বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ১৩ January ২০২২

পরিবেশ দূষণ

সাভারে ৬ ইটভাঁটা সিলগালা-জরিমানা


পরিবেশ দূষণের দায়ে সাভারের ছয়টি অবৈধ ইটভাটা সিলগালা করা হয়েছে। এছাড়া ৬২ লাখ টাকা জরিমানা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তরের ভ্রাম্যমাণ আদালত। কোনো ছাড়পত্র না থাকায় মধুমতি কেমিক্যালস এবং একটি টায়ার কোম্পানিও বন্ধ করে দেওয়ায় হয়। 

অভিযান চলাকালে গতকাল বুধবার দুপুর পর্যন্ত সাভারের নামাগেন্ডা ও বিরুলিয়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী তামজিদ আহমেদ।

ম্যাজিস্ট্রেট কাজী তামজিদ আহমেদ জানান, রাজধানীর পাশে নামাগেন্ডা ও বিরুলিয়া এলাকায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা বেশ কয়েকটি ইটভাটায় দীর্ঘদিন ধরে ইট পোড়ানো হচ্ছে। বায়ুদূষণ করে আসছে এসব ইটভাটার মালিকরা। পরিবেশ দূষণ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকাসহ নানা অভিযোগে আজ এসব ইটভাটায় অভিযান শুরু পরিচালনা করা হয়। কারখানাগুলোর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে।

সেই সাথে নামাগেন্ডার মেসার্স কর্ণফুলি ব্রিক্সকে ৫ লাখ,  একলাস ব্রিক্সকে ২০ লাখ, মধুমতি ব্রিকসকে ৫ লাখ, ফিরোজ ব্রিক্সকে ৬ লাখ এবং বিরুলিয়ার গোলাপগ্রামের মাহিন ব্রিকসকে ২০ লাখ ও রিপন ব্রিক্সকে ৬ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।  এসময় কারখানাগুলোও বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এ ধরনের অভিযান প্রতি সপ্তাহে পরিচালনা করা হবে বলেও জানান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী তামজিদ আহমেদ।

অভিযানে পরিবেশ অধিদপ্তরের ঢাকা জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক জহিরুল ইসলাম তালুকদার ও সহকারী পরিচালক মোসাব্বের হোসেন মুহাম্মদ রাজীব, হায়াত মাহমুদ রকিব ও হিসাব রক্ষক উজ্জ্বল বড়ুয়াসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সকালে প্রথমে কর্ণফুলি ব্রিকস ইটভাটায় অভিযান পরিচালনা করেন তারা। এ সময় ইটভাটাটিকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় ইটভাটার বেশিরভাগ অংশ। তবে তাৎক্ষণিক জরিমানার টাকা পরিশোধ করতে না পারায় ভাটার মালিক ফয়সালকে আটক করা হয়। পরে জরিমানা আদায়ের পর তাকে ছেড়ে দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

পরে পার্শ্ববর্তী মেসার্স একলাস ব্রিকস একটি ইটভাটায় অভিযান চালিয়ে একই অভিযোগে ২০ লাখ টাকা জরিমানা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় ইটভাটাটির চুল্লিসহ বেশকিছু অংশ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এরপর মধুমতি ব্রিকস নামে আরেকটি ইটভাটার ছাড়পত্র ও অনুমোদন সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র না থাকায় ৫ লাখ টাকা জরিমানা আদায় এবং ভাটার বেশিরভাগ অংশ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। ১২টার পর নাগেন্ডায় ফিরোজ ব্রিকস এ অভিযান চালিয়ে ৬ লাখ টাকা জরিমানা ও কোম্পানিটি সিলগালা করা হয়। এরপর দুপুরের আগে বিরুলিয়ার গোলাপগ্রামে মাহিন ব্রিকসে অভিযান পরিচালনা করে কোন রকম পিরবেশের কাগজ না থাকায় ২০ লাখ টাকা জরিমানা ও রিপন ব্রিকসকে ৬ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জানান, উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ঢাকার চারপাশের বিভিন্ন জেলার অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদে অভিযান চলছে। এর অংশ হিসেবে আজ সাভারে অভিযান চালিয়ে অবৈধ এসব ইটভাটা গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আগে ইটভাটার আংশিক ভেঙে দিয়ে বেশি টাকা জরিমানা করা হতো। কিন্তু ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে কম জরিমানা করে ভাটার কার্যক্রম একেবারেই বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১