বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ০৪ February ২০২২

সাফারি পার্কে মৃত্যু থামছেই না

বাঘ ও জেব্রার পর এবার আফ্রিকান সিংহীর মৃত্যু


গাজীপুরের শ্রীপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে একটি বাঘ ও ১১টি জেব্রা মৃত্যুর কুলকিনারা না হতেই একটি অসুস্থ সিংহী মারা গেল। গতকাল বৃহস্পতিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরের পরে অসুস্থ সিংহীটি মারা গেছে। অনেকদিন ধরেই সিংহীটি অসুস্থ ছিল বলে পার্ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

‌এর আগে গত মাসের বিভিন্ন সময়ে ১১টি জেব্রা ও একটি বাঘ মারা যায়। জেব্রা মৃত্যুর ভিতরেই একটি বাঘের মৃত্যু হলেও পার্ক কর্তৃপক্ষ সে খবর চেপে যান। পরে বিষয়টি ফাঁস হলে তদন্ত কমিটিকে অবহিত করা হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যে এতগুলো জেব্রা ও একটি বাঘ মারা যাওয়ার ঘটনায় উচ্চ পর্যায়ের একটি মেডিকেল টিম ও তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। বাঘটি এনথ্রাকসে মারা গিয়েছিল। এবারে মারা যাওয়া সিংহীটিও একই লক্ষণ নিয়ে মারা গেছে। প্রাণী মৃত্যুর ঘটনায় পার্কের প্রকল্প পরিচালক জাহিদুল কবির,ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তবিবুর রহমান ও ভেটেরিনারি সার্জন ডা. জুলকার নাইন মানিককে প্রত্যাহার করা হয়েছে। সঠিক তদন্তের প্রয়োজনে তাদের সরানো হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল।

এর পর পার্কের প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব দেওয়া হয় বন্য প্রাণী বিভাগের প্রধান বন সংরক্ষক মোল্লা রেজাউল করিমকে (অতিরিক্ত দায়িত্ব) এখানে পদায়ন করা হয়েছে। তিনি সিংহী মারা যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

পার্কে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম ও ভেটেরিনারি সার্জন মোস্তাফিজুর রহমানকে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

পার্কের একটি সূত্র জানায়, বেশ কিছুদিন ধরেই সিংহ বেষ্টনীতে অসুস্থ হয়ে পড়ে সে নারী সিংহীটি। পরে উচ্চ মেডিকেল দল অসুস্থ নারী সিংহীর চিকিৎসা করছিলেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে আচমকা হাত পা ছড়িয়ে দিয়ে কাঁপতে কাঁপতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে সিংহীটি মারা গেছে। এ সময় সিংহীর শরীরে উচ্চ তাপমাত্রা ছিল। ধারনা করা হচ্ছে বাঘের মতই এনথ্রাক্সে মারা গেছে সিংহীটি। মারা যাওয়া সিংহীর শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। এর পর মরদেহ পার্কের ভিতরেই মাটি চাপা দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে বার বার যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। 

সদ্য নিযুক্ত হওয়া প্রকল্প পরিচালক (বন সংরক্ষক বন্য প্রাণী) মোল্লা রেজাউল করিম বলেন, বেশ কয়েক মাস ধরেই চিকিৎসা করা হয়েছে অসুস্থ সিংহীটির। অসুস্থ হওয়ার পর থেকে উচ্চ পর্যায়ের মেডিকেল টিম নিয়মিত চিকিৎসা করছিলেন। সিংহীটির পেটের নিচে পানি জমেছিল। পা খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলত সে। মিরপুর চিড়িয়াখানার সাবেক কিউরেটন ডা. এবিএম শহীদুল্লার তত্বাবধানে চিকিৎসা চলছি। বেশ কিছুদিন ধরেই শ্বাসকষ্টে ভোগছিল সিংহীটি। মৃত্যুর দিনও শ্বাসকষ্ট ছিল মারা যাওয়ার সময়। এটি আফ্রিকা থেকে আনা ধূসর বর্ণের একটি সিংহী। বয়স হয়েছিল ১১ বছর। পার্কে এরি মধ্যে মেডিকেল টিমের দেওয়া ১০ নির্দেশনামত কাজ এগিয়ে যাচ্ছে।


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১