আপডেট : ১২ December ২০২১
রাজধানীর বাড্ডার জেনেরেটর ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম টুটুল। গত ১২ নভেম্বর তাকে ফোন করে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে সন্ত্রাসীরা। এজন্য তারা দুদিন সময়ও বেঁধে দেয়। ১৪ নভেম্বর তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আসে দুই যুবক। এসে চাঁদার টাকা চায়। এ সময় তিনি চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে তার সামনেই ফাঁকা গুলি করে। তারা আরো দুদিনের সময় দিয়ে চলে যায়। এ ঘটনার পর টুটুল থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। এ ঘটনা বাড্ডার ব্যবসায়ীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে আতঙ্ক দেখা যায়। ব্যবসায়ীরা এখন আতঙ্কের মধ্যেই দিন কাটাচ্ছেন। সেই সাথে টুটুলের কর্মজীবনেও নেমে এসেছে স্থবিরতা। এক ছেলে মেয়ের সংসারী টুটুল ভয়েই বাড়ি থেকে বের হতে পারছে না। শুধু টুটুল নয়, বাড্ডার এ রকম আরো কয়েক ব্যবসায়ীকে চাঁদা চেয়ে দেওয়া হয়েছে হুমকি। বাড্ডা ছাড়াও গুলশান, ভাটারা, খিলগাঁও, রামপুরা এবং তেজগাঁও এলাকার কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ীদের চাঁদা চেয়ে হুমকি দেওয়া হয়েছে। অনেকেই প্রাণভয়ে টাকাও দিয়েছেন আবার অনেকে থানা এবং গোয়েন্দা পুলিশের নিকট দিয়েছেন অভিযোগ। অভিযোগের পর চাঁদাবাজ এই গ্রুপকে গ্রেপ্তার ও অস্ত্র উদ্ধারে কাজ করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক দল। গোয়েন্দা পুলিশের একটি সূত্র জানায়, দুবাই ও আমেরিকা থাকা সন্ত্রাসী আশিক, ডালিম, রবিন ও মেহেদি এদের কিছু সহযোগী হঠাৎ করেই মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। তারাই এগুলো করছে। বিশেষ করে বাড্ডা, রামপুরা ও খিলগাঁয়ের কিছু ব্যবসায়ীদের টার্গেট করে তারা চাঁদাবাজি করছে। সূত্র জানায়, ওই সন্ত্রাসীদের সহযোগী হিসেবে থানা এলাকার দলীয় কিছু ইউনিটের সদস্য রয়েছে। এরাই স্থানীয়ভাবে ময়লার ব্যবসা, ডিস ও ইন্টারনেট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে। এরাই মূলত তাদের সহযোগী হিসেবে এ কাজগুলো করে যাচ্ছে। সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। নজরদারি মধ্যেও রয়েছে। দ্রুতসময়ের মধ্যে আইনের আওতায় আনা হবে। খিলগাঁও এলাকার ব্যবসায়ী আলম রহমান বলেন, নভেম্বর মাসের শুরু থেকে এ ধরনের ঘটনা শুরু হয়েছে। দিন-রাতে ব্যবসায়ীদের নম্বরে ২ থেকে ৫ লাখ টাকা করে চাঁদা দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি এই চাঁদা দেওয়ার জন্য তারাই সময় বেঁধে দিচ্ছে। নির্ধারিত দিনের মধ্যে চাঁদা দিলে আর কোনো সমস্যা করছে না। তবে কেউ যদি চাঁদা না দেয় তবে প্রকাশ্যই হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তার বাসা বা দোকানের সামনে গিয়ে ফাঁকি গুলি ছোঁড়ে আতঙ্ক তৈরি করা হচ্ছে। রামপুরার ব্যবসায়ী সুমন জানান, গত কয়েক বছর আগে এই এলাকার অন্যতম শীর্ষ সন্ত্রাসী ভাগিনা তুষার তার মামা জেলে থাকা কাইল্যা পলাশের নাম করে চাঁদা দাবি করতো। বর্তমানে কাইল্যা পলাশ জেলে থাকায় আশিক ও রবিনের নাম করে একটি গ্রুপ চাঁদা চাচ্ছে। তিনি বলেন, যতটুকু শুনেছি কয়েকজন ব্যবসায়ীর নিকট চাঁদা দাবি করা হয়েছে। বর্তমানে এই ঘটনায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে এক প্রকার আতঙ্ক শুরু হয়েছে। অনেকেই আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। বাড্ডার ব্যবসায়ী আকতার মাহমুদ বলেন, টুটুলের ঘটনার পর সবাই এখন সতর্কভাবে চলাফেরা করছেন। অনেকের কাছেই চাঁদা দাবি করেছে সন্ত্রাসী গ্রুপগুলো। আমরা সবগুলো ঘটনা থানা পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশকে অবহিত করেছি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাড্ডা, ভাটারা ও গুলশানের অনেক ব্যবসায়ীই এখন আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। কেননা এর আগেও সন্ত্রাসীরা বাড্ডায় ফোর মার্ডারের মতো ঘটনা ঘটিয়েছে। যুবলীগের আহ্বায়ককে গুলি করেছে। আতঙ্ক ছড়ানোর জন্য বাসায় গুলি করেছে। এসব ঘটনার কারণে ব্যবসায়ীদের মধ্যে একটা আতঙ্ক কাজ করছে। রামপুরা থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, ব্যবসায়ীদের নিকট চাঁদা দাবির ঘটনা আছে। আমরা এ নিয়ে কাজও করছি। এছাড়া থানা এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গুলশান থানার পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম বলেন, ডিসিসি মার্কেটের কয়েকজন ব্যবসায়ী এ ধরনের ঘটনার কথা জানিয়েছেন। আমরা বিষয়টি দেখতেছি। ইতোমধ্যে ওই এলাকায় কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পোশাকে এবং সাদা পোশাকে পুলিশের টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে। বাড্ডা থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ বলেন, টুটুলের ঘটনার পর আমরা সবাই সতর্ক। বিষয়টি নিয়ে থানা পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশও কাজ করছে। তিনি বলেন, দেশের বাইরে পলাতক কিছু সন্ত্রাসী মাঝে মধ্যেই তাদের সহযোগীদের দ্বারা এমন ঘটনা ঘটায়। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পুরো এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার মশিউর রহমান বলেন, আশিক, রবিন, ডালিম ও মেহেদি এরা এখন এক হয়ে গেছে। ওয়ার্ড ও ইউনিট পর্যায়ের কিছু নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে আবার সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, আমাদের কয়েকটি দল বিভক্ত হয়ে এ চক্রকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। দ্রুতই তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। এক প্রশ্নের জবাবে গোয়েন্দা পুলিশের এ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, কেউ চাঁদা চাইলে দ্রুত থানায় যোগাযোগ করতে হবে। যাদের নিকট চাঁদা চাওয়া হয়েছে তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আতঙ্কিত বা উদ্বেগ না হয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরামর্শ দেন তিনি।
Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.
বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com
অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com
ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১