আপডেট : ১৭ January ২০২২
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আবাদি জমির মাটির উপরিভাগ উর্বর অংশ অবাধে বিক্রি হচ্ছে। ইটভাটা, বসতভিটা, রাস্তঘাট ও পুকুর ভরাটসহ নানা কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে এসব মাটি। এ মাটি কাটার ফলে কৃষিজমির পরিমাণ দিন দিন কমে যাওয়ার পাশাপাশি মাটির উর্বর শক্তি হ্রাস পাচ্ছে। পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য ও দিন দিন হুমকির মুখে পড়ছে। এক অসাধু মাটি ব্যবসায়ীরা প্রকাশ্যে নাম মাত্র মূল্য দিয়ে ফসল উৎপাদনের উপযোগী জমির ওপরের অংশ কেটে সাবাড় করছে। এ অবস্থার ফলে ফসলি মাঠের জমির কোনটা উঁচু কোনটি নিচু হয়ে যাচ্ছে। এতে করে জমি আবাদে সেচ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। উপজেলা কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এ উপজেলা শস্যভাণ্ডার খ্যাত বলে দীর্ঘ বছর ধরে আওতাভুক্ত রয়েছে। এ উপজেলার অধিকাংশ জমিই উর্বর । এসব জমিতে বছরে দু’টি মৌসুমে ধান,সরিষা ও বছরজুড়ে সবজি ব্যাপক উৎপাদন করছেন স্থানীয় কৃষকরা। ভূমি আইনকে তোয়াক্কা না করে এক শ্রেণির অসাধু মাটি ব্যবসায়ী কৃষকদের অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে এসব জমির টপ সয়েল কিনে উজাড় করছে । ফলে এলাকার পরিবেশ বিপর্যয়ের পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন ও বৈচিত্রের মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে বলে আশঙ্কা করছে কৃষি বিভাগ। কৃষিবিদদের মতে, একবার জমির উর্বর অংশ কেটে নিলে তা পূরণ হতে নিচে ১০-১২ বছর সময় লাগে। এসব আবাদি জমি থেকে উপরের অংশ অর্থাৎ টপসয়েল নিয়ে পৌর শহরসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ইটভাটা, বসতভিটা উঁচু করা , রাস্তাঘাটের উন্নয়ন,ও পুকুর ভরাটসহ নানা কাজে ব্যবহৃত করা হচ্ছে । জমির মালিকরা সামান্য টাকার লোভে পড়ে ফসলি জমির মাটি বিক্রি করে দিচ্ছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, উপজেলার আনোয়ারপুর রোডে খালাজোড়া, বাইপাস সংলগ্ন, দূর্গাপুর, চর নারায়নপুর, আওড়ারচর, কর্ণেল বাজার, খলাপাড়া, মোগড়া, মনিয়ন্দ ধরখার এলাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় অবাধে চলছে ফসলি জমি থেকে অবৈধ মাটি কাটা। স্থানীয় একটি সংঘবদ্ধ চক্র সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এসব মাটি তারা কেটে নিচ্ছেন। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রতিটি পয়েন্টে ২০-২৫ জন লোক এস্কেভেটর দিয়ে কৃষি জমি থেকে মাটি কেটে ট্রাক্টর দিয়ে উজাড় করছে। এক শ্রেণির অসাধু মাটি ব্যবসায়ীরা প্রতি বছর আমন ধান কাটা শেষ হলে বর্ষা শুরু হওয়ার আগ পযর্ন্ত নাম মাত্রমূল্যে গরিব কৃষকদের বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে জমির মাটি বিক্রি করতে উদ্বুদ্ধ করছে। কৃষকরা না বুঝে দেদারছে বিক্রি করছেন জমির মাটি। এতে করে গ্রামীণ গুরুত্বপূর্ণ পাকা ও কাচা সড়কে রাতদিন অবাধে মাটির ট্রাক যাতায়াতের ফলে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে রাস্তাঘাটও। এতে করে দুর্ঘটনায় পতিত হয় ছোট ছোট যানবাহন। স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারা জানায়, টপ সয়েল জমির প্রাণ। জমির উপরের আট থেকে ১০ ইঞ্চিই হলো টপ সয়েল। আর ওই অংশেই থাকে মূল জৈবশক্তি। কৃষকরা জমির টপ সয়েল বিক্রি করে নিজেদের পায়ে কুড়াল মারছেন। মাটি বিক্রির সঙ্গে সঙ্গে তারা জমির উর্বরা শক্তিই বিক্রি করে দিচ্ছেন। স্থানীয়ার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রশাসনকে ম্যানেজ করে তাদের সহযোগিতায় প্রতিনিয়ত রাস্তাঘাট নষ্ট করে মাটির বাণিজ্য করে যাচ্ছেন অসাধু ব্যবসায়ীরা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় জমিতে মাটি কাটার গভীরতার পরিমাণ ১০-১৫ ফুট ছাড়িয়ে যাচ্ছে। ফলে কোথাও কোথাও এই অনৈতিক আগ্রাসনে পার্শ্ববর্তী মালিকের জমিও নষ্ট হচ্ছে। সচেতন মহলদের ধারণা ফসলি জমি থেকে দিন দিন যে ভাবে মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে তা যদি নিয়ন্ত্রণ করা না যায় তাহলে কৃষির বিপর্যয় ঘটবে। কৃষক মো. তাজুল ইসলাম বলেন, টপ সয়েল সম্পর্কে তার কোনো ধারণা নেই। অপরদিকে তার জমির চারপাশের জমির মালিকরা মাটি বিক্রি করায় তার জমি এখন উঁচু হয়ে পড়েছে। তাই বাধ্য হয়ে জমির মাটি বিক্রি করতে হয়েছে। কৃষক আবু মিয়া বলেন, তার পাশের বেশ কয়েকটি জমির মাটি বিক্রি হওয়ায় তার জমি উঁচু হয়ে আছে। ধান আবাদ করতে পানি রাখতে না পারায় ফলন ভালো হচ্ছে না। তাই বাধ্য হয়ে মাটি বিক্রি করতে হয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানা বেগম বলেন, মাটির উপরিভাগের ১০-১৫ ইঞ্চির মধ্যে উর্বরতা শক্তি থাকে। মাটি খুঁড়ে বিক্রি করার ফলে মাটির উর্বরতা পুনরায় ফিরে আসতে সময় লাগে। এই টপ-সয়েল একবার কেটে নিলে সে জমিতে আর প্রাণ থাকে না। এ ব্যাপারে আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আক্তার বলেন, মাটি কাটার বিষয়ে শুনেছি। দ্রুতই মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করে যে বা যারা এই মাটি কাটার সাথে সম্পৃক্ত তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.
বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com
অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com
ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১