বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ১৫ August ২০২১

এনেছিলে সাথে করে মৃত্যুহীন প্রাণ


১৫ আগস্ট ১৯৭৫। সুবেহসাদেকের লগ্নে হঠাৎ ইতিহাসের কাঁটা থমকে গেল ধানমন্ডি ৩২ নম্বর বাসভবনে। ঘাতকের কালো পিস্তলের নিচে মুখ থুবড়ে পড়ল মানবতা, মানব সভ্যতা। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর দেহটি পড়ল সিঁড়ির মাঝখানে। সপরিবারে নিহত হলেন বঙ্গবন্ধু। শুরু হলো নির্মম ইতিহাস বিকৃতির পালা। একাত্তরের পরাজিত শত্রু, আন্তর্জাতিক সাম্রাজ্যবাদ এবং তার এদেশের দোসরদের সহায়তায় যে সামরিক স্বৈরাচার দেশের ক্ষমতা দখল করেছিল, তারা গোটা জাতির আপাদমস্তক আত্মপ্রতারণার গিলাব দিয়ে ঢেকে দিয়েছিল ছলচাতুরীর কফিন দিয়ে, দাফন করেছিল আমাদের যা কিছু গর্বের, যা কিছু গৌরবের, যা কিছু ইতিহাস-ঐতিহ্যের-সবকিছুকেই। জাতির পিতাসহ আমাদের সকল জাতীয় নেতা ও মুক্তিযুদ্ধের সিপাহসালারদের চরিত্র হনন করে তাদের ইতিহাসের পাতা থেকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার চেষ্টা হয়। অন্যদিকে কিছু খলনায়ককে ধরে এনে ইতিহাসের সিংহাসনে রাজনীতির বরপুত্র হিসেবে অভিষিক্ত করার চেষ্টা হয়। এজন্য কিছু বিভ্রান্ত ও বিপথগামী অর্থগৃধ্নু বুদ্ধিজীবীও ভাড়া করা হয়। কিন্তু সেই প্রচেষ্টা সফল হয়নি। কারণ মিথ্যা দিয়ে ইতিহাস রচনা করা যায় না। ইতিহাসে মিথ্যার কোনো স্থান নেই। তাই কালের বর্তমান বিন্দুতে এসে আমরা দেখতে পাই জাতির পিতাসহ আমাদের সকল জাতীয় নেতা আবার ইতিহাসে জীবন্ত হয়ে উঠেছেন। তারা আজ কোটি কোটি মানুষের হূদয়ের মণিকোঠায় শহীদ মিনার হয়ে স্মৃতিস্তম্ভ হয়ে তাদের অবস্থান চিরদিনের মতো নিশ্চিত করে রেখেছেন। আর অন্যদিকে ওই সকল খলনায়ক সকলের অগোচরে, বিনা নোটিশে ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছে।

প্রায় ৪০/৪২ বছর ধরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী এলেই আমরা আরেকবার দুঃখের সাগরে ভাসতাম। জাতির পিতার নির্মম হত্যাকাণ্ড আমাদের গোটা জাতির ললাটে যে কলঙ্ক চিহ্ন এঁটে দিয়েছিল, ১৫ আগস্টে তা তীব্রতর হয়ে আমাদের হূদয়ে রক্তক্ষরণ হতো। তবে ২০১০ সালে বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনি সৈয়দ ফারুকুর রহমান, সুলতান শাহরিয়ার, রশিদ খান, বজলুল হুদা, এ কে এম মহিউদ্দিন আহমেদ, আব্দুল মাজেদ প্রমুখকে ফাঁসির রজ্জুতে ঝুলিয়ে মারার পর বঙ্গবন্ধুর শাহাদতবার্ষিকী আমাদের কাছে ভিন্ন স্বাদে আবির্ভূত হয়। একদিন যারা সগর্বে ঘোষণা দিয়েছিল ‘আমরাই মুজিবকে হত্যা করেছি’, সেই আত্মস্বীকৃত খুনিদের অনেকেই আজ আর বেঁচে নেই। দেশের প্রচলিত আইন, প্রচলিত আদালতে স্বচ্ছ রায়ে তাদের ফাঁসির আদেশ হয়েছে এবং ফাঁসির রজ্জুতে ঝুলিয়ে তাদের মৃত্যুদণ্ডাদেশ কার্যকর করা হয়েছে। গোটা জাতির মাঝে স্বস্তি নেমে এসেছে। জাতির পিতার রক্তের ঋণ সামান্যতম হলেও আমরা শোধ করতে সক্ষম হয়েছি। আমরা খুনিদের মৃত্যুদণ্ডাদেশ কার্যকর করায় বর্তমান সরকার ও সরকারপ্রধান জননেত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন ও মোবারকবাদ জানাই।

