বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ২৮ August ২০২১

আবারো রাস্তায় নেমেছে পরিবহন চাঁদাবাজরা

গভীর রাত থেকে শুরু হয় উৎপাত


পরিবহন শ্রমিকদের রক্ত চুষতে আবারো রাস্তায় নেমেছে পরিবহন চাঁদাবাজরা। করোনাকালে নিদারুণ কষ্টে জীবন কাটালেও এসব পরিবহন শ্রমিকদের কোনো খবর নেয়নি শ্রমিকদের কল্যাণের নামে সারা বছর শত শত কোটি টাকা চাঁদার নামে আদায় করা তথাকথিত শ্রমিক ও পরিবহন নেতারা। দীর্ঘদিন পর আবার গণপরিবহনের চাকা ঘুরতে শুরু করায় আবারো রাস্তায় নেমেছে এসব চাঁদাবাজরা। গভীর রাত থেকে শুরু হয় এসব চাঁদাবাজদের উৎপাত। বাড়তি এই চাঁদার টাকা আদায় করতে পরিবহন চালক-হেলপাররা শেষ পর্যন্ত চড়াও হয় যাত্রীদের ওপর। সিটিং সার্ভিসের নামে অতিরিক্ত যাত্রী উঠিয়ে কিংবা বাড়তি ভাড়া নিয়ে তারা ‘উসুল’ করে নেয় চাঁদার টাকা। আর সবকিছু দেখেও বরাবরের মতো নির্বিকার সংশ্লিষ্টরা।

জানা যায়, সারা দেশের মতো ঢাকায় প্রত্যেক রুটের বাস চলাচল করতে মালিক সমিতি, লাইন খরচ এসব অঘোষিত নিয়মের বেড়াজালে শ্রমিকদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকার চাঁদা তোলা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু অসাধু সদস্যও এর সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ আছে।

বিভিন্ন সময় উদ্যোগ নিলেও চাঁদাবাজি বন্ধ হয়নি। যদিও গতবছর করোনার সংক্রমণ বাড়ার পর দেওয়া লকডাউন শেষে রাস্তায় এই ধরনের চাঁদা আদায় পুরোপুরি বন্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চাঁদা আদায় বন্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। ফলে বেশ কিছুদিন বন্ধ ছিল চাঁদা আদায়। কিন্তু কয়েকদিন না যেতেই আবার শুরু হয় চাঁদাবাজি। গত রোবাবর ভোরে ভোলা থেকে তাসরিফ-২ লঞ্চে ঢাকা সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে নেমে বাসায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে রিকশা নেন হাসানুজ্জামান নামে এক সংবাদকর্মী। রিকশাটি কিছু দূর যেতেই গতিরোধ করে দাঁড়ায় দুই কিশোর। তাদের দাবি, রিকশা প্রতি দিতে হবে ১০ টাকা চাঁদা। সিটি করপোরেশনের নামে আদায় করা ওই টাকা না দিয়ে কোনোভাবেই কোনো রিকশা সেখান থেকে যেতে দেয় না তারা।

শুধু রিকশাই নয় সদরঘাট থেকে ছেড়ে যাওয়া প্রতিটি গণপরিবহনকেই মোটা অঙ্কের চাঁদা পরিশোধ করতে হচ্ছে প্রতিদিন।

তাই দীর্ঘদিন পর পরিবহন চালানোর অনুমতি পেলেও তাতে খুব একটা খুশি নন পরিবহন শ্রমিকরা। এরমধ্যে লাইন খরচসহ নানা নামে গাড়ি চলতে তাদের প্রতিদিন সড়কে যে চাঁদা দিতে হয় তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন পরিবহন শ্রমিকরা। দুর্ভোগের বিষয়টি মাথায় রেখে আপাতত যেন এই চাঁদা তোলা বন্ধ হয় সেই দাবিও করছেন শ্রমিকরা। কিন্তু চাঁদা না দিলে গণপরিবহন চলতে পারবে না বলে হুমকি দিচ্ছে চাঁদাবাজরা।

শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অনেক সময় সারা দিন গাড়ি চালিয়েও পরিশোধ করা চাঁদার টাকা উঠানো সম্ভব হয় না।

জানা যায়, ভিক্টোরিয়া পার্ক থেকে গাজীপুরা রুটে চলা ভিক্টর ক্লাসিক পরিবহনের একটি গাড়ি দিনে রাস্তায় চলতে ৮৫০ টাকা চাঁদা দিতে হয়। দিনে আয় যতই হোক চাঁদা দেওয়ার হাত থেকে রক্ষা পান না কেউ। এই রুটের ভিক্টর ক্লাসিক পরিবহনের কন্ট্রাক্টর সিয়াম বলেন, ‘লকডাউনের সময় কেউ খোঁজ নেয় নাই। খাইয়া, না খাইয়া দিন কাটাইছি। এখন গাড়ি চলা শুরু হলে দেখা যাবে চাঁদা নেওয়া শুরু হইছে। এইরকম চললে কি ইনকাম করমু আর কি খামু।’

বেশ কয়েকজন পরিবহন শ্রমিকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ভিক্টোরিয়া পার্ক থেকে গাজীপুরা রুটে চলা ভিক্টর পরিবহনের একটি বাস রাস্তায় বের হলে যে পরিমাণ চাঁদা দিতে হয় অনেক সময় দিন শেষে সে পরিণাম টাকা খরচ বাদে আয় করাও সম্ভব হয় না।

তারা জানান, প্রতিদিন একটি গাড়ি থেকে ৫০ টাকা দিতে হয় সিটি করপোরেশনের চাঁদা। রোড খরচের নামে গুলিস্তানের পাবলিক টয়লেটের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকজন লোক নেন ৫০০ টাকা। পুরো রাস্তায় দুই পাশে পাঁচজন করে দশজন লাইনম্যানকে দিতে হয় ২০ টাকা করে দুইশ টাকা। এছাড়া আব্দুল্লাহপুর রাতে গাড়ি রাখার জন্য মাঠ খরচ দিতে হয় ১০০ টাকা। এমন চাঁদার তথ্য শুধু ভিক্টর পরিবহন নয়, ঢাকার রাস্তায় চলা অন্য পরিবহন থেকেও প্রকাশ্যে তোলা হচ্ছে চাঁদা।

গত বৃহস্পতিবার দুপুরে ভিক্টর পরিবহনের কন্ট্রাকটর হামিদ সরকার বলেন, সকালে বের হওয়ার পর ভিক্টোরিয়া পার্কের সামনে সিটি করপোরেশনের নামে ৫০ টাকা চাঁদা দিয়েছি। রোড খরচের নামে গুলিস্তানে ৫০০ টাকা চাইছিল। কিন্তু প্রথম ট্রিপে দেইনি। দেখি দিনের অন্য সময় কি করে।

আজমেরী গ্লোরী পরিবহনের চালক জাকির হোসেন বলেন, লকডাউনের পর গণপরিবহন চলাচলের শুরুতে প্রথম দুইদিনে অল্প কিছু চাঁদা দিতে হয়েছে। তবে এখন আবার আগের মতোই চাঁদা দিতে হচ্ছে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহ বলেন, এত টাকা তো চাঁদা তোলার সুযোগ নেই। অভিযোগ শুনলাম আমরা খোঁজ নিয়ে দেখবো। কি ব্যবস্থা নেওয়া যায় দেখব।


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১