আপডেট : ০৮ August ২০২১
গণপরিবহন রাস্তায় নামানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন গণপরিবহন মালিক-শ্রমিকসহ সংশ্লিষ্টরা, যদিও বিআরটিএ’র পক্ষ থেকে এখনো কিছু জানানো হয়নি পরিবহন মালিকদের। তবে রেল কর্তৃপক্ষ অনলাইনে টিকিট বিক্রিসহ যাবতীয় প্রস্তুতি নিয়েছে। আর সীমিত পরিসরে লঞ্চ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হলেও স্বাস্থ্যবিধি মেনেই লঞ্চ চালাতে হবে বলে জানিয়েছেন নৌ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। এরই মধ্যে ঘোষণা করা হয়েছে ১০ আগস্টে শেষ হচ্ছে চলমান লকডাউন। এরপর বিধিনিষেধ আর বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই। তাই পরদিন ১১ আগস্ট থেকে ‘সীমিত পরিসরে’ গণপরিবহন চলাচলের কথাও জানানো হয়েছে। জানা গেছে, চলমান বিধিনিষেধ শেষ হওয়ার আগেই পরবর্তী প্রজ্ঞাপন জারি করবে সরকার। সেটার ওপর ভিত্তি করেই মাঠে নামবে গণপরিবহন। গত ৩ আগস্ট বিধিনিষেধ সংক্রান্ত এক বৈঠকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেছিলেন, করোনার প্রকোপ ঠেকাতে কঠোর বিধিনিষেধ আগামী ১০ আগস্ট পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। পরদিন ১১ আগস্ট থেকে দেশের সকল দোকানপাট, অফিস-আদালত খুলে দেওয়া হবে। সেইসঙ্গে সীমিত পরিসরে চলবে গণপরিবহনও। গণপরিবহন চলাচলের উদাহরণ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, মনে করেন গাজীপুর থেকে প্রতিদিন ঢাকায় ১০০ গাড়ি আসে। ১০০ না, ৩০টি আসুক বা ৫০টি আসুক। আজ এগুলো যাবে, কাল অন্যগুলো যাবে। এ রকম তারা নির্ধারণ করে দেবে। তিনি বলেন, লঞ্চ, স্টিমার আছে, রেল আছে, সেগুলোও চলবে। সব যে পরিমাণে অতীতে চলছিল, সে পরিমাণ না চলে সীমিত আকারে চলবে। কর্তৃপক্ষ সেগুলো নির্ধারণ করে জনগণকে অবহিত করবে। যেমন রেল হয়তো ১০টা চলত, এখন ৫টা চলবে। কোন কোন সময় কোনটা ছাড়বে এবং কীভাবে যাবে, এগুলো নিজ নিজ মন্ত্রণালয় ও ডিপার্টমেন্ট জনগণকে অবহিত করবে, যাতে কোনো গ্যাপ না থাকে। মন্ত্রীর এই ঘোষণার পর যানবাহর চলাচলের প্রস্তুতি নিতে থাকেন পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা। গতকাল শনিবার সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, সারিবদ্ধভাবে রাখা আছে অসংখ্য বাস। এসব বাসে চলছে ধোয়ামোছার কাজ। দীর্ঘ সময় চলাচল না করতে পারায় বেশ কিছু বাসের নানাবিধ যান্ত্রিক সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। সাদুল্লা মিয়া নামে বলাকা পরিবহনের এক চালক জানান, লকডাউনের কারণে বাস বন্ধ থাকায় ইঞ্জিনে কিছু সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। সরকার যেহেতু বলেছে আগামী ১১ আগস্ট থেকে সীমিত পরিসরে বাস চলবে তাই হেলপারকে নিয়ে গাড়ি ধোয়ামোছার কাজ করতে এসেছি। তবে অনেকদিন বাস না চলাতে ইঞ্জিনে কিছু সমস্যা হচ্ছে। মিস্ত্রি ডেকে এসব ঠিক করা হবে। এছাড়া কোনোটিতে চলছে রঙের কাজ, কোনোটির ইঞ্জিনের, কোনোটির বা ভেতরে সিটের কাজ। এসব বাসের শ্রমিকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, লকডাউনের কারণে তাদের অনেকেই গ্রামের বাড়িতে চলে গিয়েছিলেন। গত শুক্রবার বাসের মালিকরা তাদের ডেকে আনেন। তারা এখন ১১ তারিখে বাস চলাচলের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে লকডাউনে বাস বন্ধ থাকলেও পরিবহন শ্রমিকদের সবাই গ্রামের বাড়িতে যেতে পারেননি। বাসের নিরাপত্তার জন্য প্রতিটি বাসেই এক বা একাধিক শ্রমিক রয়ে গেছেন। তাদের প্রতিদিনের খোরাকি (খাবার খরচ) দিচ্ছেন বাস মালিক। সুলতান নামে এক বাসশ্রমিক জানান, লকডাউনে কোনো কাজ না থাকলেও তাকে টার্মিনালে বাসের মধ্যে থাকতে হয়েছে। এখানেই অন্য বাসের হেলপারদের সাথে চুলায় রান্না করে খাচ্ছেন তারা। বাসমালিক দৈনিক খোরাকি বাবদ ১০০ টাকা করে দিচ্ছেন বলে জানান তিনি। ১১ আগস্ট থেকে বাস চলাচলের