বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ০৭ November ২০২১

ডিএনসিসির বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প

এক বছরেও দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই


ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পটির গত এক বছরেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। সংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রতিদিন যে পরিমাণ বর্জ্য দরকার তা সরবরাহ না হওয়ার পাশাপাশি জমি অধিগ্রহণ নিয়ে এ প্রকল্প বাস্তবায়নে জটিলতা তৈরি হয়েছে।

জানা গেছে, বাসাবাড়ি থেকে নেওয়া প্রতিদিনের বর্জ্য পুড়িয়ে তা বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে ২০২০ সালের নভেম্বরে চায়না মেশিনারি ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশনের (সিএমইসি) সঙ্গে চুক্তি করে বিদ্যুৎ বিভাগ ও ডিএনসিসি। প্রকল্প বাস্তবায়নের শর্ত অনুযায়ী, ডিএনসিসি স্পন্সর কোম্পানিকে ৩০ একর জমি এবং দিনে তিন হাজার টন বর্জ্য সরবরাহ করবে। কিন্তু বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণের কাজ এখনো শুরু করতে পারেনি উত্তর সিটি করপোরেশন। অন্যদিকে, ডিএনসিসির ৫৪টি ওয়ার্ড থেকে প্রতিদিন বর্জ্য উৎপন্ন হয় দুই হাজার ৭০০ টন। অর্থাৎ ঘাটতি রয়েছে ৩০০ টন। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে এ প্রসঙ্গে ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, ইতোপূর্বে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের কোনো প্রকল্প গ্রহণ বা একনেকের অনুমোদন নেওয়া সম্ভব হয়নি। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর এক বছরের মধ্যে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের দুটি প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছি। এগুলোর বাস্তবায়ন কার্যক্রম চলছে।

‘আমিন বাজার ল্যান্ডফিল সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন প্রকল্পের মাধ্যমে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ অর্থাৎ ৪২.৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে বর্জ্যের পরিমাণ হ্রাসসহ আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রতিদিন উৎপাদিত প্রায় তিন হাজার টন সলিড বর্জ্য আধুনিক পদ্ধতিতে ব্যবস্থাপনা করা সম্ভব হবে।’

তিনি আরো বলেন, প্রকল্পটির ভূমি অধিগ্রহণের কাজ চলমান রয়েছে। এটি সম্পন্ন হলে যাবতীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ড গ্রহণ করা হবে। এছাড়া ‘আধুনিক যান-যন্ত্রপাতির মাধ্যমে সড়ক পরিষ্কার ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক কাজের উন্নয়ন প্রকল্পও গ্রহণ করা হয়েছে।

বাসাবাড়ি থেকে উৎপাদিত প্রতিদিনের বর্জ্য রাজধানীর আমিনবাজারের ল্যান্ডফিলে নেওয়া হয়। এ ল্যান্ডফিলের আয়তন প্রায় ৫০ একর। বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের চুক্তি অনুযায়ী ৫০ একর জমির পাশে আরো ৩০ একর জমি অধিগ্রহণ করবে ডিএনসিসি। সংস্থাটির সূত্রে জানা গেছে, নতুন ৩০ একর জমি অধিগ্রহণ করতে ৬০০ কোটির মতো টাকা প্রয়োজন। কিন্তু এ খাতে ডিএনসিসির কাছে আছে মাত্র ৩৭ কোটি টাকা। বাকি টাকা ছাড়ের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকল্পের অন্যান্য কাজ শেষপর্যায়ে থাকলেও এখন পর্যন্ত জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হয়নি। এ অবস্থায় জমি অধিগ্রহণ হলেই কেবল প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অর্থছাড়ের পর আগামী ফেব্রুয়ারির দিকে জমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু হবে বলে জানা গেছে। এরপর শুরু হবে মাঠপর্যায়ের কাজ। অর্থছাড়ের আগ পর্যন্ত জমি অধিগ্রহণ নিয়ে জটিলতা থাকছেই।

প্রকল্প বাস্তবায়নে আরেক বাধা বর্জ্যের ঘাটতি প্রসঙ্গে জানা গেছে, ঢাকা উত্তরের ৫৪টি ওয়ার্ডের বাসাবাড়ি থেকে প্রতিদিন বর্জ্য উৎপাদন হচ্ছে প্রায় দুই হাজার ৭০০ টন। যেখানে চুক্তি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে তিন হাজার টন বর্জ্য সরবরাহের কথা ডিএনসিসির। এ পরিমাণ বর্জ্য দিতে না পারলে প্রতি টনের জন্য ডিএনসিসিকে জরিমানা দিতে হবে তিন হাজার টাকা করে। তাই প্রকল্প বাস্তবায়নে বড় চ্যালেঞ্জ হবে বর্জ্য সরবরাহ করা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডিএনসিসির এক কর্মকর্তা জানান, প্রকল্পের জন্য এখনো জমি এবং অর্থ কোনটিই পাওয়া যায়নি। ৬৩০ কোটি প্রয়োজন হলেও ডিএনসিসির হাতে আছে মাত্র ৩৭ কোটি টাকা। এছাড়া চুক্তি অনুযায়ী বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে ডিএনসিসিকে ৩০ একর জমি এবং দিনে তিন হাজার টন বর্জ্য সরবরাহ করতে হবে। প্রয়োজনীয় বর্জ্য সরবরাহ করতে না পারলে ডিএনসিসিকে প্রতি টন ঘাটতি বর্জ্যের জন্য তিন হাজার টাকা হারে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। প্রকল্পটি অত্যন্ত জটিল। তবে আমরা অগ্রগতির জন্য কাজ করছি।


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১