কয়েকজন খুনির ফাঁসি হওয়ায় আমরা আনন্দিত। তবে আমরা ভিন্ন কারণে এখনো পুরোপুরি পরিতৃপ্ত নই। প্রথমত, পলাতক খুনিরা—যাদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডাদেশ ঘোষিত হয়েছে, তাদের এখনো দেশে এনে ফাঁসিতে লটকানো সম্ভব হয়নি। সেই ঘাতকচক্র কেবল বিদেশে আত্মগোপন করেই বসে নেই, তারা নিরন্তর ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত করে চলেছে দেশে ধ্বংসাত্মক ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপের মাধ্যমে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি করার লক্ষ্যে। এমনকি তারা একাধিকবার বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা করারও পরিকল্পনা নিয়েছিল। তবে মহান করুণাময় আল্লাহপাকের অসীম রহমত ও বাংলার জনগণের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও দোয়ার মাধ্যমে তিনি এখনো বেঁচে আছেন।

তারা জামায়াত-শিবির এবং তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে ও পৃষ্ঠপোষকতায় বেড়ে ওঠা বিভিন্ন সন্ত্রাসী ও জঙ্গিচক্রের সাথে নিয়মিত যোগসাজশে তাদের নীলনকশা বাস্তবায়ন করতে চায়। তাই যতক্ষণ সেই মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দেশে ফেরত এনে ফাঁসিতে ঝোলানো না যায়, ততদিন আমাদের শান্তি ও স্বস্তিতে থাকার কোনো অবকাশ নেই। ততদিনই দেশরত্ন শেখ হাসিনাকে মৃত্যুর পরোয়ানা মাথায় নিয়ে দিন কাটাতে হবে।

দ্বিতীয়ত, আমরা বঙ্গবন্ধুর খুনিদের চিহ্নিত করতে এবং তাদের বিচারকার্য সমাপ্ত করতে পারলেও যারা এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য নায়ক ও ষড়যন্ত্রের মূলহোতা, তাদের সঠিকভাবে চিহ্নিত করে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে আজো সক্ষম হইনি। এই ব্যর্থতার গ্লানি শৌর্যবীর্যশালী জাতি হিসেবে আমাদের আজো বয়ে বেড়াতে হচ্ছে। ‘আমরা সিনিয়র অফিসার। সরাসরি জড়িত হতে পারব না। তোমরা ইয়াংরা যদি পারো, গো এহেড। আমরা তোমাদের সাথে আছি, আই অ্যাম গিভিং ইউ গ্রিন সিগন্যাল’ বলে যে চতুর বণিক কিছুসংখ্যক বিপথগামী সেনাসদস্যকে জাতির পিতাকে হত্যা করার জন্য ৩২নং ধানমন্ডির বাসভবনে পাঠিয়ে দিয়েছিল, সেই হুকুমদাতা আসামিদের আমরা এখনো কাঠগড়ায় দেখতে পাইনি। প্রয়োজন হলে কবর থেকে তুলে এনে তাদের জাতির পিতার হত্যার ইন্ধনদাতা ও পরিকল্পনাকারী হিসেবে কাঠগড়ায় তুলতে হবে। মরণোত্তর ফাঁসির মঞ্চে তুলে দিয়ে জাতিকে ঋণ ও কলঙ্কমুক্ত করতে হবে।

’৭৫-এর পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের বহুদিন পরে এ সম্পর্কে মার্কিণ পররাষ্ট্র দপ্তরের একটি গোপন দলিল পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। এই দলিলে স্পষ্টভাবে লেখা ছিল : Assassination of Sheikh Mujib has rendered Bangladesh leaderless.

