আপডেট : ২৫ December ২০২১
কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহজাহানের বিরুদ্ধে ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচিতে নিজের আত্মীয় স্বজনদের ভুয়া নাম দেখিয়ে প্রশিক্ষণ ও কর্মভাতার লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও তিনি নিজ এলাকার প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন সময়ে উপজেলায় দায়িত্বরত বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে বিভিন্ন প্রকল্প ও ঠিকাদারি কাজের মাধ্যমে কয়েক কোটি টাকার কাজ ভাগিয়ে নিয়েছে। গত ১০ বছর যাবত নাঙ্গলকোট উপজেলায় কর্মরত থেকে প্রায় ১০ কোটি টাকার মালিক বনে যাওয়া নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন-একজন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার বেতন কত? তিনি যে বেতন পান তা দিয়ে পরিবারের ব্যয় নির্বাহ করার পর যে টাকা থাকে তা দিয়ে গ্রামের বাড়িতে আলিশান বাড়ি ও নাঙ্গলকোট পৌর সদরে সম্পত্তির মালিকসহ বিভিন্ন স্থানে নামে-বেনামে সম্পত্তিসহ প্রায় ১০ কোটি টাকার মালিক বনে যাওয়ায় দুর্নীতির বিষয়গুলো এখন তাঁর নিজ এলাকা দৌলখাঁড়সহ সর্বত্র টক অব দ্যা নাঙ্গলকোটে পরিণত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের ১৪ অনুচ্ছেদে উচ্চ মাধ্যমিক ও সমপর্যায়ের শিক্ষায় শিক্ষিত ২৪-৩৫ বছর বয়সী বেকার যুবক এবং যুব মহিলাদের অস্থায়ীভাবে কর্মসংস্থানের বিষয়ে যুব সমাজকে দুই বছরের জন্য ন্যাশনাল সার্ভিসে নিযুক্ত করার জন্য ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীনে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মাধ্যমে ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচি চলমান রয়েছে। ২০১৮ সালের প্রথম দিকে নাঙ্গলকোটে ৭২১ জন বেকার যুবক ও যুব মহিলাকে এ কর্মসূচির আওতায় আনা হয়। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে কর্মসূচি শেষ হয়। নির্বাচিত সুবিধাভোগী যুবক ও যুব মহিলাদেরকে প্রশিক্ষণকালীন সময়ে দৈনিক ১০০ টাকা হারে প্রশিক্ষণ ভাতা প্রদান এবং প্রশিক্ষণোত্তর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দুই বছর মেয়াদে সংযুক্তি প্রদানের নিয়ম রয়েছে। সংযুক্তি প্রাপ্তির পর তাদেরকে কাজ করার জন্য দৈনিক ২০০ টাকা হারে মাসিক ৬ হাজার টাকা পারিশ্রমিক প্রদানের নিয়ম রয়েছে। এরমধ্যে ২ হাজার টাকা মাসিক সঞ্চয় হিসেবে সংশ্লিষ্ট সুবিধাভোগীর নিজ নামে ব্যাংকে গচ্ছিত রেখে এবং অস্থায়ীভাবে সংযুক্তি শেষে সুদসহ এ অর্থ ফেরত দেয়ার নিয়ম রয়েছে। উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসের মাধ্যমে বেকার যুবকদের প্রতি মাসে ভ্রাম্যমাণ প্রশিক্ষণের কথা থাকলেও প্রতি বছর নামমাত্র ১-২টি প্রশিক্ষণের আয়োজন করে কাগজে-কলমে ভূয়া প্রশিক্ষণার্থীদের নাম দেখিয়ে মোহাম্মদ শাহজাহানের বিরুদ্ধে গত প্রায় ১০ বছরে প্রশিক্ষণ খাতে সরকারের বরাদ্ধ প্রায় ৩০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ রয়েছে। ১-২টি রাজস্ব প্রশিক্ষণ করে অবশিষ্ট প্রশিক্ষণ না করে সম্পূর্ণ প্রশিক্ষণ ভাতা আত্মসাত করেন। জোরদারকরণ প্রকল্পে প্রশিক্ষণ প্রদান না করে অধিকাংশ প্রশিক্ষণ ভাতা আত্মসাত করেন। বিশেষ করে ২০১০, ২০১১, ২০১২ এবং ২০১৩ সালে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ প্রদান না করে সকল প্রশিক্ষণ ভাতা আত্মসাত করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তিনি ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচির প্রশিক্ষণে প্রশিক্ষণার্থীদের নিকট থেকে প্রশিক্ষণ ভাতা থেকে প্রথম দফায় কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। বেকার যুবক ও যুব মহিলাদের মধ্যে যারা প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেনি তাদেরকে হাজিরা খাতায় উপস্থিত দেখানো হয়েছে। উত্তোলন করা হয়েছে তাদের নামে প্রশিক্ষণ ভাতা। এছাড়া প্রশিক্ষণার্থীরা যতদিন প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেছে তাদেরকে ততদিনের প্রশিক্ষণ ভাতার টাকা প্রদান করা হয়। অথচ অবশিষ্ট টাকা ফেরৎ দেয়ার কথা থাকলেও তা ফেরৎ না দিয়ে আত্মসাত করেন। ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচির মাধ্যমে নিজের পরিবারের সদস্যসহ অনেক ভুয়া নাম দেখিয়ে লাখ-লাখ টাকা হরিলুট করার অভিযোগ উঠেছে। নিজের স্ত্রী, প্রবাসে অবস্থানরত দুই ভাই, অন্য এক ভাই, ছোট দুই ভাইয়ের স্ত্রী, খালাতো বোন, দুইজন আত্মীয়সহ তার পরিবারের ১০ জন সদস্য কোন কাজ না করেই প্রশিক্ষণ ভাতা এবং কর্মভাতার বিল গ্রহণ করেন। এছাড়া অনেকের নাম কাগজে-কলমে থাকলেও তাদের নামে প্রশিক্ষণ ও কর্মভাতার উত্তোলনের বিষয়টি তারা মোটেই জানে না। উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসের তিন কক্ষে মোট ২৫ জনের সংযুক্তি দেখিয়ে তাদের নামে প্রশিক্ষণ ও কর্ম ভাতার টাকা উত্তোলন করা হয়। অন্যদিকে ২৪-৩৫ বছর বয়সী যুবক ও যুব মহিলাদের এ কর্মসূচিতে সম্পৃক্ত করার কথা থাকলেও ২০-২২ বছর ও ৩৮-৩৯ বছর বয়সীদেরও এ কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচির কাগজপত্র পর্যালোচনা ও অনুসন্ধান করে জানা যায়, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহজাহানের ভাই আক্তার হোসানের ন্যাশনাল সার্ভিসের ক্রমিক নং-৬৪৫ ও সাখাওয়াত হোসেনের ৫৮৬। তারা প্রবাসে অবস্থান করলেও তাদের নামে প্রশিক্ষণ ও কর্মভাতার টাকা উত্তোলন করা হয়। তার স্ত্রী মাকসুদা আক্তারকে (৬৪৮) উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসে সংযুক্ত দেখালেও সে কোনদিন অফিসে আসেনি। অপর ভাই ইকবাল হোসেন(৬৫৭)। তাকেও উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসে সংযুক্তি দেখানো হয়েছে। তার দুই ভাইয়ের স্ত্রী মরিয়ম আক্তারকে(৬২২) দৌলখাঁড় পূর্বপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও তাহমিনা আক্তারকে(৬৩২) উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসে সংযুক্তি দেখানো হয়েছে। খালাতো বোন ফাহিমা আক্তারকে(৪৮৬) গোহারুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংযুক্তি দেখানো হয়েছে। তার দুই আত্মীয় এ এস এম সাখাওয়াত হোসেন(৬৫৫) এবং মুনিয়া লতিফকে(৬৫৬) উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসে সংযুক্তি দেখানো হয়েছে। তারা ঢাকায় অবস্থান করেন। অন্য এক আত্মীয় আবদুল্লাহ আল মামুন(৬৬২) বক্সগঞ্জ বাজারে মুরগীর ব্যবসা করে। তাকে আটগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংযুক্তি দেখানো হয়। তিন ভাই আবদুল্লাহ আল মামুন(৫৫৭), নুরুল আলম(৫৬১) ও শফিউল আলমকে(৫৬২) আল জামেয়াতুল আরাবিয়ান আল ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসায় সংযুক্তি দেখানো হয়েছে। তাদের নামে প্রশিক্ষণ ও কর্মভাতার টাকা উত্তোলন করা হলেও তারা এ ব্যাপারে কিছুই জানে না। যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা শাহজাহানের তিন বোন খাতুনে জান্নাত তন্নি(৫৪১), উম্মে জহুরা(৫৪২) ও উম্মে ছায়মাকে(৫৪৩) আনসার ও ভিডিপি কার্যালয়ে সংযুক্তি দেখালেও তারা ঢাকায় অবস্থান করেছিলেন। উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার সাথে টাকা ভাগাভাগি করে তাদের নামে প্রশিক্ষণ ও কর্মভাতা উত্তোলন করা হয়। ইসমত আরা ভুঁইয়াকে(৬১৮) শ্রীহাস্য সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংযুক্তি দেখানো হয়েছে। সে স্বামীর সাথে স্থায়ীভাবে ঢাকা অবস্থান করে। সাহাব উদ্দিন(৫৭৬) মন্নারা বাজারের পল্লী চিকিৎসক। তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সংযুক্তি দেখানো হয়। মেহজাবিন আক্তার(২৮৭) চাঁদপুরে অবস্থান করেন। সুমন চন্দ্র দাস(৭৭) প্রাণ কোম্পানীতে চাকুরী করে। ইয়াছিন মিয়া(৯০) আবুল খায়ের কোম্পানীর চট্টগ্রামের সিমেন্ট কারখানায় চাকুরী করে। রোমানা আক্তার নুপুরকে(৬১৯) কাশিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংযুক্তি দেখানো হয়। সে স্বামীর সাথে কুমিল্লায় অবস্থান করে। ফারজানা ইয়াসমিনকে(৬৭৮) উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসে সংযুক্তি দেখানো হয়। অথচ সে ঢাকায় অবস্থান