বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ১০ August ২০২১

হিজরি নববর্ষ ১৪৪৩ : শিক্ষার্থীদের ভাবনা


নতুন বছরে উন্মোচিত হোক নতুন দিগন্ত

মো. হুসাইন আহমদ

 

শিক্ষার্থী [ইসলামী আইন ও গবেষণা বিভাগ], দারুস-সুন্নাহ মাদরাসা, টাংগাইল

 

দেখতে দেখতে একটি বছর শেষ হয়ে এলো। শুরু হবে নতুন আরেকটি বছর। এই চলে যাওয়া বছরটি একাই যায়নি, সাথে করে নিয়ে গেছে অনেক কিছুই৷ যা আর কখনো এই পৃথিবীর আলো-বাতাসে ফিরে আসবে না। ১৪৪৩ হিজরির প্রথম সূর্যোদয় যাদের ওপর হবে, বছর শেষ হতে হতে তাদের অনেকের সময় ফুরিয়ে যাবে। ১৪৪৪ হিজরির সূর্যোদয় হয়তো তাদের আর দেখার সুযোগ নাও হতে পারে। কী অমোঘ সত্য! যা ভুলে থাকা যায়, কিন্তু অতিক্রম করা যায় না। তবে দিন-রাতের গমনাগমন, সকাল-দুপুর-বিকেলের প্রাকৃতিক এই পরিবর্তন, সপ্তাহ-মাস-বছরের এই চক্রাকার আবর্তন-সব কিছুই বারবার মানুষকে বলে যায় তার বেলা ফুরোবার কথা। আমাদের দেহ-মনের পরিবর্তন আমাদেরকে বার্তা দিয়ে যায়। আমাদের প্রিয়জনদের চলে যাওয়াও আমাদেরকে বার্তা দিয়ে যায়। আমাদেরও বেলা ফুরোবার কথা।

 

এজন্য আমাদেরকে মনে রাখা উচিত, মানুষের সময়টাই মূলত জীবন। আর এর ওপরই নির্ভরশীল আখেরাতের চিরস্থায়ী জীবন। যে সময়টা আল্লাহর স্মরণ ও তার রাহে ব্যয় হয়, সেটাই মানুষের সফল জীবন। তাছাড়া অন্য সময়গুলোকে জীবনের মধ্যে গণ্য করা অর্থহীন। যে যত দীর্ঘ জীবনের অধিকারী হোক না কেন! তার এই জীবন পশুর জীবন বলে বিবেচিত হবে, যদি তার সময় উদাসীনতা, মনোবৃত্তি পূরণ ও মিথ্যা কামনায় কেটে যায়। যদি জীবনের শ্রেষ্ঠ মুহূর্তগুলো ঘুম ও অর্থহীন কাজে বলি হয়ে যায়। তাই নতুন বছরে আমলের উন্নতি করা। নতুন বছরে বিগত বছরের ঘটে যাওয়া ভুল-ভ্রান্তির জন্য মহান আল্লাহর দরবারে কান্নাকাটি করা এবং নতুন বছরে বিগত বছরের সেই গুনাহগুলো যেন পুনরাবৃত্তি না হয়, সেই চেষ্টা করা। অতএব, আমরা নতুন বছরে মহান সৃষ্টিকর্তার ডাকে সাড়া দেই৷ সব মোহ-মায়া, বিরাগ-অনুরাগ, দর্পন-অহংকার পুরনো কাপড়ের মতো ছুঁড়ে ফেলি। এক মহান আল্লাহর প্রতি সমর্পিত হই। তার বাণীকে সত্য বলে মেনে নেই। তাকওয়ার নতুন লেবাসে নিজেদেরকে সুসজ্জিত করি। আর এই নতুন বছরে আমাদের সবার জীবনেই উন্মোচিত হোক (আলোকিত) জীবনের নতুন দিগন্ত।

 

 

নতুন বছর হোক স্বপ্ন পূরণের আরেকটি সুযোগ

মো. ইউসুফ হযরত

শিক্ষার্থী [দাওরায়ে হাদিস], দারুস-সুন্নাহ মাদরাসা, টাংগাইল

 

