বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ০২ January ২০২২

আখাউড়ায় তীব্র শীতে জনজীবন বিপর্যস্ত


ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলায় তীব্র শীত ঘন কুয়াশা আর হিমেল হাওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সন্ধ্যা ঘনিয়ে রাত শুরু হতেই অনুভূত হচ্ছে প্রচন্ড শীত। তীব্র কুয়াশা আর হাড় কাঁপানো শীতে বিপাকে পড়েছেন পৌর শহরসহ উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের ছিন্নমুল,অসহায় হতদরিদ্র লোকজন। তবে দিনের বেশী ভাগ সময় কুয়াশায় ডাকা পড়ে থাকে সূর্য। মাঝে মধ্যে সুর্যের খানিক আলোর দেখা মিললে ও তা থাকছে নিরুত্তাপ। তীব্র শীতের কারনে দরিদ্র, দিনমজুর কর্মজিীবী মানুষেরা কর্মহিন হয়ে পড়েছে। মানুষের স্বাভাবিক কাজকর্মে দেখা দিয়েছেস্থবিরতা । প্রচন্ড শীতের কারনে সন্ধ্যার পরপরই রাস্তা ঘাট হাট বাজার জনশুন্য হয়ে পড়ছে। ছিন্নমুল,অসহায় হতদরিদ্র লোকজন খরকুটো দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারনের চেষ্টা করছে। শীতের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার ফলে ঠান্ডাজনিত নানা রোগ দেখা দিয়েছে। এসব রোগীর মধ্যে শিশু ও বয়বৃদ্ধের সংখ্যাই বেশী।

আখাউড়া স্থাস্ব্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, শীতের কারনে ডায়রিয়া,নিউমোনিয়া,শ্বাস কষ্ট জনিত রোগের সংখ্যা বেড়েছে। শীতের কারনে জবুথবু হয়ে পড়ছে প্রাণিকুল ও।

পৌর শহরের বড় বাজার এলাকার অটো রিকশা চালক মো. সাদির মিয়া বলেন, তীব্র শীত আর ঠান্ডা বাতাসের কারণে অটোরিকশা চালাতে কষ্ট হয়। সামান্য একটু চালালেই হাত-পা যেন অবশ হয়ে আসছে। কিন্তু না চালিয়ে উপায় কী? পরিবারে তার স্ত্রীসহ ৫ জন সদস্য রয়েছে । তাদের কথা চিন্তা করে অটো রিকশা নিয়ে বের হয়েছেন বলে জানায়।

শ্রমিক মো. আবরু মিয়া বলেন তীব্র শীত ও কুয়াশা থাকায় কাজ তিনি কাজে যাননি বলে জানায়। এ অবস্থা চললে আমাদের মতো গরিবদের চলাচল খুবই কষ্ট হয়ে উঠবে।

হেলাল মিয়া বলেন, দুইদিন ধরে খুব ঠান্ডা পড়ছে। অতিরিক্ত ঠান্ডার কারণে পানিতে হাত দিতে পারছি না। তাই কাজও বন্ধ রয়েছে। কৃষক তাহের মিয়া বলেন জমিতে চলতি মৌসুমের বোরো ধান আবাদ শুরু হয়েছে। কিন্ত তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশা থাকার কারণে শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। ধান আবাদ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।

রিকশা চালক মো. লিটন মিয়া বলেন, প্রতিদিন রাত ১২-১টা পযর্ন্ত রিকসা চালাই। কিন্ত গত কয়েকদিন ধরে তীব্র শীত ও কুয়াশা থাকায় সন্ধ্যার পর বাড়িতে চলে আসি।

সিএনজি অটোরিকশা চালক রফিক মিয়া বলেন, ঘন কুয়াশার কারণে হেড লাইটে কিছু দেখা যায় না গাড়ি চালাতে ভয় করে।

অপর দিকে শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শীতবস্ত্রের দোকানগুলোতে ভীড় বাড়ছে মানুষের। বিভিন্ন অভিজাত মার্কেটের দোকানগুলোতের শীতবস্ত্রের দাম আকাশ ছোয়া হওয়ায় সাধারন মানুষ বিপাকে পড়ছেন। নিম্ম ও মধ্য আয়ের লোকজন ছুটে চলছেন ফুটপাতের দোকান গুলোতে। ওই সব দোকান গুলোতে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে।

সড়ক বাজার মোটর স্ট্যান্ড ভ্রাম্যমান ব্যবসায়ী মো: আল-আমিন বলেন, গত কয়েক বছর ধরে প্রত্যাশীত শীত না পড়ায় তেমন বেশী বেচা কিনা হয়নি। কিন্তু এ বছর শুরুতেই শীত থাকায় কাপড় ভাল বিক্রি হচ্ছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. শ্যামল চন্দ্র ভৌমিক বলেন, প্রতিদিন হাসপাতালে নিউমোনিয়া, জ্বর, সর্দি ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হওয়া অন্ত:ত ৫০-৬০ জন শিশু চিকিৎসা নিচ্ছেন। আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো গাফিলতি নেই বলে জানায়।

 


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১