আপডেট : ২৬ December ২০২১
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে শুরু হয়েছে মাসব্যাপী ‘৫ম জাতীয় ভাস্কর্য প্রদর্শনী’। একাডেমির জাতীয় চিত্রশালার গ্যালারিতে প্রদর্শনী চলবে ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত। আয়োজকরা জানান, এবারের প্রদর্শনীতে সারা দেশ থেকে ২১ বা তদূর্ধ্ব বয়সী ১৩৫ জন শিল্পীর মোট ২৫৪টি শিল্পকর্ম প্রদর্শনীর জন্য জমা পড়ে। নির্বাচকমণ্ডলী বাছাই করে ১০৭ জন শিল্পীর মোট ১১৪টি শিল্পকর্ম প্রদর্শনীর জন্য নির্বাচন করেন। এ ছাড়া ১৬ জন আমন্ত্রিত এবং প্রয়াত ৫ জন পথিকৃৎ ভাস্করের একটি করে ভাস্কর্যও এই প্রদর্শনীতে উপস্থাপিত হচ্ছে। এর আগে আয়োজিত জাতীয় ভাস্কর্য প্রদর্শনীতে ৫ জন শিল্পীকে পুরস্কার দেওয়া হলেও এ বছর ১৩ জন শিল্পীকে পুরস্কৃত করা হয়েছে। শ্রেষ্ঠ পুরস্কারের মূল্যমান ২ লাখ টাকা, দ্বিতীয় পুরস্কার ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং তৃতীয় পুরস্কার ১ লাখ টাকা। এ ছাড়া ১০টি সম্মানসূচক পুরস্কারের প্রতিটির মূল্যমান ৫০ হাজার টাকা। পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রত্যেককে দেওয়া হয়েছে ক্রেস্ট ও সনদ। এ বছর পুরস্কার বিজয়ী তিনজন হলেন বিজন হালদার (প্রথম), আসমাউল হুসনা মারিয়া (দ্বিতীয়), দিনার সুলতানা পুতুল (তৃতীয়)। এ ছাড়া ১০টি সম্মানসূচক পুরস্কার পেয়েছেন শিল্পী লাকী ওসমান, সাগর দে, মোর্শেদ জাহাঙ্গীর, সিগমা হক অঙ্কন, সুমন বর্মণ, সৈয়দ তারেক রহমান, জয়তু চাকমা, মোহাম্মদ সামিউল আলম, ইসরাত জাহান তন্বী, ইউসুফ স্বাধীন। জয়তু চাকমা তার ভাস্কর্যের জন্য সম্মানসূচক পুরস্কার পেয়েছেন। ২০০৫ সালে এসএসসি পাস করেন এই শিল্পী। এইচএসসি পাস করেন ২০০৭ সালে। ২০১৫ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফাইন আর্টস বিভাগে অনার্স ও ২০১৬ সালে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। ২০১৬ সালে আইসিসি বৃত্তি নিয়ে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ২য় মাস্টার্স ২০১৮ সালে সম্পন্ন করেন। এক্রেলিক, জলরঙ, ড্রইং মাধ্যম কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন জয়তু চাকমা। বলেন, ‘ভালো লাগে ছবি আকতে। মূলত কালের কনসেপ্ট অনুযায়ী মাধ্যমটা নির্বাচন করতে পছন্দ করি।’ বর্তমানে চিটাগাঙ গ্রামার স্কুল, ঢাকাতে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন এই শিল্পী। পাশাপাশি জয়তু চাকমা একজন ফ্রিল্যান্স আর্টিস্ট হিসেবে কাজ করছেন। ২০১৮ সালে কলকাতায় আইসিআর এ প্রথম একক চিত্র প্রদর্শনী করেন এই শিল্পী। এরপর বেশ কয়েকটি গ্রুপ প্রদর্শনী করেন। জয়তু চাকমা বলেন, ‘চিত্রকলায় অনেকের কাজ ভালো লাগে। ওভাবে নাম বলা কঠিন। সবার কাজে কিছুনা কিছু আলাদা বৈশিষ্ট্য থাকে যা আলাদা ভাবে সেরা। আমার ছবিতে মূলত পাহারে (পার্বত্য চট্টগ্রাম) সংকটের ঘটনা ও আমার আশপাশে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো প্রাধান্য পায়।’ জয়তু চাকমা ‘সংহার’ ভাস্কর্যের জন্য পনুরুত্থার পান। এ বিষয়ে তিনি বলেন,‘বাংলাদেশে বাঙালি ছাড়াও অন্যান্য অনেক জাতিগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে। যাদের রয়েছে নিজস্ব সংস্কৃতি-ভাষা-ইতিহাস। যে জন্য বাংলাদেশ সাংস্কৃতিকভাবে অনেক বৈচিত্র্যময়। সময়ের সাথে সাথে যেহেতু সবকিছু পরিবর্তনশীল। তার একটা বিশাল প্রভাব পরে এসব জাতির সংস্কৃতির উপর। এমনকি জলবায়ু পরিবর্তন বা পরিবেশের ওপর মানুষের যে অত্যাচার তার প্রভাবও পরে মানুষ ও অন্যান্য জীববৈচিত্র্যের ওপর। এ কারণে ভৌগোলিক ভাবে পাহাড়ের যে মানচিত্র তা দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। কাপ্তাইবাঁধ,গাছ কাটা, পাহাড় কাটা, পাথর খনন ইত্যাদির কারণে সমতলের মতো পাহাড়ে বসবাসরত আদিবাসী ও তাদের সংস্কৃতির ওপরও প্রভাব পড়ছে। আমি আমার শিল্পকর্মে ম্রো আদিবাসীদের পানি খাওয়ার পাত্রটাকে( তুইয়া ), যেটা তাদের প্রাত্যহিক জীবনাচরণের গুরুত্বপূণ উপদান, দৃশ্যমান বস্তু থেকে আরো বড় আকারে উপস্থাপনের পরিকল্পনা করেছি। সাথে সেটার উপর পাহাড় খননের যেসব গাড়ি, তার মিনিয়িচার স্থাপন করেছি। গাড়িগুলো প্রকৃতির স্বাভাবিক প্রক্রিয়াটাকে ধংস করার প্রতীক হিসাবে উপস্থাপিত হয়েছে।’ ইসরাত জাহান তন্বী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ছাত্রী। এ বছর তিনি তার ভাস্কর্যের জন্য সম্মানসূচক পুরস্কার পেয়েছেন। তন্বী এসএসসি পাস করেন ২০১৪ সালে। এইচএসসি পাস করেন ২০১৬ সালে। ভাস্কর্য তৈরি করতে পচ্ছন্দ করেন এই শিল্পী। মিক্স মিডিয়াতে বিমূর্ত কাজ করেন। ভাস্কর্যে এই শিল্পীর আদর্শ নভেরা আহমেদ। এই বিষয়ে তন্নী বলেন, ভাস্কর নভেরা আহমেদের কাজের ধারা আমাকে ভাস্কর্য তৈরিতে উৎসাহিত করে। তিনি আমার আদর্শ।’ তন্নী ‘আদম ও ইভ’ ভাস্কর্যের জন্য পুরষ্কার পান। এই ভাস্কর্য সম্পর্কে তন্বী বলেন, ‘আমি যে ভাস্কর্যের জন্য পুরস্কার পেয়েছি, সেই শিল্পকর্মের নাম আদম ও ইভ। আমাদের আদি পিতা মাতা আদম ও হাওয়া, এনাদের থেকেই পর্যায়ক্রমে আমরা। আমরা যদি লক্ষ্য করি আমাদের পরিবারের প্রধান আমাদের বাবা-মা । বাবা, মা’র জন্য আমরা এসেছি। এভাবে সুন্দর সুন্দর সম্পর্ক তৈরি হয়। সম্পর্ক থেকে পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র। একটা পরিবার বাবা ও মায়ের অবদান অপরিসীম এবং তাদের অবস্থান যে সমান হওয়া উচিত তাই আমার এই শিল্প কর্মের মাধ্যমে বুঝাতে চেয়েছি।’
Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.
বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com
অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com
ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১