একটি নতুন সূর্য, একটি নতুন সম্ভাবনা। প্রতিটি সকালই নতুন নতুন কাজের বিপুল উৎসাহ নিয়ে আসে। বিগত দিনের ক্ষতি পূরণের সুযোগ তৈরি করে। অসঙ্গতি অপূর্ণতা কাটিয়ে উঠার সুবর্ণ সুযোগ নিয়ে আসে প্রতিটি নতুন ভোর। নববর্ষও তেমন একটি নতুন ভোর, নতুন সূর্য। বিগত বছরের অপূর্ণতা কাটিয়ে উঠার এবং পুরো উদ্যমে কাজ শুরু করার আরেকটি সুযোগ এনে দেয় এই নববর্ষ। তারুণ্যের কাছে নবদিন, নববর্ষ মানে তার স্বপ্ন পূরণের আরো একটি সুযোগ। আমাদের সংক্ষিপ্ত জীবনের প্রতিটি  সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বা মূল্যবান। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র এই সময়ের সমষ্টিই আমাদের জীবন। জীবন গঠনের মূল উৎসই হলো সময়৷ তাই আমাদের জীবন থেকে একটি মুহূর্ত অতিবাহিত হওয়া মানেই মূল্যবান কিছু হারিয়ে ফেলা। সে জন্য সময়কে কাজে লাগাতে হবে। নির্ধারিত সময় অতিক্রম করা মানেই একটু একটু করে মৃত্যুর কাছে পৌঁছে যাওয়া। বিগত বছর ১৪৪২ হিজরি আমাদের বিশাল ক্ষতিগ্রস্ত করে গেছে। করোনা, বন্যা, ক্ষুধার যন্ত্রণা, শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকা, সব মিলিয়ে এক অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেছে আমাদের। এসব ক্ষতি কাটিয়ে উঠার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে নতুন বছর ১৪৪৩ হিজরি শুরু করাই হোক আমাদের প্রতিজ্ঞা। তারুণ্যের উদ্দীপনাই পারে ক্ষতিগ্রস্ত পৃথিবীটাকে আবার নতুন করে সাজাতে, আরেকটা নতুন করে পৃথিবী গড়তে, সামাজিক অবকাঠামো পুনরুদ্ধার করতে। সে জন্য আমাদের চাই সময়ের কদর। প্রতিটি মুহূর্তকে দামি মনে করা। নিজেদের মধ্যে সময়ের মূল্যবোধ জাগ্রত করা।

 

অতএব, প্রতিটি সকালই নতুন নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত করে। এজন্য আমাদের চাই বিপুল পরিমাণ উৎসাহ।  চাই কাজের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ। অবসর সময়গুলো হোক আরো মূল্যবান। অবসরতায় যেন অলসতা না হয়। শিক্ষার্থীদের উচিৎ বিগত বছরের পড়াশোনার ঘাটতি পূরণে নতুন রুটিন তৈরি করা এবং পুরো উদ্যোমে নিয়মমাফিক সময়ের অনুসরণ করা। আমরা তরুণরা জেগে উঠলে পৃথিবী জেগে উঠবে। আমরাই পারব অসুস্থ পৃথিবীকে আবার সুস্থ করে তুলতে। শুধু প্রয়োজন অসাধ্য সাধনের দৃঢ় ইচ্ছা এবং পরিশ্রম করার দারুণ মনোবল। আল্লাহ আমাদের তাওফিক দান করুন। আমিন।

 

 

চ্যালেঞ্জ নিয়ে শুরু হোক নতুন বছর   

মো. নাজমুল ইসলাম

 

শিক্ষার্থী [ইসলামী আইন ও গবেষণা বিভাগ-ইফতা], দারুস-সুন্নাহ মাদরাসা, টাংগাইল

 

বছর ঘুরে চলে এলো নতুন বছর। আরবী বছর হওয়ায় আমরা অনেকেই জানি না যে নতুন বছর কখন শুরু হলো ও শেষ হলো। কিন্তু ইংরেজি নববর্ষকে পশ্চিমা বিশ্বের সাথে তালে তাল মিলিয়ে আমরাও উদযাপন করি। যাই হোক! নতুন বছরে নতুন কোনো কাজ, নতুন কিছু পরিকল্পনা করার সবারই একটা সুপ্ত ইচ্ছা থাকে। বিগত বছর সফলতা-ব্যর্থতা, হাসি-কান্নার সংমিশ্রণে পার হয়ে এসে, সবারই আশা থাকে নতুন বছরে ভালো কিছু করার ও হওয়ার। তবুও জীবনের এই নিয়মে উত্থানপতন অনিবার্য। ১৪৪৩ হিজরি সন মুসলিম উম্মাহ, দেশ ও মানুষের জন্য যেন উন্নতির দৃষ্টান্তস্বরূপ হয়, সর্বোপরি অন্যায়, অবিচার, সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত একটা সমৃদ্ধশালী উন্নয়নশীল সমাজ ও জাতি গঠিত হয়, সবার এটাই প্রত্যাশা।

 

তাই নতুনকে নতুন করে গ্রহণ করার চ্যালেঞ্জ নিয়ে শুরু হোক ১৪৪৩ হিজরি নতুন বছর। আর জরাজীর্ণ অবস্থা কাটিয়ে গা-ঝাড়া দিক নতুন প্রজন্ম। দেশ ও সমাজে সৃষ্টি হোক সমপ্রীতির দৃষ্টান্ত। আর মুসলিম উম্মাহর মাঝে আরবী তথা হিজরি বছরের প্রসার ঘটুক। আল্লাহতায়ালা তাওফিক দান করেন। আমিন।

 

 

 

নতুন বছরে চাই স্বাভাবিক জীবনব্যবস্থা

আতিকুর রহমান হাশেমী

শিক্ষার্থী [ইসলামী আইন ও গবেষণা বিভাগ], গাজীপুর

 

