বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ০৬ September ২০২১

ডেঙ্গু হাসপাতালে জনবল সংকট


যত দিন যাচ্ছে, ডেঙ্গু পরিস্থিতি ততই খারাপের দিকে যাচ্ছে। পাশাপাশি অসুস্থতার হারও বাড়ছে। পরিস্থিতি ভয়াবহ হওয়ার আগে সক্ষমতা যাচাই না করেই ডেঙ্গুরোগীদের চিকিৎসায় ছয়টি হাসপাতালকে ডেডিকেটেড ঘোষণা করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এসব হাসপাতালে প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের পাশাপাশি রয়েছে জনবল সংকটও। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে গত একদিনে রাজধানীসহ সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে আরো ৩১৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে রাজধানীর হাসপাতালে ২৬২ জন ও বাইরের হাসপাতালে ৫৩ জন রোগী ভর্তি হন।

বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি থাকা মোট ডেঙ্গুরোগীর সংখ্যা ১ হাজার ২৮০ জনে দাঁড়িয়েছে। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে গতকাল পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা দাঁড়ালো ১১ হাজার ৮১৬ জনে। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১০ হাজার ৪৮১ জন। চলতি বছর এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মোট হাসপাতালে ভর্তি ১১ হাজার ৮১৬ জনের মধ্যে জানুয়ারিতে ৩২ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৯ জন, মার্চে ১৩ জন, এপ্রিলে তিনজন, মে’তে ৪৩ জন, জুনে ২৭২ জন, জুলাইয়ে ২ হাজার ২৮৬ জন, আগস্টে ৭ হাজার ৬৯৮ জন এবং ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ হাজার ৪৬০ জন রোগী ভর্তি হন।

এদিকে করোনা মহামারির মধ্যে ডেঙ্গু ভয়ংকর রূপ ধারণ করায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গত ২৩ আগস্ট ডেঙ্গুরোগীদের চিকিৎসায় ছয়টি হাসপাতালকে ডেডিকেটেড ঘোষণা করে। হাসপাতালগুলো হলো—স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মিটফোর্ড হাসপাতাল, রেলওয়ে জেনারেল হাসপাতাল, আমিনবাজার ২০ শয্যা হাসপাতাল, লালকুঠি হাসপাতাল, কামরাঙ্গীরচর ৩১ শয্যা হাসপাতাল ও গাজীপুরের শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতাল।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, তাদের সক্ষমতা যাচাই না করেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ ঘোষণা দিয়েছে। পর্যাপ্ত জনবল, যন্ত্রপাতিসহ অন্যান্য অবকাঠামো না থাকায় চিকিৎসা শুরু করতে পারছে না কোনও কোনো হাসপাতাল। কোনো হাসপাতাল সীমিত সম্পদের ব্যবহার করে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

আমিনবাজার ২০ শয্যা হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. সাইদুন নাহার হাসপাতালের সীমিত সম্পদের কথা স্বীকার করে বলেন, সীমিত সম্পদ দিয়ে ডেঙ্গু আক্রান্তদের চিকিৎসা হচ্ছে। আমরা চেষ্টা করছি চিকিৎসা দেওয়ার। তবে সংকট কিছুটা রয়েছে এটা মানতেই হবে।

ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের জন্য এ হাসপাতাল এখনও প্রস্তুত নয় জানিয়ে লালকুঠি জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক ডা. শামছুল করিম বলেন, জনবল এখনও আসেনি। আউটডোর চালাচ্ছি কেবল ফিভার ক্লিনিক দিয়ে কিন্তু ইনডোর না। রোগী ভর্তি করা যাচ্ছে না, মেডিসিন নেই, নার্স নেই, রেডিওলজিস্ট নেই, টেকনোলজিস্ট নেই জানিয়ে তিনি বলেন, আমার ডাক্তার-নার্স-টেকনোলজিস্ট দরকার, এটা জানিয়েছি; কিন্তু এখনো আসেনি। মেডিসিন কনসালট্যান্ট পাঁচজন, মেডিকেল অফিসার ২০ জন, নার্স ২০ জন, টেকনোলজিস্ট চারজনসহ ডেঙ্গু টেস্ট করার জন্য রি-এজেন্টের চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে।

