আপডেট : ১৫ December ২০২১
আগামীকাল মহান বিজয় দিবস। একইসঙ্গে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী উৎসব। এই তিন উপলক্ষ একসাথে উদ্যাপনে এক মহাউৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। এদিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে দেশজুড়ে লাল-সবুজসহ নানা রঙের বাতিতে সেজেছে সড়ক, স্থাপনা ও ভবনগুলো। বর্ণিল সাজে সেজেছে রাজধানী ঢাকাও। গতকাল সন্ধ্যা নামতেই রাজধানীর সরকারি ভবন, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি ভবন ঢেকে যায় লাল-সবুজের আলোয়। সচিবালয়, রাজউক, বাংলাদেশ ব্যাংক, সংসদ ভবন, বঙ্গভবন, গণভবন, নগর ভবন, টিএসসি, শাপলা চত্বরসহ বিভিন্ন স্থানে শোভা পাচ্ছে নানা রঙের বাতি। রাজধানীর বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা গেছে, লাল-সবুজের পতাকার আবহে রঙিন বাতিতে সাজানো হয়েছে বিভিন্ন সরকারি স্থাপনা। রঙের আলোকচ্ছটায় ঝলমলিয়ে উঠেছে বিভিন্ন এলাকা। সড়ক-মহাসড়কে বঙ্গবন্ধুর বিলবোর্ড, পোস্টার ও ফেস্টুনে ঢাকা। বিভিন্ন স্থানে আলো দিয়ে তৈরি করা হয়েছে প্রিয় লাল-সবুজ পতাকা। মনকাড়া এমন আলোকসজ্জায় মুগ্ধ হতে বাধ্য যে কেউই। তবে শুধু সরকারি স্থাপনাই নয়, ব্যক্তিগত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোও যোগ দিয়েছে এই আলোর মিছিলে। কোথাও কোথাও আবার আলোকসজ্জার মধ্য দিয়েই তুলে ধরা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু আর স্বাধীনতা। চারদিকে শুধু উৎসবের আমেজ। এদিকে, মুজিববর্ষ উদ্যাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি আযোজন করেছে ‘মহাবিজয়ের মহানায়ক’ প্রতিপাদ্যে দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের। আগামীকাল ১৬ ডিসেম্বর ও পরদিন ১৭ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রথমদিনের আয়োজনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। এছাড়া সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন ভারতের রাষ্ট্রপতি রাম নাথ কোবিন্দ। করোনা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে আয়োজিত এসব অনুষ্ঠানে ১০টি পয়েন্টে করোনা টেস্ট করে সার্টিফিকেটসহ দেশি- বিদেশি অতিথিরা অংশগ্রহণ করবেন। আগামীকাল প্রথমদিনের আয়োজনের শুরুতেই থাকছে শপথ অনুষ্ঠান। সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিচালনায় জাতীয় পতাকা হাতে দেশের সর্বস্তরের মানুষ শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। আর আলোচনা পর্বে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। এই অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ রেহানা কর্তৃক সম্মানিত অতিথিকে ‘মুজিব চিরন্তন’ শ্রদ্ধা স্মারক প্রদান করা হবে। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখবেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক ও স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। সব অনুষ্ঠান বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেতারের মাধ্যমে বিভিন্ন বেসরকারি চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচারের মাধ্যমে দেশ-বিদেশে প্রচার করা হবে। জানা যায়, ১৬ ডিসেম্বর বিকেল সাড়ে ৪টায় অনুষ্ঠান শুরু হয়ে চলবে রাত ৮টা পর্যন্ত। মাঝে ২৫ মিনিটের বিরতি। পরদিন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে। তার পরের দিনও অনুষ্ঠান থাকবে। জাতীয় স্মৃতিসৌধ থেকে শুরু করে বঙ্গবন্ধু ভবনেরও অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। আর জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে প্যারেড হবে আরো জাকজমকপূর্ণ। এদিকে জাতীয় পর্যায়ে কর্মসূচির মধ্যে ১৬ ডিসেম্বর ঢাকায় ভোরে বিজয়ের ৫০ বছরপূর্তি উপলক্ষে ৫০ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসটির সূচনা হবে। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। এরপর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর নেতৃত্বে উপস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ পরিবার, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। এছাড়া বাংলাদেশে অবস্থানরত বিদেশি কূটনীতিক, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের জনগণও ফুল দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন। এছাড়া সকাল সাড়ে ১০টায় তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দরে জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে সম্মিলিত বাহিনীর বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমভিত্তিক যান্ত্রিক বহর প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করবেন রাষ্ট্রপতি। প্রধানমন্ত্রীও এ কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী বাণী প্রদান করবেন। এ উপলক্ষে সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও স্থাপনা আলোকসজ্জায় সজ্জিত হবে। ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন শহরের প্রধান সড়ক ও সড়কদ্বীপে জাতীয় পতাকা ও অন্যান্য পতাকায় সজ্জিত করা হবে। ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিভিন্ন বাহিনীর বাদক দল বাদ্য বাজাবেন। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, বাংলা একাডেমি, জাতীয় জাদুঘর, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, বাংলাদেশ শিশু একাডেমিসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক আলোচনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শিশুদের চিত্রাঙ্কন, রচনা ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এবং মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের আয়োজন করা হয়েছে। বিজয় দিবস উপলক্ষে ‘জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ ও ডিজিটাল প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া মহানগর, জেলা ও উপজেলায় বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হবে। ডাক বিভাগও স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ করবে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও উপাসনার আয়োজন করা হবে। এতিমখানা, বৃদ্ধাশ্রম, হাসপাতাল, জেলখানা, শিশু বিকাশ কেন্দ্রসহ অনুরূপ প্রতিষ্ঠানসমূহে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। দেশের সকল শিশুপার্ক ও জাদুঘর বিনা টিকিটে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে এবং সিনেমা হলে বিনামূল্যে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শনী হবে। এদিন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের স্বাধীনতা স্তম্ভ ও ভূগর্ভস্থ জাদুঘরে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও ঐতিহ্যভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র ও পোস্টার প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে। এছাড়া জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে পুলিশ, এপিবিএন, এসএসএফ, পিজিআরের সমন্বয়ে চারস্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ভেন্যু এসবি, এসএসএফ, র্যাব ও ডিএমপির ডগ স্কোয়াড দিয়ে সুইপিং করা হবে। বিশেষ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সোয়াট ও বোম ডিসপোজাল ইউনিট সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে। এদিকে, বিজয় দিবসের ছুটির সঙ্গে দু-দিনের সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে মোট তিনদিন ছুটি পাচ্ছেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। টানা তিনদিনের ছুটির কারণে ইতোমধ্যে বাস, লঞ্চ ও রেল স্টেশনে যাত্রী বেড়েছে। অনেকে আগেই ঢাকা ছেড়েছেন বলে জানা গেছে। টানা তিনদিনের ছুটি পেয়ে এক সরকারি কর্মচারী বলেন, করোনার কারণে অনেক দিন ধরেই সেভাবে কোনো আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে বেড়ানো হয় না। সবকিছু খুলে দেওয়ার পর ছুটিও পাইনি। অনেকদিন পর বেশ একটু বড় ছুটি পাওয়া গেল। বুধবার ছুটি নিলে টানা চারদিন ছুটি পাওয়া যাবে। এই ছুটিতে গ্রামের বাড়ি খুলনায় যাবো।
Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.
বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com
অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com
ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১