বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ০৪ December ২০২১

টায়ার পোড়ানোর বিষাক্ত ধোঁয়ায় বিপর্যস্ত পরিবেশ


ফেনী সদর উপজেলার পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নে কাশিমপুরে লঙ্কা পাওয়ারের দুই পাশে গড়ে উঠেছে দুটি অবৈধ টায়ার পোড়ানোর কারখানা। এসব কারখানায় গাড়ি পরিত্যক্ত টায়ার পুড়িয়ে জ্বালানি তেল তৈরি করা হচ্ছে। এতে বাতাসে ছড়াচ্ছে কার্বন মনো-অক্সাইড, নাইট্রোজেন ও মিথেনসহ ১৬ ধরনের ক্ষতিকারক রাসায়নিক গ্যাস। গত তিন বছর ধরেই এ অসহ্য যন্ত্রণা ভোগ করে আসছেন চারপাশের মানুষ। এর থেকে পরিত্রাণ পেতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনে বার বার জানিয়েও কোনো ফল পাননি। কারখানার বিষাক্ত ধোঁয়ায় পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন পরিবেশ বিশেষজ্ঞরাও। পরিবেশ অধিদপ্তর বলছে, কারখানাগুলো অবৈধ। তবে পরিবেশ অধিদপ্তর তাদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত আইনগত কোনো ব্যবস্থা নেননি। এদিকে পরিবেশ দূষণ নিয়ে স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ পর্যন্ত ছয়টি মামলা হয়েছে। আদালত পরিবেশ অধিদপ্তরকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ প্রদান করলেও নির্দিষ্ট সময়ে মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি। পরিবেশ অধিদপ্তর আদালত থেকে সময় প্রার্থনা করেছেন উপপরিচালক সাইদুর রহমান।

জানা গেছে, চলতি বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর দাগনভূঞা দাদনা খাল দূষণে বিষয়ে স্পেশাল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে প্রথম মামলা হয়। ৪ অক্টোবরের মধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালককে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেন আদালত। দুই মাস পার হলেও তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি পরিবেশ অধিদপ্তর। এভাবে একে একে পরিবেশ দূষণ নিয়ে ছয়টি মামলা হয়। তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে গড়িমসি করে।

জায়লস্কর বিজিবি ক্যাম্পের পশ্চিম পাশে একটি অবৈধ কারখানাটি জনবসতিপূর্ণ এলাকার মধ্যে গড়ে উঠেছে। এই কারখানায় প্রতিদিন অবাধে টায়ার পোড়ানো হচ্ছে। পাশে ফসলি জমিতে কোনো ফসল নেই। দূষিত গন্ধে কৃষকদের জমিতে আসতে কষ্ট হয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, উম্মুক্ত স্থানে টায়ার পোড়ানোর ফলে তৈরি হচ্ছে বিষাক্ত গ্যাস। বাতাসের সঙ্গে মিশে গ্রামে ছড়িয়ে পড়ছে এই বিষাক্ত গ্যাস। উৎপন্ন বিষাক্ত গ্যাসে আশপাশের ঘর-বাড়ি গাছপালা বিবর্ণ হয়ে গেছে। গাছের ফলগুলো অকালে ঝরে যাচ্ছে। কারখানার পোড়া তেলে কৃষি জমিতে করে ফসল উৎপাদন হচ্ছে না। টায়ার পোড়ানোর গন্ধে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী।

মিয়াজি বাড়ির কামাল উদ্দিন জানান, শতাধিক লোক স্বাক্ষরিত লিখিত অভিযোগ জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, ফেনীর পরিবেশ অধিদপ্তরে দিয়েছি। কোনো ফল মিলেনি। এলাকায় বসবাস করতে চরম কষ্ট হচ্ছে।

এ বিষয়ে এক কারখানা পরিচালক শিব্বির আহম্মদ বলেন, কিছুদিনের মধ্যে পরিবেশের ছাড়পত্র পেয়ে যাচ্ছি। তখন কারখানাটি বৈধ হয়ে যাবে। এ কারখানা দিয়ে দেশের উন্নতি হচ্ছে। তা ছাড়া রাতে মেশিন চালানোয় এলাবাসীর ক্ষতি হচ্ছে না। কারখানাটি পরিবেশবান্ধব করার প্রক্রিয়া চলছে।

ফেনী পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক ফয়জুল কবির বলেন, গত বুধবার গ্রামবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে শুনানি হয়েছে। শুনানিতে কারখানার মালিক শিব্বির আহম্মদকে দুই মাসের সময় দিয়েছি। দুই মাসের মধ্যে কারখানা পরিবেশবান্ধব করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ছয়টি মামলার তদন্ত রিপোর্ট এখনও জমা দেওয়া হয়নি। আদালতে সময় বাড়ানোর আবেদন করা হয়েছে।


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১