রেলওয়ে বিভাগের কর্মচারী-কর্মকর্তাদের জন্য বিশেষায়িত হাসপাতাল রেলওয়ে জেনারেল হাসপাতালকেও ডেঙ্গুরোগীদের জন্য নির্ধারিত করা হয়েছে। কিন্তু হাসপাতাল এখনো অফিশিয়াল অর্ডারই পায়নি। সেইসঙ্গে নেই হাসপাতালের জনবল, নেই মেডিসিন বিশেষজ্ঞ। প্যাথলজিস্ট আছেন একজন। তার একার পক্ষে ২৪ ঘণ্টা হাসপাতালের কার্যক্রম চালানো সম্ভব নয়। ইনডোরে মেডিকেল অফিসার রয়েছেন মাত্র একজন, নার্স রয়েছেন মাত্র নয়জন। অথচ ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের ইমার্জেন্সি কিছু টেস্ট করা দরকার হয় যখন-তখন, বলছেন হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা।

মেডিসিন বিশেষজ্ঞ হিসেবে এই হাসপাতালে কোনো পোস্টই নেই জানিয়ে হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. রিপন দাস বলেন, অন্তত দুজন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, আরো একজন প্যাথলজিস্ট, আরো একজন ল্যাব টেকনিশিয়ান, চারজন মেডিকেল অফিসার এবং আরো অন্তত ১০ জন নার্স দরকার।

সক্ষমতা যাচাই না করে, প্রস্তুতি না নিয়ে হঠাৎ করেই হাসপাতালগুলোকে ডেঙ্গু ডেডিকেটেড ঘোষণা করা হলো কেন, এমন প্রশ্নে স্বাস্থ্য অধিকার আন্দোলনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. রশীদ-ই-মাহবুব বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা অধিদপ্তরে যারা রয়েছেন তাদের কথার সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই।

সরকারি হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা না পেয়ে, ভোগান্তির কারণে সাধারণ মানুষ বেসরকারি হাসপাতালে যাচ্ছে। অন্য হাসপাতালে চাপ পড়ছে জানিয়ে অধ্যাপক ডা. রশীদ-ই-মাহবুব বলেন, যে হাসপাতালগুলোকে সরকার নির্ধারণ করে দেবে তাদের ম্যানেজ করার সক্ষমতা রয়েছে কি না সেটা আগে দেখবে সরকার। সেইসঙ্গে হাসপাতালগুলোর কী প্রয়োজন রয়েছে সেটাও দেখবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা অধিদপ্তর এই দুটো কাজ করার পর তারা সশরীরে হাসপাতাল পরির্দশন করে দেখবে হাসপাতালগুলো প্রস্তুত হয়েছে কি না, কার্যক্রম চালানোর জন্য তারা প্রস্তুত কি না। এরপর তারা মানুষকে নির্ধারিত হাসপাতাল সম্পর্কে জানাবে। মানুষ তখন যাবে, চিকিৎসা নেবে। অথচ হচ্ছে উল্টো। প্রস্তুত না করে, সক্ষমতা যাচাই না করে গণমাধ্যমে তারা বলে দিচ্ছে, মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছে। যেটা হওয়া উচিত যেটা হতে পারে না বা হওয়া উচিত নয়।

প্রস্তুত না করেই হাসপাতালগুলোকে ডেঙ্গু ডেডিকেটেড কেন করা হলো জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক  (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) ডা. ফরিদ হোসেন মিঞা বলেন, আমাদের একটা জুম মিটিংয়ে এরকম একটা সিদ্ধান্ত ছিল। সে অনুযায়ী ডিক্লেয়ার করা হয়েছিল। তবে এখন চেষ্টা করা হচ্ছে, হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত করার জন্য।

তবে ডেডিকেটেড ঘোষণা করা রেলওয়ে জেনারেল হাসপাতাল রেলপথ মন্ত্রণালয়ের আর লালকুঠি জেনারেল হাসপাতাল পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের অধীনে জানিয়ে তিনি বলেন, এসব হাসপাতালে জনবলসহ অন্যান্য সাপোর্ট দেওয়ার চেষ্টা করছি।


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১