বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ২৯ November ২০২১

বাউৎ উৎসবে মানুষের ঢল


ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি

কুয়াশার কাছে না গেলে বিলের মধ্যে কী হচ্ছে সেটা বোঝা বড়ই দুরূহ ব্যাপার। হেমন্তের সকালে বিল অভিমুখে মানুষের ঢল নেমেছে। ভোরের আকাশে উঁকি দেয় সূর্য। ধীরে ধীরে পরিষ্কার আলোয় দেখা মেলে বাউৎ উৎসবে মানুষের ঢল। প্রতি বছরই এই সময়ে দেশের নানা প্রান্ত থেকে ছুটে আসেন হাজারো মানুষ ঐতিহ্যবাহী এই বাউৎ উৎসবে যোগ দিতে। পলো, ধর্মজাল, চাকজাল, ঠেলাজালসহ নানা ধরনের মাছ ধরার উপকরণ নিয়ে সবাই নেমে পড়েছে অর্ধপানিতে। মাছ ধরার এই উৎসব যেন একে অপরের মিলনমেলায় রূপ নিয়েছে। কেউ ঠান্ডায় জবুথবু অবস্থা। আবার কেউ মাছ ধরতে পেরে আনন্দ উল্লাস করছেন। বাউৎ উৎসবের হাসি যেন সবার মুখেই বরণ করছেন। চাটমোহর-ভাঙ্গুড়া সীমান্তবর্তী রুহুল বিলে গিয়ে দেখা গেছে এম চিত্র।

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর থেকে আব্দুল্লাহ নামের এক ব্যক্তি এসেছেন শীতের রাতে মাছ ধরার নেশায়। এই বিলে বাউৎ উৎসব হয়। এটা দেশের অনেক এলাকার মানুষ জানেন। শখ করে বাউৎ উৎসবে যোগ দিয়ে মাছ শিকার করতে পেরে তিনি ভুলে গেছেন দূরের পথ থেকে শীতের রাতে এই বিলে আসার কথা। চাটমোহরের বামনগ্রামের হাফিজুর রহমান। তিনি মাছ কপালে। ছোটবেলা থেকে এই বিলের বাউৎ উৎসব শুরু হলেই তিনি ছুটে আসতেন মাছ ধরতে। মাছ ধরতে এসে তিনি কখনো নিরাশ হননি। রুহুল বিলে নামলে তিনি মাছ না নিয়ে কখনো বাড়ি ফিরে যাননি। পলো দিয়ে তিনি ছয় কেজি গজার মাছ ধরেছেন। মাছ পেয়ে বড়ই খুশি মনে বারেবারে পলো চালিয়ে যাচ্ছেন।

ভাঙ্গুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ আশরাফুজ্জামান বলেন, দ্বৈত উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকাই হলো- রুহুল বিল। শুনেছি প্রতি বছরের এই সব সময়ে এই বিলে বাউৎ উৎসব হয়। হাজার হাজার মানুষ আসেন বাউৎ উৎসবে যোগ দিতে। এটি এ অঞ্চলের মানুষে অতীত ঐতিহ্য সংরক্ষণ করে। তিনি বলেন, দেশীয় প্রজাতির মাছ রক্ষায় বর্তমান সরকার আন্তরিকতার সঙ্গে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এই অতীত ঐতিহ্য যেন নষ্ট না হয় সে বিষয়ে সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে।


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১