শৌর্যবীর্যশালী বাঙালি জাতিকে কেবল নেতৃত্বশূন্য করা নয়—সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন করাই যে ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের মূল লক্ষ্য ছিল তার প্রমাণ মাত্র তিন মাসের মধ্যে জাতি আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে প্রত্যক্ষ করেছে।

বঙ্গভবন থেকে কুখ্যাত খুনি মোশতাক একদল ঘাতকচক্র পাঠিয়ে বন্দি অবস্থায় সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় নিরাপদ আশ্রয়ে থাকা সত্ত্বেও সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, ক্যাপ্টেন মনুসর আলী ও এ এইচ এম কামারুজ্জামান হেনা এই চার জাতীয় নেতাকে সামনাসামনি গুলি করে হত্যা করে। ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে সংঘটিত এই বর্বরতম হত্যাকাণ্ড কোনোমতেই বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা ছিল না। ১৫ আগস্টের হত্যাযজ্ঞের সাথে এই ঘটনা ছিল একই সূত্রে গাঁথা।

আওয়ামী লীগ অন্তত দুটি কারণে বাঙালি জাতির ইতিহাসে অমর হয়ে থাকবে। এক. এই দলের নেতা বঙ্গবন্ধু পৃথিবীর মানচিত্রে একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশেরই শুধু সংযোজন করেনি, একই সাথে তিনি মানব সভ্যতার ইতিহাসে বাঙালি নামের একটি নতুন জাতির জন্ম দিয়েছেন। কারণ বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত বাঙালি জাতি হিসেবে কোনো পরিপূর্ণ জাতির অস্তিত্ব ইতিহাসে ছিল না। দুই. জাতির এক চরম ক্রান্তিকালে আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ বিচক্ষণতা, দূরদর্শিতা ও নেতৃত্বের মেধার সমন্বয় ঘটিয়ে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী হিসেবে নির্বাচিত করেছিলেন এবং অতি অল্প সময়ের মধ্যেই এই সুযোগ্য কন্যা শুধু আওয়ামী লীগের নয়, বাঙালি জাতির কান্ডারি হতে পেরেছিলেন। তার মেধা, প্রজ্ঞা, পিতার অনুসৃত নীতি ও আদর্শের প্রতি গভীর আস্থা ও বিশ্বাস এবং জনগণের অকুণ্ঠ ভালোবাসা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিল বলেই ২১ বছর পর হলেও মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তিকে রাষ্ট্রক্ষমতায় বসাতে পেরেছিলেন। আর যদি শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের কান্ডারি হতে না পারতেন-২১ বছর কেন, ২১শ’ বছরেও মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারত না। শেখ হাসিনা সরকারের আরেকটি অনন্য সাফল্য হলো-মানুষ হত্যাকারী, মা-বোনের রজনিগন্ধার মতো পবিত্রতা কলুষিত করা ও ধ্বংস, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ প্রভৃতি অপরাধে যারা জড়িত ছিল সেই যুদ্ধপরাধীদের এক এক করে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে আমরা জাতি হিসেবে ইতিহাসের দায়বদ্ধতা থেকে কিছুটা হলেও মুক্ত হয়েছি।