নতুন বছর আসে নতুন আশা, স্বপ্ন আর প্রত্যাশা নিয়ে। করোনা মহামারির জন্য গত ইংরেজি ২০২০ সালের মার্চ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ ছিল। কয়েক মাস যাবত কওমি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও বন্ধ রাখার পর খুলে দেওয়া হয়। কিন্তু বর্তমান সেই করোনার জন্যই  স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদরাসাসহ সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। অনেক বড় একটা সময় শিক্ষার্থীরা বাসায় বসে আছে। যদিও অনলাইনে কিছুটা পাঠদান কার্যক্রম চলছে, তবুও শিক্ষার্থীরা অনেকটা পিছিয়ে পড়েছে। করোনায় অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই সেশনজট সৃষ্টি হয়েছে।

১৪৪৩ হিজরি নতুন বছরের সব শিক্ষার্থীদের আশার প্রত্যাশা হলো, ‘দ্রুতই স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে পরীক্ষা এবং ক্লাসগুলো সম্পন্ন করা হোক। যাতে শিক্ষার্থীরা একেবারেই পিছিয়ে না পড়ে৷ আশাকরি এবিষয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রশাসন নজর দিবে। করোনাভাইরাস সবার জীবনে একটা প্রভাব ফেলেছে। ভিন্ন ভিন্ন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে সবাই পার করেছে বিগত বছর। অনেকেই দীর্ঘ সময় ধরে মানসিক অবসাদেও ভুগছে। ইতিমধ্যে অনেক ক্যাম্পাসের কিছু শিক্ষার্থী আত্মহত্যার মতো জঘন্য পথ বেছে নিয়েছে। যা খুবই দুঃখজনক। এমন নেতিবাচক ঘটনা কখনোই কাম্য নয়। তাই দ্রুতই যেনো আগের মতো সাধারণ জীবনযাত্রায় ফিরতে পারে শিক্ষার্থীরা। এই নতুন বছরে চাই স্বাভাবিক জীবনব্যবস্থা।’

 

 

নতুন বছর মানেই নতুন কিছু শিখা

সোলাইমান বিন আবদুল মুত্তালিব

শিক্ষার্থী [মিশকাত], দারুস-সুন্নাহ মাদরাসা, টাংগাইল

 

নতুন কিছু মানেই নতুন কিছু করা, নতুন কিছু পাওয়া। আর নতুনত্ব থেকে শিক্ষণীয় বিষয়গুলো খুঁজে বের করে, শিক্ষার কোঠায় তা আবদ্ধ করে রাখা। প্রতিটি নতুনত্বের মাঝেই ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে শিক্ষার এমন কিছু  উপকরণ৷ যা মানুষকে মরীচিকার মতো হাত ছানিয়ে ডাকতে থাকে। তবে উপলব্ধির ধারণক্ষমতা কম বলেই অধিকাংশ মানুষ তা থেকে বঞ্চিত থাকে! নতুন পথের যাত্রী হয়ে পেছনের পথ ভুলে যাওয়া যেমন সমীচীন নয়, ঠিক তেমনই নতুন বছর নাগালে পেয়ে, পুরোনো বছরটি ভুলে যাওয়াটা মোটেও ঠিক নয়। কারণ সামনের দিনগুলো থেকে শিক্ষাগ্রহণ করার জন্য পেছনের দিনগুলোতে রয়েছে শিক্ষার যথেষ্ট উপকরণ।

তাই হিজরি ১৪৪৩ নতুন বছর পেয়ে খুশিতে আত্মহারা না হয়ে পেছনের দিনগুলোতে চোখ বুলিয়ে দেখা উচিত যে, কত অন্যায়-অবিচার, জুলুম-নির্যাতন আর অপকর্ম সম্পাদিত হয়েছে আমার দ্বারা। হিসাবের খাতাটা একটি বার হলেও চুকিয়ে দেখা দরকার। বিগত বছরের কতগুলো দিন আমার সৎকর্মে আর কতগুলো দিন অন্যায়ের বেড়াজালে আবদ্ধ হয়ে কেটেছে। হিসাব না চুকে যেমন ব্যবসায় লভ্যাংশ খুঁজে পাওয়া যায় না। ঠিক তেমনি নতুন-পুরান আর ভালো-মন্দ উলোট-পালোট না করে দেখলে উন্নতি-অবনতিরও বোধগম্য হয় না। বিজ্ঞদের ভাষায় বলতে হয়, মানবকুলের মধ্যে সর্বনিকৃষ্ট সেই ব্যক্তি, যার গতকালের তুলনায় আজকের দিনটি অধিক ক্ষতিগ্রস্ত। প্রতিদিনই আমাদের এমন কিছু শিখা ও করা উচিত। যা আমাদের জীবনে সুফল বয়ে আনবে। যা আমাদের উভয় জাহানে কল্যাণকর হবে। পরিশেষে বলি- গতকালের তুলনায় আজ মোরা বিজ্ঞ। আর আগামীকালের তুলনায় আজ মোরা অজ্ঞ। আল্লাহতায়ালা হিজরি নতুন বছরের প্রতিটি সময়কে কাজে লাগানোর তাওফিক দান করুন। আমিন। 


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১