আপডেট : ২০ December ২০২১
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় গ্রাম উন্নয়ন কেন্দ্র নামে একটি এনজিও সংস্থা গ্রাহকদের অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে উধাও হয়ে গেছে । ভুক্তভোগী গ্রাহকরা এলাকায় ঋণ নিতে এসে ওই অফিস বন্ধ দেখতে পেয়ে তারা হতাশ হয়ে পড়েন। পৌর শহরের মসজিদ পাড়া (বাইপাস) এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এসময় ঋণগ্রহীতারা এনজিও অফিসের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান করেন। পরে হতাশ হয়ে তারা থানায় অবস্থান নেন। ভূক্তভোগীরা জানায়, গ্রাম উন্নয়ন কেন্দ্র নামে একটি এনজিও সংস্থাটির প্রায় ১ মাস ধরে একটি ভুয়া এনজিওর কয়েকজন মাঠকর্মী পৌরশহরসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঋণ দেওয়ার নামে প্রচারণা শুরু করেন। তারা আগ্রহী গ্রাহকদের কাছ থেকে অগ্রিম সঞ্চয় বাবদ ১০ হাজার ২৫০ টাকা করে উত্তোলন করেন। সোমবার ঋণ দেওয়ার কথা ছিল। ওই দিনই গ্রাহকদের টাকা নিয়ে লাপাত্তা হয়ে যায় তারা। এতে করে শতশত গ্রাহক পথে বসে। গ্রাম উন্নয়ন কেন্দ্র নামে একটি এনজিও সংস্থাটির গ্রাহক ছিলেন কৃষক,ব্যবসায়ী,দিনমজুরসহ এলাকার সহজ সরল সাধারণ লোকজন। অতি সহজে অভাব দূর করতে ধার দেনা করে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের অনেক লোকজন ওই সমিতির গ্রাহক হয়। গ্রাম উন্নয়ন কেন্দ্র নামে একটি এনজিও সংস্থার লোকজন অত্যন্ত সুকৌশলে গ্রাহকের জামানতের অর্ধকোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়ে যায়। গ্রাম উন্নয়ন কেন্দ্র নামে একটি এনজিও সংস্থার প্রধান ছিলেন মো. মোক্তার হোসেন। তার অধীনে ৪ জন কর্মী ছিল। তারাই মূলত এলাকার লোকজনকে নানা কৌশলে বুঝিয়ে গ্রাহক করাতেন। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে শতশত নারী পুরুষ অফিসের সামনে জড়ো হয়। এসময় তাদের মধ্যে অনেককে কাঁদতে ও দেখা যায়। সদস্যদের ধার দেনা করে আনা টাকা কিভাবে পরিশোধ করবেন এখন এ চিন্তাই তারা অস্থির হয়ে পড়েছেন। পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকরা আখাউড়া থানায় মৌখিকভাবে অভিযোগ করেন। এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, মসজিদপাড়া আলেক মিয়ার বাড়িতে মো. মোক্তার হোসেন নামে এক ব্যক্তি গ্রাম উন্নয়ন কেন্দ্র নামে একটি এনজিও সংস্থাটির কার্যক্রম পরিচালনা করতে বাড়ি ভাড়া নেয়। গত ১ মাস ধরে চলে তাদের কার্যক্রম। সকালে ওই অফিসে এসে গ্রাহকরা দেখতে পান এটি তালাবদ্ধ অবস্থায় আছে। নেই কোন সাইনবোর্ডও। সাইনবোর্ড সরিয়ে ফেলে কর্মীরা রাতের আধারে পালিয়ে যায়। সহজ শর্তে ঋণ থাকায় স্বল্প সময়ে অসংখ্য সদস্য তৈরী করেন তারা। মূলত তারা সমাজের অতি দরিদ্র ও খেটে খাওয়া লোকজনকে টার্গেট করে এই সমিতির কার্যক্রম চালায়। ধরখার এলাকার আব্দুর রৌফ জ্যোতি আক্তার বলেন, এই এনজিও সংস্থার কর্মীরা তাদের বাড়িতে গিয়ে সহজ শর্তে জনপ্রতি ১লাখ টাকার ঋণ দেবেন এমন অজুহাতে ওই গ্রামের প্রায় ১০ জন সদস্য সংগ্রহ করে। সদস্য প্রতি অগ্রিম সঞ্চয় হিসাবে ১০ হাজার টাকা এবং সদস্য ফি বাবদ ২৫০ টাকা উত্তোলন করেন। তারা আর জানায়, কর্মসংস্থানের কথা ভেবে ঋণ এবং, গরু ছাগল বিক্রি করে এনজিও কর্মীদের সঞ্চয়ের টাকা পরিশোধ করেন তারা। সোমবার ঋণ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেখানে এসে কাউকে দেখতে না পেয়ে তাদের সন্দেহ হয়। আসবাবপত্র পড়ে আছে। অফিসটি তালা বন্ধ অবস্থায় দেখে তারা দিশাহারা হয়ে পড়েন। অফিসের লোকজনদের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় শত চেষ্টা করেও সদস্যরা যোগাযোগ করতে পানেনি। মো. রাজু মিয়া বলেন, বহু কষ্টে ঋণ করে এই সংস্থাটির যাবতীয় শর্ত মেনে সদস্য হয়। সকালে ঋণ নিতে এসে তিনি দেখতে পান অফিস তালাবদ্ধ আছে। এখন কিভাবে ঋণের টাকা পরিশোধ করবেন তা ভেবে পাচ্ছেন না। স্বল্প সময়ে পৌর শহরের দেবগ্রাম, রাধানগর, মসজিদ পাড়া, শান্তিনগর, কলেজপাড়া, উপজেলার আজমপুর, আমোদাবাদ,হিরাপুর, আনোয়ারপুর, ধরখারসহ বিভিন্ন এলাকার অনেক লোকজনকে তারা সদস্য করেন। গ্রাহকদের আস্থা অর্জন করতে তারা নানা মুখি উন্নয়নের কথা বলেন। সদস্যরা লোভে পড়ে তাদের অভাব গুচাতে ধারদেনা, রিকসা আর গাভী বিক্রি করে করে তাদের কাছে জামানতের টাকা দিলে সুযোগ বুঝে টাকা নিয়ে তারা উধাও হয়ে যায়। আখাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো: মিজানুর রহমান বলেন, ভূক্তভোগীরা থানায় এসে মৌখিকভাবে বিষয়টি জানিয়েছেন। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.
বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com
অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com
ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১