আপডেট : ০৮ November ২০২১
পদ্মা সেতু নিয়ে অপপ্রচারকারী সেই বোরহানকে গ্রেপ্তারে ইন্টারপোলের সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। মাদারীপুরের শিবচরের বোরহান উদ্দীন দীর্ঘদিন ধরে সরকারের মেগা প্রকল্প পদ্মা সেতু নিয়ে দেশ-বিদেশে ব্যাপক অপপ্রচার করছে। দেশে এক সময় সে গ্রেপ্তারও হয়েছিল। গ্রেপ্তারের পর জামিনে বেরিয়ে সে পালিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে চলে যায়। সেখান থেকেও অপপ্রচার চালাতে থাকে। সম্প্রতি পদ্মা সেতু এলাকায় কিছু ভারতীয় নাগরিক গ্রেপ্তারের পর বোরহানের সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পেয়েছে পুলিশ। তাই তাকে গ্রেপ্তারে ইন্টারপোলের সাহায্য চাওয়া হচ্ছে। পুলিশ সদরদপ্তরের একটি সূত্র এ সব তথ্য নিশ্চিত করেছে। জানা যায়, পদ্মা বহুমুখী সেতুর শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্ত থেকে দুবছরে ১৫ ভারতীয় নাগরিককে আটক করা হয়। অনুপ্রবেশের অভিযোগে করা মামলায় তারা এখন কারাবন্দি। আচরণ ও বেশভূষা সন্দেহজনক হওয়ায় তাদের আটক করা হয়। একের পর এক এমন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সেতুর বিভিন্ন পয়েন্টে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে; বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি। শরীয়তপুরের জাজিরা থানা পুলিশ জানিয়েছে, সেনাবাহিনীর ৯৯ কম্পোজিট ব্রিগেডের অধীনে দায়িত্বপ্রাপ্ত ২৮ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সদস্যরা প্রকল্পের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন। জাজিরা প্রান্তে পদ্মা সেতুর কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড এলাকায় নিয়মিত টহলের সময় সন্দেহজনক আচরণ দেখে গত ২১ মাসে ১৫ ভারতীয়কে আটক করেন সেনা সদস্যরা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর তাদের জাজিরা থানায় হস্তান্তর করা হয়। আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বিভিন্ন সংস্থার একাধিক কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিকভাবে তাদের বেশভূষায় পাগল মনে হলেও জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বেশিরভাগকেই পাগল মনে হয়নি। কারণ তাদের বেশিরভাগই নিজের দেশ, বাড়ি, জেলা ও গ্রামের নাম পর্যন্ত বলতে পারছেন। শুধু তা-ই নয়, তারা তাদের পরিবারের সদস্যদের নামও বলেছেন। তবে এই ১৫ জনের মধ্যে চারজনের কাছ থেকে কোনো তথ্যই পাওয়া যায়নি। এ কারণে এই চারজনকে অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবেই আদালতে পাঠানো হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা বলেন, পার্শ্ববর্তী একটি দেশের বিভিন্ন রাজ্য থেকে আসা এসব সন্দেহভাজনের বেশভূষা, কথাবার্তা, আচার-আচরণে পাগলামির ভাব থাকলেও তাদের সবাইকে পাগল মনে হয়নি। কারণ তাদের ছেঁড়া পোশাক, উসকোখুশকো চুল থাকলেও হাত ও পায়ের নখ পরিপাটি। ভারতের যেসব রাজ্য থেকে তারা আসার কথা বলেছেন, সেগুলোর কোনো কোনোটির দূরত্ব হাজার মাইলেরও বেশি। এত দূর থেকে তারা কেন বাংলাদেশের শরীয়তপুরের জাজিরায় পদ্মা সেতু এলাকায় এসেছেন, তদন্ত সংশ্লিষ্টরা তা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন। জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুবুর রহমান বলেন, বিভিন্ন সময়ে সেনাবাহিনীর টহল দল পদ্মা সেতুর কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড এলাকা