আমাদের মনে রাখতে হবে, আওয়ামী লীগের পথচলা কখনো কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না। প্রতিষ্ঠার পর থেকে দীর্ঘ ছয় দশকেরও পর আওয়ামী লীগকে প্রায়ই তরঙ্গবিক্ষুব্ধ বন্ধুর পথ অতিক্রম করতে হয়েছে। আওয়ামী লীগ যুক্তফ্রন্ট গঠন করে ’৫৪-এর সাধারণ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে; কিন্তু সরকার গঠন করার মাত্র অল্প সময়ের মধ্যেই সামরিক মদতপুষ্ট পশ্চিম পাকিস্তানি রাজনীতিক কুচক্র ষড়যন্ত্র করে সেই সরকারকে গদিচ্যুত করে। ’৭০-এর সাধারণ নির্বাচনে আওয়াম লীগ এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও পশ্চিমা সামরিক স্বৈরাচার ও জুলফিকার আলী ভুুট্টা মিলে ষড়যন্ত্র করে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় বসেত দেয়নি। তারপর ৯ মাসের সমসাময়িক বিশ্বের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন করলেও মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় সাম্রাজ্যবাদীদের প্ররোচনায় বিশ্বাসঘাতক খন্দকার মোশতাক গং-এর ষড়যন্ত্রে সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে রাষ্ট্রক্ষমতা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। ২০০৪ সালে যখন বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় তখন রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে শেখ হাসিনাসহ সকল আওয়ামী লীগ নেতাকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার জন্য সামরিক বাহিনীতে ব্যবহূত আরজেড গ্রেনেড হামলা চালানো হয়েছিল। ১০৪ জন লোক নিহত ও শত শত নেতাকর্মী আহত হলেও আল্লাহর এক অলৌকিক রহমতে শেখ হাসিনা প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন। সর্বশেষ আঘাতটি এসেছিল ১-১১’র পটপরিবর্তনের পর। তত্ত্বাবধায়ক সরকার যখন শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তার করে, তখন দলের নেতাকর্মীরা দিশেহারা। অনেক বিভ্রান্তি ও কুৎসা রটনা করা হয় ১-১১’র কুশীলবদের দ্বারা। গোয়েবলসীয় প্রপাগান্ডা চালানো হয় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে। তাকে দুর্নীতিবাজ চিহ্নিত করে প্রকারান্তরে আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করার প্রয়াস চালানো হয়। আওয়ামী লীগের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করে দলটিকে নিষ্ক্রিয় করার চেষ্টা চালানো হয়। সেই অনিশ্চিত-অন্ধকার জগতেও ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের কর্মীরা অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকায় রাজপথে সোচ্চার ছিলেন। শেখ হাসিনাকে মাইনাস করার জন্য তাকে জেলে রেখে একটি কাউন্সিল অধিবেশনও ডাকা হয়েছিল। কিন্তু তরুণ নেতৃত্বের বলিষ্ঠ ভূমিকায় সেদিন শেখ হাসিনাকে মাইনাস করা তো দূরের কথা, তার সভাপতির আসনটি শূন্য রেখে সভাপতিহীন একটি তথাকথিত কাউন্সিল অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেদিন দলের যেসব উচ্চাভিলাষী ও বিপথগামী নেতৃত্বে ছিলেন, যারা ১-১১’র হাতের পুতুল হয়ে ক্ষমতায় আরোহণ করার স্বপ্নে বিভোর হয়ে এই কাউন্সিল সভা ডেকেছিলেন, তারা যুব নেতৃত্বের আস্ফাালন দেখে নিজেদের নিরাপত্তার কথা ভেবে কাউন্সিল সভা থেকে নীরবে কেটে পড়েছিলেন। আওয়ামী লীগকে বিভক্ত করা তথা শেখ হাসিনাকে আওয়ামী লীগ থেকে সরানোর সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়নি।

