বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ০৯ November ২০২১

সরকারবিরোধী আন্দোলন

মাঠে নামছে বিএনপি, রূপরেখা ডিসেম্বরে


সরকারবিরোধী আন্দোলনের রূপরেখা চূড়ান্ত করে মাঠে নামছে বিএনপিসহ সমমনা রাজনৈতিক দলগুলো। আগামী ১৬ ডিসেম্বরের পর আন্দোলনের রূপরেখা জনগণের মাঝে তুলে ধরবে দলগুলো।

মূলত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতেই তারা যুগপৎ আন্দোলনের জন্য মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে। জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারসহ নির্বাচন কমিশনকে ঢেলে সাজাতে সংবিধান অনুযায়ী আইন প্রণয়ন করার বিষয়টি তাদের রূপরেখায় উল্লেখ থাকবে বলে জানা গেছে।

এ দাবি বাস্তবায়নে তারা সরকারের পদত্যাগের বিষয় নিয়ে জনগণের ঐক্য করতে বৃহত্তর রাজনৈতিক মঞ্চ গঠন করবে। এ বিষয়ে বিএনপির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক না হলেও অনানুষ্ঠানিক আলোচনা করেছে রাজপথে থাকা বাম ও ডানপন্থি রাজনৈতিক দলগুলো। শুরুতেই তারা নিজ নিজ দলের অবস্থান থেকে যুগপৎ আন্দোলন করার জন্য ঐক্যমতে পৌঁছেছে। একাধিক রাজনৈতিক সূত্র থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলেছে, আগামী ১৬ ডিসেম্বরের পর তত্ত্বাবধায়ক ইস্যুসহ অন্যান্য ইস্যু নিয়ে রাজনৈতিক দৃশ্যমান কর্মসূচিতে নামবে সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো।

১৪ দলীয় জোট আর ২০ দলীয় জোটের বাইরে ছোট রাজনৈতিক দলগুলো ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রক্রিয়া এগিয়েছে বহুদূর। বামধারার রাজনৈতিক দলগুলো বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে রাজপথে রয়েছে। পাশাপাশি তারা তাদের নিজ নিজ দলের সাংগঠনিক ভিত শক্ত গড়ার কার্যক্রম অব্যহত রেখেছে। ডানপন্থি দলগুলোও জেলা ও থানা পর্যায় জনমত গড়ে তুলতে ছোট ছোট ঘরোয় বৈঠক করেছে। বৃহত্তর রাজনৈতিক দল বিএনপিও তাদের সাংগঠনিক বিরাজমান জটিলত দূর করে ঘরগোছানোর কাজ অনেকটা শেষ করেছে।

আগামী ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে সরকারবিরোধী দলগুলো তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম শেষ করে জাতীয় সমাবেশে ডাকতে পারে। আর ওই সমাবেশ থেকে বড় একটি রাজনৈতিক জোট বা মোর্চা কিংবা জনগণের ঐক্যমঞ্চ নামে একটি জোটের আত্মপকাশ ঘটতে পারে আভাস দিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রটি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার ইস্যুকে সামনে রেখে ঐক্যবদ্ধ হতে চাইছে সরকারবিরোধী সব দল। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মোশাররফ হোসেন কৌশলে বলেন, ‘নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে সব রাজনৈতিক দলের ঐক্য সময়মতো হবে। জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার জন্য আন্দোলন লড়াই সংগ্রামও সময় মত হবে।

তিনি বলেন, ‘দেশ ও জাতীর স্বার্থে যে-কোনো ঐক্য এগুলো সময়ের চাহিদায় হয়ে থাকে। জোর করে কিংবা মেকানিজিয়াম করে ঐক্য হয় না।’

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘ভোটাধিকার নিশ্চিত করার দাবি নিয়ে লড়াইটি বামধারার রাজনৈতিকদলের একক নয়। এই দাবিতে সকল দলেরই দায়িত্ব কর্তব্য রয়েছে। বিএনপি তার প্লাটফরম থেকে কথা বলবে এটিই স্বাভাবিক।’

তিনি বলেন, ‘দেশের গণতন্ত্র রূপান্তরিত এবং জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার দাবিতে বৃহত্তর আন্দোলন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো তাদের ঘর গুছিয়ে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়বে। এ জন্য হয়ত একটু সময় লাগছে।’

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘বিএনপির সঙ্গে আন্দোলনের বিষয় নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বৈঠক বা আলোচনা হয়নি। তবে বিএনপির মতো বড় দল জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার দাবি নিয়ে মাঠে নামলে আমরা ভরসা পাই।’

তিনি আরো বলেন, ‘২০১৮ সালের নির্বাচনের পর সব দলই আলাদা আলাদাভাবে কাজ করছে। আর সবাই বুঝতে পেরেছে সকল দল মিলে একটা মঞ্চ হবে না। তবে বিভিন্ন মঞ্চ থেক যুগপৎ আন্দোলন করতে হবে। এই ঐক্য কাঠামোগত এবং কৌশলগত ভাবে ঐক্যগড়ে তুলতে হবে।’

গণসংহতি আন্দোলনের নেতা জুনায়েদ সাকি বলেন, ‘ভোটাধিকার নিশ্চিত করার জন্য যে লড়াই সংগ্রাম তা থেমে নেই। আন্দোলন এগুচ্ছে। এই দাবিসহ অন্যান্য জাতীয় দাবি নিয়ে যুগপৎ আন্দোলন করা বিষয়টি নিয়ে সকল দলের নেতৃবৃন্দেও সাথে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা হচ্ছে। তবে আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘আন্দোলন সংগ্রাম করা গণতান্ত্রিক অধিকার। যেন জনগণ তাদের ন্যয্য কথা বা দাবি করতে না পারে সে জন্য সরকার নানা ধরনের তৎপরতা চালাচ্ছে। একটি অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি নিয়ে রাজপথে নামলে সরকার যে কোনো একটি ইস্যু সৃষ্টি করে জনগনের দৃষ্টি সরিয়ে ফেলে। ফলে বিভিন্ন ইস্যুতে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়লে তা আবার থেমে যায়। তবে সময় এসেছে সকল শ্রেণির মানুষের ও সংগঠনের বিভিন্ন দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলন শিগগিরই একটি মোহনায় এসে দাঁড়াবে।’

তিনি বলেন, ‘রাজপথে আন্দোলনের মধ্য দিয়েই একটি বৃহত্তর ঐক্য হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আগামী ১৬ ডিসেম্বরের পর দেশের গণতন্ত্র রূপান্তরের জন্য জনগণের সামনে একটি রূপরেখা তুলে ধরা হবে।


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১