বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ১৫ December ২০২১

সমন্বিত চাষাবাদে পেঁয়াজের ঘাটতি পূরণ সম্ভব


দেশে পেঁয়াজের চাহিদা ৩৫ লাখ টন। এই চাহিদা মেটাতে প্রতি বছর গড়ে ১০ লাখ টন পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়। কিন্তু সমন্বিত চাষাবাদে এই  ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই)-এর তথ্যে দেখা যায়, ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য দেশে শীত ও গ্রীষ্মকালীন মিলিয়ে মোট পেঁয়াজ উৎপাদনের লক্ষ্য ধরা হয়েছিল ২৯ লাখ ৫৫ হাজার ৩০০ টন; কিন্তু উৎপাদন হয়েছে ৩২ লাখ টন। ২০১৯-২০ অর্থবছরে দেশে পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছিল ২৫ লাখ ৬০ হাজার টন।

বাংলাদেশে মসলাজাতীয় ফসলের গবেষণা জোরদারকরণ প্রকল্প পরিচালক ড. শৈলেন্দ্র নাথ মজুমদার বলেন, আমাদের দেশে প্রতি বছর গড়ে ২ লাখ ৩৮ হাজার হেক্টর জমিতে গড়ে ২৫-২৮ লাখ টন পেঁয়াজ উৎপাদন হয়। নানা কারণে উৎপাদিত পেঁয়াজের ২৫-৩০ ভাগ নষ্ট হয়ে যায়। ফলে ঘাটতি পূরণ হয়ে যায় আমদানিনির্ভর। বৃদ্ধি পায় বাজার দর। ফলে দেশে নানা টানাপোড়েন তৈরি হয়।

এই মসলা গবেষক আরো জানান, বাংলাদেশের পেঁয়াজের গড় ফলন (১০.৮ টন হেক্টর প্রতি)-এর চেয়ে উন্নত জাতসমূহের গড় ফলন অনেক বেশি (১৪-২২ টন)। উচ্চফলনশীল জাতসমূহের আবাদ বাড়িয়ে গড় ফলন ৪-৫ লক্ষ টন বৃদ্ধি সম্ভব। দেশের প্রেক্ষাপটে বারি পেঁয়াজ-৪, বারি পেঁয়াজ-৫, বারি পেঁয়াজ-৬ এর গুণগত মান ও উৎপাদন বেশি হওয়ায় এ ধরনের পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়ছে। আমাদের যে ২ লাখ ৩৮ হাজার জমিতে পেঁয়াজ চাষ হয়, সেখানেই ভালো জাত আর উৎপাদন কলাকৌশলে পরিবর্তন আনলে, কৃষকদের একটু প্রশিক্ষণ দিতে পারলেই চার-পাঁচ লাখ টন উৎপাদন বাড়ানো যায়। বারির প্রধান এই বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা বলেন, আমাদের অন্যান্য ফসলের সঙ্গে, যেমন আখের ক্ষেতে, ভুট্টার ভেতর, আদা-হলুদের সঙ্গে পেঁয়াজ চাষ করা যায়। গরমের সময় কচুমুখির ক্ষেতে চাষ করা যায়। কুমিল্লা, রংপুর, দিনাজপুর, নওগাঁ ও বরেন্দ্র এলাকায় ভুট্টা, মুখিকচুর সাথে আন্তঃফসল হিসেবে চাষ করা যায়। এখন পেঁয়াজ চাষের উপযোগী এলাকাগুলোর কৃষকদের পরামর্শ দিতে হবে, তারা যেন অন্য ফসলের সঙ্গে পেঁয়াজও চাষ করেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিজি) মো. আসাদুল্লাহ বলেন, পেঁয়াজ উৎপাদন বৃদ্ধির করে আমদানিনির্ভরতা কমাতে আমরা কাজ করছি। মূলত তিনটি বিষয়ে কাজ করছি। প্রথমত এরিয়া বৃদ্ধি করা, দ্বিতীয়ত উৎপাদন বৃদ্ধি করা এবং তৃতীয়ত লস (পচে যাওয়া) কমানো। এখন আমাদের কাজ হলো কৃষককে ভারতীয় বীজ থেকে তৈরি চারা ও সার সরবরাহ করা।

তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য হলো পেঁয়াজে ভারতের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনা। আমরা সেটা অনেকটাই পেরেছি। চলতি বছর আরো বাড়বে। কারণ আমরা গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ উৎপাদনের জন্য ১৮ টন বীজ এনেছি। এর মধ্যে ১২ টন বীজের চারা তৈরি হয়ে গেছে।

ডিএইর তথ্যে দেখা যায়, ২০১৯-২০ অর্থবছরে মোট দুই লাখ ৩৮ হাজার হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ আবাদ করা হয়েছিল। গত অর্থবছরে ১৫ হাজার হেক্টর বেড়ে দুই লাখ ৫৩ হাজার হয়েছে। এর আগে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ছিল দুই লাখ হেক্টর। এ ছাড়া হেক্টরপ্রতি উৎপাদনও বেড়েছে গত মৌসুমে। আগের বছর প্রতি হেক্টরে পেঁয়াজের উৎপাদন ছিল প্রায় ১১ টন। গত মৌসুমে তা ১৩ টনের বেশি হয়েছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের বীজ উইংয়ের তথ্যানুযায়ী, কৃষককে প্রণোদনা হিসেবে ভারত থেকে আনা উন্নতজাতের পেঁয়াজের বীজ থেকে তৈরি চারা ও সার সরবরাহ করা হচ্ছে। বীজের অপ্রতুলতাই গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের চাষ সম্প্রসারণের অন্তরায়। আমাদের দেশে প্রতি বছর মোট ১১০০ টন পেঁয়াজের বীজের দরকার হয়। সরকারিভাবে ৫-৬ টন, বেসরকারিভাবে ৫০-৬০ টন পেঁয়াজ বীজ উৎপাদিত হয়। বাকিটা কৃষকরা উৎপাদন করেন, যা পুরোপুরি মানসম্মত নয়।

ড. শৈলেন্দ্র নাথ মজুমদার আরো বলেন, চর এলাকাসহ বাংলাদেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলের (সিলেট) রবি মৌসুমে অনাবাদী বিস্তীর্ণ এলাকা। মূলত আমন ধান কাটার পর সেচ সুবিধা না থাকায় এসব অঞ্চলে বোরো ফসলের আবাদ করা হয় না। এসব জমিতে পেঁয়াজ চাষ করা যায়। বাংলাদেশে বিস্তীর্ণ চর এলাকা রয়েছে। সেসব জমির অর্ধেক পরিমাণ যদি পেঁয়াজ উৎপাদনে কাজে লাগানো যায়, তাহলেই পেঁয়াজের ঘাটতি পুরোটা উৎপাদন করা সম্ভব।

বাংলাদেশের কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মসলা গবেষণা কেন্দ্র বর্তমানে পেঁয়াজের ছয়টি জাত অবমুক্ত করেছে। তার মধ্যে তিনটি জাত গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের জাত। সেগুলোর ভেতর বারি পেঁয়াজ-৫ সবচেয়ে ভালো।

 

  


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১