বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ০৭ September ২০২১

প্রস্তুতি নিতে ব্যস্ত শিক্ষকরা


দীর্ঘদিন পর স্কুল-কলেজ খোলার ঘোষণায় খুশির আমেজ বইছে শিক্ষার্থীদের মাঝে। আর এ খুশি ছুঁয়েছে শিক্ষকদেরও। তাই সরকার ঘোষিত নির্ধারিত সময় ১২ সেপ্টেম্বর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলতে যাবতীয় প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। শেষ মুহূর্তে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন তাঁরা। তবে কোনো কোনো ক্লাসের পাঠদান চালু হবে সে বিষয়ে এখনো পুরোপুরি জানেন না স্কুল প্রধানরা।

এদিকে শ্রেণিকক্ষ, শিক্ষার্থী, শিক্ষকসহ অন্যান্য জনবলের সমস্যাসহ বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক স্কুলের পক্ষেই স্বাস্থ্যবিধি মানা এবং অন্য পরিকল্পনাগুলো ঠিকমতো বাস্তবায়ন করা যাবে কি-না, সেটাকে বড় চ্যালেঞ্জ দেখছেন শিক্ষকরা।

অন্যদিকে, এর আগেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার ঘোষণা দিয়েও বাস্তাবায়িত না হওয়ায় এবারও তেমনটা ঘটবে কিনা তা নিয়ে শঙ্কার কথা প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা। গত কয়েকদিন রাজধানী ও আশপাশের কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষক-শিক্ষিকারা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের নির্দেশনায় কয়েকদিন ধরে স্কুলে হাজিরা দিচ্ছেন। দীর্ঘদিন পর শিক্ষকরাও কর্মক্ষেত্রে উপস্থিত হতে পেরে উজ্জীবিত। স্কুলগুলোতে এখন বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। শিক্ষকরা স্কুলে উপস্থিত হয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম তদারকি করছেন। সেইসাথে এসাইনমেন্ট বণ্টন ও জমা নেওয়া, বকেয়া বেতন আদায় করা, শিক্ষার্থী ও অভিবাবকদের সাথে যোগাযোগ করাসহ নানামুখী কাজে এখন ব্যস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টরা। আর জেলা শিক্ষা অফিস ও প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে পরিদর্শন করছেন।

শিক্ষকরা বলছেন, স্কুল খোলার সংবাদে তাঁরা আনন্দিত। অভিভাবকরাও স্কুলে ছাত্র পাঠাতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন অনেকেই। মিরপুরের মনিকানন উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মিজানুর রহমান বলেন, অভিভাবক ও ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে স্কুল খোলার সংবাদে যে আনন্দ দেখছি, সেটা দেখে আসলেই ভালো লাগছে। তবে এখনো অনেক বিষয়ে তারা নিশ্চিত নন বলে জানান তিনি। যেমন-সব শিক্ষার্থী একসাথে ক্লাস করবে কিনা, আসন বণ্টন কি হবে, কোন কোন শ্রেণির ক্লাস হবে ইত্যাদি বিষয়। এসব ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুসরণ করা হবে বলে জানান তিনি। সরেজমিনে দেখা যায়, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজগুলোতে চলছে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা কাজ। প্রতিষ্ঠান প্রধানরা বদ্ধক্লাস রুম, দরজা-জানালা সংস্কার, মাঠের ঘাস পরিষ্কারকরণ, রুটিনসহ আনুষাঙ্গিক প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চুনকাম করার উদ্যোগ নিয়েছে।

স্কুলগুলোতে মূলত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করা, মাস্ক কেনা এবং তাপমাত্রা মাপার যন্ত্র স্থাপনের প্রস্তুতি চলছে। এছাড়া কোন শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সপ্তাহে কোন দিন শ্রেণিকক্ষে আনা হবে, পালা কী হবে, বেঞ্চ সাজানোর পরিকল্পনা এসব যাবতীয় খুঁটিনাট বিষয় নিয়ে নিয়মিত বৈঠক চলছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের সাথে শিক্ষকদের।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক বলেন, অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই আর্থিক ও জনবলের সঙ্কট রয়েছে। সেই ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন করা অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পক্ষেই হয়ত সম্ভব হবে না।

গত রোববার ঢাকার সেগুনবাগিচা হাইস্কুলে গিয়ে দেখা যায়, মাঠে বড় বড় ঘাস। তবে একাংশের ঘাস কাটা হয়েছে। শ্রেণিকক্ষগুলো মোটামুটি পরিষ্কার। বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক এ কে এম ওবাইদুল্লাহ জানালেন, কয়েক দিনের মধ্যেই পুরো মাঠের ঘাস কেটে ফেলা হবে।

