বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ২৩ December ২০২১

রক্ত দিয়ে জীবন বাঁচান সাংবাদিক বিশ্বজিৎ পাল


সংবাদ পত্র হচ্ছে সমাজ দেশ ও জাতির বিবেক। আর সংবাদপত্রে কাজ করে দেশের চিত্র সমাজের মানুষের কাছে তুলে ধরতে নিরলস ভাবে কাজ করছেন সংবাদকর্মীরা। যারা সংবাদ পত্রে কাজ করেন তাদের নেশাই হলো সঠিক সংবাদ মানুষের কাছে তুলে ধরা।

পত্রিকার কাজ করার সুবাধে সকাল থেকে রাত পযর্ন্ত এলাকায় কোথাও কি ঘটছে সে বিষয়ে খোঁজ খবর রাখছেন। কলমে বাদ পড়ছে না নানা বিষয়ে অনুসন্ধানী সংবাদও। সংবাদ ফেরিওয়ালার পাশাপাশি এলাকার অসহায় মানুষদেরকে রক্ত দিয়ে জীবন বাঁচাতে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন বিশ্বজিৎ পাল বাবু নামে এক সাংবাদিক। বিশ্বজিৎ পাল বাবু ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌর শহরের রাধানগর এলাকার বাসিন্দা ও কালের কন্ঠের জেলা প্রতিনিধি।

ইতিমধ্যে তিনি অন্তঃত ১০ জনকে অসুস্থ রোগীকে রক্ত দিয়ে জীবন বাঁচিয়েছেন। এ পযর্ন্ত পৌর শহরসহ উপজেলা-জেলায় কমপক্ষে দেড় শতাধিক অসুস্থ রোগীকে তিনি রক্ত সংগ্রহ করে দিয়েছেন। সাংবাদিকতার পাশপাশি অসহায় মানুষদেরকে রক্ত দিয়ে জীবন বাঁচাতে দিন রাত কাজ করে যাচ্ছেন। তবে রক্ত দিতে গিয়ে সুখকর স্মৃতিও রয়েছে আবার কষ্টেরও স্মৃতি আছে তার।

রক্ত ছাড়া মানুষ বাঁচতে পারে না। অধিকাংশ মানুষ অসুস্থ রোগীর প্রাণ বাঁচাতে রক্তের জন্য বিভিন্ন জায়গায় ছুটে বেড়ায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, মোবাইলফোনসহ বিভিন্ন ভাবে রক্তের প্রয়োজনের খবর পাওয়া মাত্রই তিনি জীবন বাঁচাতে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে রক্ত দিতে ছুটে চলে যান তিনি। ইতিমধ্যে তিনি এলাকায় বেশ পরিচিতি লাভ করেছেন। তিনি হলেন এক প্রকার রক্তের ফেরিওয়ালা। মানুষের প্রয়োজনে পাশে দাঁড়িয়ে রক্ত দিয়ে মুখে হাঁসি ফুটিয়ে তোলা যেন তার নেশা। তিনি গত প্রায় ৩ বছর ধরে এ মহত কাজ করে আসছেন। তিনি শুধু রক্তদান আর সংগ্রহতেই সিমাবদ্ধ নয় পাশাপাশি সমাজের নানামুখি উন্নয়ন মূলককাজে নিয়মিত জড়িত রয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও অনলাইনের মাধ্যমে মূলত রক্ত সংগ্রহ কার্যক্রম তিনি করছেন। রক্তের প্রয়োজন খবর শুনা মাত্র সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে মানব কল্যাণে কাজ করছেন। জেলা-উপজেলার কোন হাসপাতালে রোগী রক্তের কোন সমস্যায় পড়লে খবর পাওয়া মাত্র ছুটে গিয়ে জীবন বাঁচাতে রক্ত দিয়ে সহযোগিতার কাজটি করে আসছেন। এই মহৎ কাজে তার আহবানে সারা দিচ্ছেন বন্ধু বান্ধব আত্মীয় স্বজন, ব্যবসায়ী, শিক্ষক, সাংবাদিক, কলেজ শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার লোকজন। গত প্রায় তিন বছরে বিভিন্ন ভাবে তার মাধ্যমে রক্ত পেয়েছেন গর্ভবতী মা,ক্যান্সার আক্রান্তরোগী, দুর্ঘটনাসহ বিভিন্ন অসুস্থ লোকজন।