এতৎসত্ত্বেও আজ মনে রাখতে হবে আওয়ামী লীগকে বহু দূর পথ পাড়ি দিতে হবে অসীমের লক্ষ্যে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন সোনার বাংলা বিনির্মাণের লক্ষ্যে জাতির পিতার সৈনিকদের থাকতে হবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কিন্তু সে পথ কুসুমাস্তীর্ণ নয়। বরং সে পথ বন্ধুর ও তরঙ্গবিক্ষুব্ধ। সেই পথ হিংস্র ও শ্বাপদসংকুল। তবুও অনতিক্রম্য নয়। সেই মন্দির মঞ্জিলে পৌঁছতে হলে আরেকটি একাত্তরের মতো যুদ্ধের দরকার। যুদ্ধ মনে হয় শুরু হয়ে গেছে। জননেত্রী শেখ হাসিনার ঘোষিত রূপকল্প-২১ ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ার ঘোষণা মানুষের মুক্তির লক্ষ্যে এই যুদ্ধ। এই মুক্তির কথাই ৭ মার্চ ঐতিহাসিক ভাষণে বজ্রকণ্ঠে ঘোষণা দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু-‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন; কিন্তু মানুষের মুক্তি আনার কঠিন কাজটি রেখে গেছেন তার প্রিয় কন্যা হাসিনার জন্য। তাই এই নতুন যুদ্ধে মানুষের মুক্তি অর্জনের যুদ্ধে জয়লাভ করা ছাড়া আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংঠনের কর্মীদের অন্য কোনো বিকল্প নেই। প্রয়োজনে একাত্তরের মতো লাখো লাশ কাঁধে তুলে নিতে হবে। তবুও বঙ্গবন্ধুর সৈনিকদের আজ এই নতুন যুদ্ধে সূর্য শপথের সাথি হতে হবে।

আজ বঙ্গবন্ধুর শাহাদতবার্ষিকী। বঙ্গবন্ধুর বয়স তখন মাত্র ৫৫ বছর, তার মরার কথা নয়। এদেশের প্রথম সফল মহিলা কবি বেগম রোকেয়া সাখাওয়াতের একটি লেখার কথা মনে পড়ে। তিনি লিখেছেন, ‘যে প্রদীপ সবেমাত্র তৈল-সলতা সহযোগে প্রজ্বলিত করা হয়েছে সেই তৈল নিঃশেষিত হওয়ার আগেই সেই প্রদীপ কেন নির্বাপিত হবে?’ বেগম রোকেয়ার এই প্রশ্ন কেবল প্রশ্নবোধক হয়েই রইল।

‘এনেছিলে সাথে করে মৃত্যুহীন প্রাণ,

মরণে তাহাই তুমি করে গেলে দান।’

কবিগুরু যাকে উদ্দেশ করে এই কবিতা লেখেন তিনি আর কেউ নন, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ। ১৮৭০ সালের আজকের দিনেই তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একজন রাজনীতিবিদ হওয়ার পাশাপাশি একজন সুদক্ষ আইনজীবীও ছিলেন; তিনি ছিলেন ‘আলিপুর বোমা ষড়যন্ত্র মামলা’-এর বিপ্লবীদের পক্ষের উকিল এবং তিনি তার নিপুণ দক্ষতায় কেস লড়েন এবং অরবিন্দ ঘোষকে বেকসুর প্রমাণ করেন। তার জন্মদিনে আমার তরফ থেকে আন্তরিক শ্রদ্ধা রইল আর রইল আমার হাতের লেখা এ চরণটুকু। হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে ভারতবর্ষে সর্বজনশ্রদ্ধেয় দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জনের স্মৃতির উদ্দেশে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ কবিতার যে চরণ দুটি রচনা করেছিলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু যখন আততায়ীদের দ্বারা শহীদ হলেন সেদিন যদি কবিগুরু বেঁচে থাকতেন তবে হয়তো একইভাবে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেন—‘এনেছিলে সাথে করে মৃত্যুহীন প্রাণ, মরণে তাহাই তুমি করে গেলে দান।’


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১