রাজধানীর গবর্ণমেন্ট ল্যাবরেটরি হাইস্কুলে গিয়ে দেখা যায়, নির্ধারিত অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিতে অভিভাবকদের সঙ্গে কিছুসংখ্যক শিক্ষার্থীও এসেছে। প্রধান শিক্ষক মো. আবু সাঈদ ভূঁইয়া বলেন, তারা দুই ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছেন। প্রথমত, সরকার যেভাবে বলবে সেভাবেই বসার ব্যবস্থা করা হবে। দ্বিতীয়ত, তারা নিজেরাও বিকল্প একটি চিন্তা করে রেখেছন। সেটি হলো একটি শ্রেণির শিক্ষার্থীর সবাইকে একসঙ্গে না এনে দুই ভাগ (জোড়-বিজোড় ক্রমিক নম্বর অনুযায়ী) করে ক্লাসে আনা। স্বাস্থ্যবিধির অন্যান্য প্রস্তুতিও নিয়ে রেখেছেন।

পাগলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হোসনে আরা বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিদ্যালয় খুলতে আমরা যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করছি। শিক্ষার্থীদের সঙ্গেও নানা মাধ্যমে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। সরকারের নির্দেশনা পেলেই ক্লাস চালু করতে পারবো। কোনোভাবেই গাদাগাদি বা ঠাসাঠাসি করে শিক্ষার্থীদের ক্লাস করার সুযোগ নেই। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ‘নো মাস্ক নো স্কুল’ ব্যানার টানানো হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. কামরুল ইসলাম বলেন, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা চলমান প্রক্রিয়া। এরপরও যেহেতু ১২ সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার নির্দেশনা রয়েছে। সে হিসেবে চলমান প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে একেবারে ভালোভাবে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম করছি। ডিটারজেন্ট দিয়ে পরিষ্কারের পর স্যাভলন পানি দিয়ে জীবাণুমুক্ত করা হচ্ছে।

ধোয়া-মোছার কাজ দেখা গেছে মোহাম্মদপুরের ওয়াইডব্লিউসিএ জুনিয়র গার্লস হাইস্কুলেও। প্রিন্সিপাল র‍্যাচেল প্রভা বলেন, আমাদের নিয়মিত শ্রেণিকক্ষ, ওয়াশরুম, মাঠ পরিষ্কার কার্যক্রম অব্যাহত ছিল। সবকিছু নিট অ্যান্ড ক্লিন আছে। শিক্ষার্থী সংশ্লিষ্ট সবকিছু নিয়মিত পরিষ্কার করা হচ্ছে এবং রেগুলার আমাদের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সরকার যদি বলে আমাদের শুধু ১২ সেপ্টেম্বরই নয়, আগামীকাল থেকে স্কুল খুলবে, তাও আমরা প্রস্তুত আছি।

তবে নির্ধারিত দিনে আদৌ স্কুল খুলবে কিনা এ নিয়ে শঙ্কিত অভিভাবকরা। অভিভাবক ফৌজিয়া ইয়াসমীন লিমা বলেন, পুরো বছর জুড়েই স্কুল-কলেজ খোলার তারিখ শুনলাম। এবার যে তারিখ ঘোষণা হয়েছে সেটি যেন আর পরিবর্তন না হয়-সেই প্রত্যাশা করছি। ছেলে মেয়েরা বাসায় বসে মোবাইল ফোনে আসক্ত হয়ে পড়েছে। অনলাইন কিংবা টিভি কোনটিতেই ঠিকমতো ক্লাস করে না। তাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দ্রুত খুলে দেওয়া জরুরি।

গত বছরের ৮ মার্চ দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ার ৯ দিন পর ১৭ মার্চ থেকে স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়। ধাপে ধাপে ছুটি বাড়িয়ে আগামী ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত করা হয়। জুন মাসের শেষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার তারিখ দিয়েও করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে প্রাণঘাতী ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ার পরিপ্রেক্ষিতে সেই পরিকল্পনা থেকে সরে আসতে বাধ্য হয় সরকার। জুলাই থেকে আরো কঠোর বিধিনিষেধে যায় সরকার। করোনাভাইরাসের কারণে ১৭ মাস বন্ধ থাকার পর আগামী রোববার থেকে স্কুল-কলেজে সশরীরে পাঠদান শুরুর ঘোষণা দেয় সরকার। এদিন প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস চালু হবে।


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১