আপডেট : ১২ October ২০২১
বেড়েই চলেছে ভোজ্যতেলের দাম। ধাপে ধাপে দাম বৃদ্ধির ফলে বর্তমানে সাধারণ মানুষ বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে অত্যাবশ্যকীয় এই নিত্যপণ্যটি। নুন আনতে পানতা ফুরোয় এমন মানুষেরা পড়েছেন বিপাকে। বাজার পরিস্থিতি বলছে, সব রকমের ভোজ্যতেলের দাম খোলা বাজারে আবারো বেড়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা ও পাইকারি দোকান ঘুরে দেখা গেছে, বোতলজাত প্রতি লিটার তেল ২ থেকে ৫ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৫৪-১৫৫ টাকায়। আর খোলা তেল লিটার প্রতি বিক্রি হচ্ছে ১৪৪-১৫০ টাকা দরে। পামওয়েল বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায়। বিক্রেতারা বলছেন, এক সপ্তাহ আগেও খোলা বাজারে পামওয়েল বিক্রি হয়েছে ১৩০ টাকা থেকে ১৩৬ টাকায়। গত বছর একই সময়ে এ তেল বিক্রি হয়েছিল ৮৮-৯৩ টাকা দরে। এক বছরের ব্যবধানে দামে বেড়েছে ৪৫-৫০ টাকা। বছরের ব্যবধানে একইভাবে দাম বেড়েছে বোতলজাত ও খোলা সয়াবিনের। কারওয়ান বাজারের আসা এক ক্রেতা জানান, সপ্তাহ খানেক আগে তিনি তেল কিনেছিলেন ১৫০-১৫২ টাকা লিটারে। গতকাল কিনতে হয়েছে ১৫৫ টাকায়। পেঁয়াজের কেজি ৮০ টাকা, মরিচের কেজি ১৮০-২০০ টাকা, চালের কেজি ৭০ টাকা। প্রতিটি জিনিসেরই দাম বাড়ছে। তার অভিযোগ, ব্যবসায়ীরা ইচ্ছে মতো দাম বাড়াচ্ছে। তাদের সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে ক্রেতারা। আসগর আলী নামের এক ক্রেতা বলেন, একদিকে করোনায় আমাদের আয় কমে গেছে। যাতায়াত ও ঘর ভাড়ার টাকা যোগাড় করতেই কষ্ট হচ্ছে। অন্যদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম প্রতিদিনই বাড়ছে। সরকারের উচিত জনগণের কথা বিবেচনায় রেখে বাজার নিয়ন্ত্রণে আনা। উত্তর বাড্ডার পাইকারি ব্যবসায়ী নিজামউদ্দিন জানান, বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ার দোহাই দিয়ে যেসব প্রতিষ্ঠানগুলো তেল আমদানি করছে, তারা তেলের দাম বাড়াচ্ছে। আমরা বেশি দামে এনে তো আর লোকসান দিয়ে বিক্রি করতে পারি না। এদিকে, অভ্যন্তরীণ বাজার স্থিতিশীল রাখতে পেঁয়াজ ও ভোজ্যতেলসহ আমদানিকৃত বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যের ওপর থেকে আমদানি শুল্ক হ্রাস ও প্রত্যাহারে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) অনুরোধ জানিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। গতকাল সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাক্ষে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মজুত, সরবরাহ, আমদানি, মূল্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে আয়োজিত সভায় এ কথা জানান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ.এইচ.এম. সফিকুজ্জামান। তিনি বলেন, সম্প্রতি ভোজ্যতেল, চিনি, পেঁয়াজ ও মশুর ডালের মতো অত্যাবশ্যকীয় কয়েকটি পণ্যের আন্তর্জাতিক মূল্য বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে স্থানীয় বাজারেও। নিত্যপ্রয়োজনীয় এসব পণ্যের ঊর্ধ্বমূল্য পরিলক্ষিত হওয়ায় মজুত, সরবরাহ, আমদানি, মূল্য পরস্থিতি স্বাভাবিক এবং স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এরই অংশ হিসেবে জনস্বার্থে ভোজ্যতেলে শুল্ক হ্রাসের জন্য এনবিআরকে অনুরোধ করা হয়েছ।
Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.
বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com
অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com
ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১