বিষয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ বলেন, এই মুহূর্তে কিছুই বলতে পারছি না। সরকারের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেব। বিআরটিএও আগাম কিছু জানায় না। তবে ৩ আগস্ট মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী বলেছিলেন ১১ আগস্ট থেকে সীমিত পরিসরে গণপরিবহন চলবে। চলাচলের প্রস্তুতি নিচ্ছেন লঞ্চমালিকরাও। সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে কোনো লঞ্চ না থাকলেও কেরানীঞ্জ ও জিঞ্জিরার অদূরে বিভিন্ন ডকইয়ার্ডে দেখা গেছে বেশ কিছু লঞ্চ মেরামতের কাজ চলছে। শিহাব সরদারনামে এক লঞ্চশ্রমিক জানান, ১১ আগস্ট থেকে লঞ্চ চলবে বলে তাদের জানিয়েছেন মালিক পক্ষ থেকে। এজন্য গ্রামের বাড়িতে চলে যাওয়া শ্রমিকদেরও ডেকে পাঠানো হয়েছে। বেশ কিছু দিন লঞ্চ বন্ধ থাকায় এখন সেগুলো পরিষ্কারের কাজ করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন পর আবার লঞ্চ চলবে জানতে পেরে সবাই খুব খুশি বলে জানান তিনি। লঞ্চ চলাচলের বিষয়ে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ১০ তারিখের পর বিধিনিষেধ শিথিল হবে। ধারণা করা হচ্ছে পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত হবে। আমরা যদি নৌযান চলাচলের অনুমতি দেই, তবে স্বাস্থ্যবিধি পুরোপুরি মানতে হবে। তিনি আরো বলেন, এখানে বিশেষজ্ঞদের মতামত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মতামতের ভিত্তিতেই পাঁচ দিন লকডাউন বাড়িয়েছি। ১১ আগস্ট থেকে সীমিত পরিসরে চলাচলের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন এ প্রসঙ্গে বলেন, আগামী ১১ আগস্ট থেকে গণপরিবহন সীমিত আকারে চলবে। সেই হিসেবে ৩৮টি আন্তঃনগর ট্রেন এবং ১৯ টি কমিউটার ট্রেন চালানোর প্রস্তুতি রয়েছে। প্রস্তুতি অনুযায়ী প্রতিটি ট্রেনের টিকিট অনলাইনে বিক্রি করা হবে এবং ট্রেনের অর্ধেক আসন ফাঁকা রেখেই চলাচল করবে। মন্ত্রী বলেন, ঈদুল আজহার আগের মতো টিকিট কাউন্টারে কোনও বিক্রি করা হবে না। ট্রেনের সবধরনের স্বাস্থ্যবিধি পরিপালন করা হবে। এদিকে করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকানোর লকডাউনে শনিবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ছুটির দিন শুক্রবারের চেয়ে রাস্তায় ভিড় ছিল বেশি। বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, রাস্তায় গড়ি চাপ গত কয়েকদিনের মতোই বেশি। পাড়া মহল্লার দোকানপাটও স্বাভাবিক সময়ের মতো খোলা। ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, সাত মসজিদ রোড, আদাবর, শিয়া মসজিদ এলাকায় রিকশা ও ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচল বেশ বেড়েছে। ফকিরেরপুল, আরামবাগের মোড়ে মোড়ে অনেক মানুষজনের উপস্থিতিও দেখা গেছে। কেউ এসেছেন বাজার করতে, কেউবা অফিস যাচ্ছেন। সাধারণ মানুষের চলাফেরা প্রায় স্বাভাবিক পরিস্থিতির মতো হয়ে গেছে। প্রধান সড়কে শুধু গণপরিবহন ছাড়া প্রায় সব গাড়ির চলাচলে বোঝাই যাচ্ছে না দেশে লকডাউন চলছে। করোনাভাইরাস মহামারির দেড় বছরে এখনই সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা পার করছে বাংলাদেশে। পরিস্থিতি সামাল দিতে গত ১ জুলাই দেশে লকডাউন জারি করা হলেও বিশেষজ্ঞদের মতামত উপেক্ষা করে কোরবানির ঈদের সময় নয় দিন তা শিথিল করা হয়েছিল। ঈদের ছুটির পর ২৩ জুলাই থেকে আবার লকডাউন শুরু হলেও এর মধ্যে দৈনিক সংক্রমণ ও মৃত্যুর নতুন রেকর্ড হয়েছে। চলমান এই লকডাউন আগামী ১০ আগস্ট পর্যন্ত বাড়িয়েছে সরকার। তবে দিন যত যাচ্ছে, রাস্তাঘাটে মানুষও তত বাড়ছে, জীবিকার তাগিদে মানুষ আর বিধিনিষেধ মানতে চাইছে না।
Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.
বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com
অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com
ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১