপ রয়েছে। শিমুলিয়াঘাটে দক্ষিণবঙ্গগামী তিন শতাধিক ও বাংলাবাজারঘাটে ঢাকামুখী পাঁচ শতাধিক যানবাহন পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে। ফেরির সংখ্যা কম আর বাড়তি গাড়ির চাপে পারাপারে বেগ পেতে হচ্ছে। ব্যক্তিগত গাড়ি পারাপারে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও সবাই জরুরি প্রয়োজনের কথা বলছে, তাই যেতে দেওয়া হচ্ছে।
Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.
বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com
অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com
ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১