আপডেট : ১০ August ২০২১
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় গত ১৫ দিনের ব্যবধানে চারটি বাল্যবিয়ে বন্ধ করেছে উপজেলা প্রশাসন। বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষা পাওয়া চারজনই ৫ম শ্রেণি থেকে ৮ম শ্রেণির স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থী। বিয়ে বন্ধের পাশাপাশি লকডাউন অমান্য করা এবং বাল্যবিয়ের আয়োজন করায় কনে পক্ষকে বিভিন্ন অংকে জরিমানা ও মুচলেকা আদায় করা হয়। এরমধ্যে পৌর শহরের বড় বাজার এলাকায় ১টি, উপজেলার ধরখারের নুরপুর ১টি ,রুটি ১টি ও মোগড়া ইউনিয়নের নয়াদিল গ্রামে ১টি রয়েছে। সর্বশেষ আজ মঙ্গলবার দুপুরে পৌর শহরের বড় বাজার এলাকায় ৫ম শ্রেণি পড়ুয়া এক স্কুল ছাত্রীর বাল্য বিবাহের আয়োজন চলাকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুমানা আক্তার উপস্থিত হয়ে এ বিয়ে বন্ধ করেন। এসময় কনে পক্ষ বাল্য বিয়ের আয়োজন করায় তাকে ১ হাজার টাকা জরিমানা করে ভ্রাম্যমান আদালত। কনে পৌর শহরের নাছরিন নবী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির ছাত্রী। তবে পারিবারিক সমস্যা থাকায় তার পড়াশুনা বন্ধ আছে। জানা গেছে, পৌর শহরের বড় এলাকার মো. নয়ন মিয়ার মেয়ের সাথে রাধানগর এলাকার বাসিন্দা আবু বক্করের ছেলে ছেলে মো. সোহেল মিয়ার সাথে বিয়ে ঠিক করা হয়। মঙ্গলবার বিয়ের তারিখ হওয়ায় কনের বাড়িতে চলে বিয়ের আয়োজন। কনের আত্মীয় স্বজনরা সবাই বাড়িতে উপস্থিত হয়। বর কনের বাড়িতে আসার আগ মুর্হুত খবর পেয়ে পুলিশ নিয়ে দ্রুত কনের বাড়িতে হাজির হন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী কর্মকর্তা। পরে এলাকার গণ্যমান্য ব্যাক্তিদের উপস্থিতিতে কনের জন্মনিবন্ধন যাচাই করে বয়স না হওয়ায় এ বিয়ে বন্ধ করে দেন। কনের সঠিক বয়স না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে দিবেন না বলে মুচলেকা দেন কনের অভিভাবক। এসময় বাল্য বিয়ের আয়োজন করায় ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে মেয়ের বাবাকে ১ হাজার টাকা জরিমানা করা করা। এর আগের দিন উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের নূরপুর গ্রামের সোলাইমান মিয়ার মেয়ের সঙ্গে মনিয়ন্দ ইউনিয়নের খারকোট গ্রামের সানু মিয়া ছেলে শাহীনের (২৬) বিয়ে দিন ধার্য ছিল। বিয়ের সকল কার্যক্রম সম্পন্ন করে বরের জন্য অপেক্ষা করছিল কনেপক্ষ। গোপন সংবাদে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কনের পিত্রালয়ে বাড়িতে হাজির হন। পরে যাচাই-বাছাই করে কনের বিয়ের উপযুক্ত বয়স না হওয়ায় কনে পক্ষকে বুঝিয়ে বিয়ে ভেঙে দেন। কনে রুটি আব্দুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণীর ছাত্রী । বাল্যবিয়ের আয়োজন করায় কনের মা মনিহা বেগমকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়াও কনের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে দেবে না মর্মে মায়ের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়। গত ৩০ জুলাই উপজেলার মোগড়া ইউনিয়নের নয়াদিল গ্রামে ৬ষ্ঠ শ্রেণী পড়ুয়া স্কুল শিক্ষার্থীর বাল্য বিয়ে বন্ধ করা হয়। এসময় কনে পক্ষকে বাল্য বিয়ে আয়োজন করায় ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ওই কিশোরী মোগড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী (১৩) ছিল। কনের সঠিক বয়স না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে দিবেন না বলে মুচলেকা দেন করেন তার অভিভাবক। এসময় বাল্য বিয়ের আয়োজন করায় ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে মেয়ের বাবাকে ২হাজার টাকা জরিমানা করা করা। গত ২৬ জুলাই উপজেলার ধরখার ইউনিয়নে রুটি গ্রামে ৮ম শ্রেণি এক শিক্ষার্থীর বাল্য বিয়ে বন্ধ করে উপজেলা প্রশাসন। এসময় কনে পক্ষকে বাল্য বিয়ে আয়োজন করায় ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আক্তার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে স্কুল-কলেজ বন্ধ। এ কারণে অভিভাবকেরা যে সকল মেয়ের পড়ায় আগ্রহ কম তাদের অভিভাবকরা বিয়ে দেওয়ার চিন্তা করছে। তাছাড়া বাল্যবিয়ের কুফল সম্পর্কে এখনও বহু মানুষ অজ্ঞ রয়ে গেছে। লকডাউন শেষে প্রতিটি ইউনিয়নে অভিভাবকদের নিয়ে বৈঠক করে বাল্যবিয়ের কুফল সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে উদ্যোগ নিবেন বলে জানান তিনি।
Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.
বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com
অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com
ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১