থেকে আটক করে আমাদের কাছে হস্তান্তর করে। আমরা তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর ১৯৫২ সালের কন্ট্রোল অব এন্ট্রি অ্যাক্টের ৪ ধারায় অনুপ্রবেশের অভিযোগে মামলা করে আদালতে পাঠাই। তাদের সবাইকে আদালতের মাধ্যমে শরীয়তপুর কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এদের কয়েকজন তাদের নাম প্রকাশ করেনি। তাই আমরা তাদের অজ্ঞাতনামা করেই আদালতে পাঠিয়েছি। এদের জন্য ভারতীয় হাইকমিশন থেকে এখনো কেউ আমাদের কাছে আসেনি। এমনকি তাদের পরিবারের কোনো সদস্যও আসেনি। এদিকে পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, ২০১৯ সালের মাঝামাঝি সময়ে পদ্ম সেতুর জাজিরা প্রান্তের মাগরখন্ডে বোরহান উদ্দিনের কিছু জমি ছিল। সরকার সেটি অধিগ্রণের সিদ্ধান্ত নেয়। তৎকালীন সময়ে জমির মূল্য হিসেবে প্রায় ১০০ কোটি টাকার মতো হয়। সরকারিভাবে সেটি দেওয়ারও সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু ওই সময়ে এ সিদ্ধান্ত না মেনে পদ্মা সেতু সম্পর্কে অপপ্রচার ও প্রশাসনকে বিষোদগার করতে থাকে সে। বারবার তাকে এ বিষয়ে সতর্ক করা হলেও এর বিরোধিতা থেকে ফিরে আসেনি। এমনকি সরকারি কাজকে বাধাগ্রস্ত করতে নানা রকম ষড়যন্ত্র করতেও থাকে। এক পর্যায়ে তাকে গ্রেপ্তারও করা হয়। গ্রেপ্তারের জামিনে বেরিয়ে এসে তার ষড়যন্ত্র অব্যাহত থাকে। ঢাকার কামরাঙ্গীচর এলাকায় এসে সরকারবিরোধী একটি গোষ্ঠীর সঙ্গে মিশে গিয়ে সেখান থেকেও নানা অপপ্রচার চালাতে থাকে। পুলিশ আবারো তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালায়। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে সে ভারতে চলে যায়। এখন ভারতে বসেও সরকারবিরোধী নানা রকম অপপ্রচার চালাচ্ছে। গোয়েন্দা সূত্র বলছে, আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে ভারতে থাকা সেই বোরহান উদ্দীনের সংশ্লিষ্টতার তথ্য আসছে। এ কারণে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য কাজ করা হচ্ছে। যেহেতু সে এখন দেশের বাইরে অবস্থান করছে সুতরাং ইন্টারপোলের সাহায্য নেওয়া হবে। এর জন্য প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিরাজ হোসেন বলেন, বোরহান উদ্দিনের ব্যাপারে আমাদের কাছে ফাইল রয়েছে। আমরা তাকে গ্রেপ্তারের জন্য অনেক চেষ্টাও করেছি। কিন্ত তাকে আমরা পরে পাইনি। তবে এখন কোথায় আছে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, যতটুকু জানা যাচ্ছে এখন ভারতে অবস্থান করছে। তার ব্যাপারে দেশের বিভিন্ন ইমিগ্রেশনে তথ্য দিয়েছি। দেশে আসা মাত্রই যেন আইনের আওতায় আনা যায় সে ব্যাপারে আমরা পদক্ষেপ নিয়ে রেখেছি। মাদারীপুর জেলার পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা রাসেল বলেন, বোরহান উদ্দিনের ব্যাপারে পুলিশের পাশাপাশি অন্য বাহিনীর নিকটও তথ্য রয়েছে। দেশের বাইরে বসে যারা নানা ষড়যন্ত্র মিথ্য বলে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে তাদের মধ্যেও সে রয়েছে। দেশে আসলে অবশ্যেই আইনের মুখোমুখী হতে হবে তাকে। তিনি বলেন, ভারতীয় নাগরিকদের জিজ্ঞাসাবাদে তার সংশ্লিষ্টতার তথ্য রয়েছে। এ জন্য তাকে গ্রেপ্তারে ইন্টারপোলের সাহায্য নেওয়া হচ্ছে।
Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.
বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com
অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com
ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১