আপডেট : ২৬ August ২০২১
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার ধাতুরপহেলা-কর্ণেলবাজার সড়কের ধাতুর পহেলা অংশে সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তায় হাঁটু পানি জমে থাকে। সেইসাথে সড়কে ছোটবড় সৃষ্টি হচ্ছে গর্ত। মাটি ভরাট করে উচু বাড়িঘর তৈরী ও পয়:নিস্কাশনের ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় এ অবস্থা তৈরী হয়। দীর্ঘ দিন ধরে এই সড়কে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় পথচারীদের চলাচলে দুর্ভোগের যেন শেষ নেই অন্তত ২০ গ্রামের লোকজনের। এই দুর্ভোগ দূর করতে বৃহস্পতিবার সকালে ধাতুর পহেলা গ্রামের লোকজন ইউপি সদস্য মো. আব্দুল আওয়াল মেম্বারের নেতৃত্বে জলাবদ্ধতা নিরসনে স্বেচ্ছা শ্রমে রাস্তার পাশে ড্রেন তৈরির কাজে নেমে পড়ে। সংশ্লিষ্টদের আশা, এরপর রাস্তায় আর পানি থাকবে না। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার এই ধাতুরপহেলা-কর্ণেলবাজার সড়কটি খুবই ব্যস্ততম একটি সড়ক। এই সড়ক দিয়ে অন্ত:ত ২০টি গ্রামের লোকজন প্রতিনিয়ত চলাচল করছে। চলছে সিএনজি, ব্যাটারি চালিত অটো রিকশা, রিকশা, ট্রাক্টরসহ ছোটবড় অসংখ্য যানবাহন। এই সড়কের ধাতুরপহেলা অংশে সামান্য বৃষ্টি হলেই পানিতে তলিয়ে যায়। সড়ক ভেঙ্গে সৃষ্টি হচ্ছে বড় বড় গর্ত। সামান্য বৃষ্টিতে সড়কে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় পথচারী ও যাত্রী সাধারণের দুর্ভোগ বাড়ছে। বিশেষ করে এখানে রয়েছে একটি গ্রামীণ বাজার। এই বাজারে প্রতিদিন সকাল বিকাল শতশত লোকের সমাগম হয়। পাশাপাশি এই সড়কের উপর দিয়ে ২০ গ্রামের লোকজনের চলাচল করছে। প্রয়োজনের তাগিদে কেনা কাটাসহ যাতায়ত করতে গিয়ে তাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। দীর্ঘ দিন ধরে এ অবস্থা চলতে থাকায় গ্রামবাসীর উদ্যোগে স্বেচ্ছা শ্রমে রাস্তায় ড্রেনের কাজ করা হয়। সরেজমিনে ধাতুর পহেলা অংশে গিয়ে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তায় পানি জমে বেহাল দশায় পরিণত হয়ে আছে। দীর্ঘ দিন ধরে রাস্তার মধ্যে পানি থাকায় পানিতে দুর্গন্ধ হচ্ছে। রাস্তা থেকে বাড়িঘর উচু হওয়ার ফলে রাস্তায় পানি জমে এ অবস্থা হচ্ছে । তাছাড়া পয়:নিস্কাশনের জন্য ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় রাস্তায় অনেকটা স্থায়ীভাবে পানি জমে চলাচলে দুর্ভোগ বাড়ছে। গ্রামবাসী পানি সরাতে যে উদ্যোগ নিয়েছে সত্যি তা প্রশংসার দাবিদার। ফলে পথচারীদের চলাচলে দুর্ভোগ লাঘবে গ্রামের লোকজন রাস্তার পাশ দিয়ে মাটি কেটে ড্রেন তৈরি করে পানি সরানোর ব্যবস্থা করছেন। পথচারী মো. আফজাল হোসেন বলেন এই সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে ধাতুর পহেলা অংশে খুবই খারাপ অবস্থা হয়ে আছে। সামান্য বৃষ্টি হলে সড়কে হাঁটু পানি হয়ে যায়। একবার বৃষ্টি হলে রাস্তায় পানি যেন সরে না। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন দেখে ও যেন দেখছেন না। মো: ইকবাল হোসেন বলেন, সামান্য বৃষ্টি হলে পানি জমে চলাচল করতে খুবই কষ্ট হয়। ইজিবাইক চালক রুবেল মিয়া জানান, সড়কে পানি জমে থাকার কারণে গাড়ি চালাতে আমাদের খুবই সমস্যা হয়। মো. আকবর হোসেন বলেন , ধাতুরপহেলা-কর্ণেলবাজার সড়কটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক। এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য লোকজন চলাচল করছে । কিন্তু সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কে হাঁটু পানি জমে জনদুর্ভোগ বাড়ছে। স্থানীয় বাসিন্দা মো. বাবলু মিয়া জানান, এ সড়ক নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তারা কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেননি। স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আব্দুল আওয়াল সরকার বলেন, বাড়িঘর তৈরী করতে সড়কের দুই পাশে মাটি ফেলে উচু করায় সামান্য বৃষ্টি হলে এখানে পানি জমে থাকে। ইতিমধ্যে সেচ্ছাশ্রমে গ্রামবাসীকে নিয়ে রাস্তার পাশে মাটি কেটে ড্রেন করে পানি সরানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তাছাড়া স্থায়ী ভাবে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে জরুরী ভিত্তিতে উপজেলা প্রকৌশলীর বরাবরে লিখিত আবেদন করা হয়েছে। আশা করছি দ্রুত এ কাজ করা হবে। আখাউড়া উপজেলা উপ-সহকরী প্রকৌশলী মো. জহিরুল ইসলাম ধাতুরপহেলার একটি অংশে বৃষ্টি হলে সড়কে পানি জমে পথচারীদের চলাচলে অসুবিধা হচ্ছে। এ বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে এ সমস্যা সমাধান করা হবে বলে জানায়।
Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.
বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com
অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com
ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১