বিশ্বজিৎ পাল বাবু বলেন, গত প্রায় ৩ বছর আছে নিজের এক আত্মীয়কে রক্ত দেওয়ার মধ্য দিয়ে শুরু করেন এই কার্যক্রম। এরপর মানুষ বিভিন্ন ভাবে তাকে সহযোগিতা করছেন। এ পযর্ন্ত তিনি ১০ জনকে রক্ত দিয়েছেন। সংগ্রহ করে দিয়েছেন দেড় শতাধিক উপরের লোকজনকে। তিনি আরও বলেন বিভিন্ন মাধ্যমে রক্ত সংগ্রহ করা হয়। পত্রিকার সংবাদকে যে ভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয় একই ভাবে রক্ত সংগ্রহ ও দেওয়া একই ভাবে কাজ করা হয়। মানুষকে নানা ভাবে সহযোগিতা করা ছোট বেলা থেকেই অভ্যাস। রক্তের প্রয়োজন ম্যানেজ করে দেওয়ার জন্য অনেকেই যোগাযোগ করেন। রক্তের প্রয়োজনের কথা বললে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়া হয়। এমনও হয়েছে স্ট্যাটাস দেওয়া মাত্র ১ মিনিটের মধ্যেই সাড়া পেয়েছেন। আবার অনেক সময় স্ট্যাটাস ছাড়া শুধু ফোনের মাধ্যমে সংগ্রহ হয়ে যায়। অনেক সময় দেখা যায় প্রয়োজনের চাইতে দেওয়ার লোকজন বেশী হয়ে যায় তখন খুবই ভালো লাগে।

পৌর শহরের রাধানগর এলাকার বাসিন্দা মো. কামাল বলেন, তার স্ত্রী রাজিয়া সুলতানা বেশ কিছুদিন অসুস্থ। এক পর্যায়ে তাকে ডাক্তার দেখালে চিকিৎসক রক্ত শুন্যতা বলে জানায়। দ্রুত রক্ত দিতে না পারলে তার সদস্যা হবে। অনেক চেষ্টা করে রক্তের সন্ধ‍ান না পেয়ে মোবাইল ফোনে সাংবাদিক বাবুর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি দ্রুত রক্ত সংগ্রহ করে দিয়ে আমার স্ত্রীর জীবন বাঁচান। আমরা তার কাছে কৃতজ্ঞ।

মো. আল-আমিন মিয়া বলেন, তার বড় ভাই’এর স্ত্রী অসুস্থ হয়ে পড়লে রক্তের প্রয়োজন দেখা দেয়। অনেক চেষ্টা করে রক্তের সন্ধ্যান না পেয়ে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি মুহুর্তের মধ্যে রক্ত দিয়ে বড় ভাইএর স্ত্রীর জীবন বাঁচান। আমরা তার কাছে কৃতজ্ঞ। মো. সোহাগ মিয়া বলেন তার স্ত্রী সন্তান সম্ভবা। রক্তশুন্যতাই শরীরও অনেক দুর্বল হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিল। হঠাৎ সন্ধ্যায় ডাক্তার বলে ৩ বেগ রক্তের প্রয়োজন। অনেক চেষ্টা করে কোথাও না পেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে রক্তের প্রয়োজন লিখে একটি স্ট্যাটাস দেওয়া হয়। মুহুর্তের মধ্যে বিশ্বজিৎ পাল বাবু রক্তের ব্যবস্থা করেন। এ জন্য আমি ও আমার পরিবার চির কৃতজ্ঞ।

বিশ্বজিৎ পাল বাবু বলেন প্রতিটি মানুষ যার যার অবস্থান থেকে মানব সেবা করা উচিত। চাই সেটা ব্যাক্তিগত চাই সংগঠনের মাধ্যমে। অসুস্থ রোগীদের জরুরী প্রয়োজনে রক্ত দিয়ে জীবন বাঁচানো হলো প্রকৃত মানব সেবা। তিনি আরও বলেন মানুষ যখন অসুস্থ হয় তখন তার পরিবার মানষিক ভাবে অনেকটাই ভেঙ্গে পড়েন। রক্তের অভাবে কোন মানুষের যাতে মৃত্যু না হয় সে লক্ষে তিনি এ কাজ করে আসছেন।

আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মো. রাশেদুর রহমান বলেন, একজন সুস্থ ও সবল মানুষ ৩ মাস অন্তর অন্তর রক্ত দিতে পারেন। এতে শরীরের কোন সমস্যা হয়না। ব্যাক্তিগত উদ্যোগে রক্তদিয়ে তিনি যে কাজটি করছেন সত্যি তা প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য।


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১