বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ১৭ September ২০২১

কিছু পাউরুটিতে ক্যানসার তৈরির উপাদান


ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি হওয়া নামী ব্র্যান্ড ও সুপরিচিত নয়, এমন ১৯টি পাউরুটির নমুনা পরীক্ষা করে ৮৪ শতাংশে পটাশিয়াম ব্রোমেটের উপস্থিতি পেয়েছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ।

এই পটাশিয়াম ব্রোমেট শরীরে প্রবেশ করলে ক্যানসার, কিডনি, মস্তিষ্ক, জিনগত রোগ, থাইরয়েড গ্রন্থির রোগ তৈরির সহায়ক হিসেবে কাজ করে।

পাউরুটিগুলোতে পাওয়া পটাশিয়াম ব্রোমেটের মাত্রা ছিল ৩ দশমিক ৩১ পিপিএম (পার্টস পার মিলিয়ন) থেকে ১২ দশমিক ৯১ পিপিএম। অর্থাৎ ব্যবহৃত আটার ১০ লাখ ভাগের ৩ দশমিক ৩১ থেকে ১২ দশমিক ৯১ ভাগ পটাশিয়াম ব্রোমেট। এই পরীক্ষার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য (জনস্বাস্থ্য ও পুষ্টি) মঞ্জুর মোর্শেদ আহমেদ।

তিনি বলেন, পরীক্ষায় প্রাথমিকভাবে ঢাকায় যে ফলাফল পেয়েছি, এতেই বিশ্বাস, বাংলাদেশে উপাদানগুলো বিস্তৃতি পরিসরে ব্যবহৃত হয়।

দেশে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার টন পাউরুটি উৎপাদিত হয় বলে বাংলাদেশ অটো-বিস্কুট অ্যান্ড ব্রেড ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য। এসব পাউরুটির মেয়াদ থাকে তিন দিন পর্যন্ত। সংগঠনটির সভাপতি শফিকুর রহমান বলেন, পাউরুটির চাহিদা অনেক। এখন অনেকে বাইরে নাশতা না খেয়ে পাউরুটিসহ অন্যান্য বেকারির প্রক্রিয়াজাত খাবার খান।

নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, পাউরুটি ফুলাতে পটাশিয়াম ব্রোমেট ও পটাশিয়াম আয়োডেট ব্যবহৃত হয়। এগুলো ছাড়াও আরও কিছু ‘ইমপ্রুভার’ ব্যবহৃত হয়, যা দিয়ে পাউরুটির স্বাদ ও আকার ঠিক করা হয়। এই পটাশিয়াম ব্রোমেট ও পটাশিয়াম আয়োডেটের দাম তুলনামূলক কম হওয়ায় দেশে এর ব্যবহার বেশি। পরীক্ষায় পাওয়া ফলাফলের ভিত্তিতে রুটি, পাউরুটি ও বেকারি পণ্যে পটাশিয়াম ব্রোমেট ও পটাশিয়াম আয়োডেট ব্যবহার বন্ধের নির্দেশ দিয়ে বিজ্ঞপ্তিও জারি করেছে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ।

নিষিদ্ধ করার পরও কেন ব্যবহৃত হচ্ছে এই উপাদানগুলো? বাংলাদেশ অটো-বিস্কুট অ্যান্ড ব্রেড ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে সদস্যের আওতায় আনতে পারি না। পাউরুটি ফুলানোর জন্য এখন নীতিনির্ধারণী ও তদারকি প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিকারের উপায়ের কথা বলুক। আর আমাদের সদস্যরা বিএসটিআইয়ের নির্দেশনার কথা সেভাবে জানেও না।’

নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য (জনস্বাস্থ্য ও পুষ্টি) মঞ্জুর মোর্শেদ আহমেদ বলেন, পাউরুটি প্রস্তুতকারীরা কোথা থেকে উপাদান দুটি কেনে, সে উৎস আমরা জানতে পারিনি। সামনে গ্রামাঞ্চলে পাউরুটির নমুনা পরীক্ষা করা হবে। এরপর পটাশিয়াম ব্রোমেটের উৎস খুঁজে বের করা হবে, যাতে পাউরুটি উৎপাদনকারীরা ব্যবহার করতে না পারে। তবে আমদানি বন্ধ করা যাবে না। কারণ, এগুলোর ব্যবহার অন্য শিল্পেও থাকতে পারে।

তিনি আরও বলেন, ‘প্রথমবার ক্ষতিকর উপাদান পাওয়ায় উৎপাদনকারীদের সতর্ক করা হয়েছে। তাদের নজরদারিতে রাখা হচ্ছে। এরপর কারও পাউরুটিতে পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

প্রসঙ্গত, বহুল ব্যবহৃত পাউরুটিতে শুরু থেকেই ইস্ট ব্যবহার করে এটি ফুলানো হতো। কিন্তু দাম বেশি হওয়ায় এর ব্যবহার কমে যায়। এরপর বাংলাদেশ, ভারতসহ কিছু দেশে রুটি ফুলাতে খাবার সোডা ব্যবহৃত হতে থাকে। তবে নব্বইয়ের দশক থেকে অনেক দেশে আটার খামিরকে দীর্ঘ সময় রেখে দেওয়ার জন্য বেকারির মালিকেরা পটাশিয়াম ব্রোমেট ব্যবহারে উৎসাহিত করা শুরু করেছিলেন। এটি দামেও সস্তা এবং পাউরুটিকে আকর্ষণীয়ভাবে ফোলানো ও নানা আকৃতি দেওয়ায় ওই বিষাক্ত উপাদানটি বেশ কার্যকর।

বেশ কয়েক বছর ধরে বিশ্বের উন্নত দেশগুলো পাউরুটিতে এই রাসায়নিকটির ব্যবহার নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। সেই সূত্র ধরে বাংলাদেশেও এটি নিষিদ্ধ করা হয় ২০১৮ সালে। তবে সম্প্রতি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এবং বেসরকারি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষক দল দেশে উৎপাদিত পাউরুটির অনেকগুলোতে পটাশিয়াম ব্রোমেট পায়। এরপর দেশের নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কাজ শুরু করে এবং এর প্রমাণ পায়।


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১