করে। কাজী আবদুল্লা আল মাসহুদ(৬৯৯)। সে কুমিল্লা হাউজিং এস্টেটের প্রাইভেট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রুপসী বাংলা কলেজে স্থায়ীভাবে চাকুরি করেন। উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার সাথে ভাগাভাগি করে টাকা উত্তোলন করেন। শারমীন সুলতানাকে(৫১২) উপজেলা হিসাব রক্ষন অফিসে সংযুক্তি দেখানো হলেও সে কখনো অফিসে না এসে টাকা উত্তোলন করেছেন। সাইফুল ইসলাম(৬৭৭) উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসে সংযুক্ত দেখানো হলেও সে কখনো অফিসে আসেনি। তার নামেও টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। একই উপজেলার দৌলখাঁড় ইউনিয়নের দৌলখাঁড় গ্রামে বাড়ি হওয়ার সুবাদে ২০১০ সালের ২৫ আগস্ট নাঙ্গলকোট উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা হিসেবে যোগদানের পর থেকে অনিয়ম ও দূর্নীতির মাধ্যমে মোহাম্মদ শাহজাহানের ভাগ্য বদলাতে থাকে। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কাজে অনিয়ম ছাড়াও ত্রাণ অধিদপ্তরের এক লাখ টাকা ব্যয়ের ঘর নির্মাণ কাজ নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে কাজ করেন। অভিযোগ রয়েছে, স্বজনপ্রীতি করে নিজ বাড়িতে ৭ জনের নামে ঘর বরাদ্ধ করাসহ অনেক টাকা লাভবান হয় বলে অভিযোগে প্রকাশ পায়। নিজের পরিবারের সদস্যদের নামে বরাদ্ধ দেয়া ঘর মালিকরা হচ্ছে; জেঠাতো ভাই ওসমান, জেঠাতো বোন সামছুন নাহার, মাজেদা খাতুন, কদর বানু, হাজেরা খাতুন, জেঠাতো ভাই আলম ও আবদুল মমিন। তাছাড়া নিজের আর্থিক সুবিধার জন্য এলজিইডির অধীনে পাকা রাস্তার প্রকল্প তৈরি করে এলাকার জনগুরুত্বহীন রাস্তা আইটপাড়া থেকে মমিন চেয়ারম্যান ও তাঁর বাড়ির সামনের একটি রাস্তার নির্মাণ কাজ ভাগিয়ে নেন। ওই সড়ক নির্মাণে নিজেই ঠিকাদারী করেন। সড়কটির উন্নয়ন বরাদ্ধ ছিল ৭৫ লাখ টাকা। এছাড়াও তিনি প্রভাব খাটিয়ে নিজের ভাইয়ের নামে নিকাহ রেজিস্টার, ত্রাণ অধিদপ্তরের ঘর করে দেয়ার নামে টাকা হরিলুট, সড়ক নির্মাণের ঠিকাদারী, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পগুলো তাঁর সংশ্লিষ্টতায় সম্পন্ন হয়ে আসছে। তাছাড়া দায়িত্বরত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের আস্থাভাজন লোক হিসেবে জাতীয় অনুষ্ঠানগুলোর টাকা কালেকশন ও কেনাকাটায় ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি, বিভিন্ন মামলা ও অভিযোগের অধিকাংশ তদন্তভার গ্রহণ, স্কুল-কলেজ এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনের দায়িত্ব পালনসহ উপজেলার প্রশাসনিক পর্যায়ে সর্বক্ষেত্রে একচ্ছত্র আধিপত্য বিরাজ করে আসছেন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে দুর্ব্যবহার করারও একাধিক অভিযোগ রয়েছে। ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচিতে কর্মরত মোহাম্মদ শাহজাহানের তিন ভাই আবদুল্লাহ আল মামুন, নুরুল আলম ও শফিউল আলমের নামে টাকা উত্তোলন করা হলেও আবদুল্লাহ আল মামুন এ প্রতিবেদককে বলেন, আমি তিনমাসের টাকা গ্রহণ করি। পরে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা তার সাথে অর্ধেক টাকা ভাগাভাগির কথা বললে আমি রাজি হয়নি। সে আমার সাথে দুর্ব্যবহার করে। অবশিষ্ট ২১ মাসের টাকা কে বা কারা নিয়েছে জানি না। এছাড়া আমার অপর দুই ভাই নুরুল আলম ও শফিউল আলম কোন টাকা পায়নি। এছাড়া তিন বোনের মধ্যে খাতুনে জান্নাত তন্নি এ প্রতিবেদককে বলেন, আমরা নিয়মিত দায়িত্ব পালন করতে পারি নাই। কিন্তু টাকা উত্তোলনের ক্ষেত্রে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করার সবধরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। এ ব্যাপারে শনিবার বিকেলে নাঙ্গলকোট উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। কোন ধরনের অনিয়মও করিনি’।
Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.
বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com
অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com
ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১