বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ০৫ February ২০২২

অর্থনীতির চালিকাশক্তি কৃষি


রতন বালো :

 

 

টেকসই কৃষি উন্নয়নে অব্যাহত রয়েছে সরকারের প্রচেষ্টা। বর্তমান সরকারের নেতৃত্বে ১৯৯৬ থেকে ২০০১ এবং ২০০৯ থেকে ২০২১ সময়ের সাফল্যের ধারাবাহিকতায় লাভজনক ও বাণিজ্যিকীকরণের অগ্রযাত্রায় রয়েছে কৃষির স্থান। উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় ২০১৯-২০ অর্থবছরে দানাদার খাদ্যশস্যের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৪১৫ দশমিক ৭৪ লাখ মেট্রিক টন ছাড়িয়ে ৪৩২ দশমিক ১১ লাখ মেট্রিক টন হয়েছে। অর্থাৎ খাদ্যশস্য বেশি উৎপাদন হয়েছে ১৬ দশমিক ৩৭ মেট্রিকটন।

এছাড়া সরকার ২০১৮ নির্বাচনি ইশতেহার, টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ঠ-এসডিজি ২০৩০, রূপকল্প ২০২১ এবং রূপকল্প ২০৪১-এর আলোকে জাতীয় কৃষিনীতি, ৭ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা, ডেল্টাপ্ল্যান-২০২১ (অন্যতম উদ্যোগ বা দীর্ঘমেয়াদি) এর আলোকে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলেই কৃষিসহ সকল ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বাস্তব রূপ পাবে। সবমিলিয়ে অর্থনীতির চালিকাশক্তি হবে কৃষি। জীবন-জীবিকার পাশাপাশি দেশের সার্বিক উন্নয়নে কৃষি ওতপ্রোতভাবে জড়িত বলে জানিয়েছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষি তথ্য সার্ভিসের পরিচালক কৃষিবিদ মো. শাজাহান আলী বিশ্বাস।

তিনি জানান, পুরনো আমলের চাষাবাদ প্রণালি পরিবর্তন করে আধুনিক বিজ্ঞান সম্মত চাষাবাদে মনোযোগী হতে হবে। আধুনিক কৃষি ব্যবস্থা সম্পর্কে কৃষি বিশেষজ্ঞ ও কৃষি কর্মকর্তাদের সক্রিয় সহযোগিতায় কৃষকদের সচেতন করে তুলতে হবে। এছাড়া খাদ্য শস্য উৎপাদন, টেকসই খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, কর্মসংসস্থান ও রপ্তানি বাণিজ্যে কৃষি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তাই কৃষির উন্নয়ন মানে দেশের সার্বিক উন্নয়ন।  সবমিলিয়ে লাভজনক ও বাণিজ্যিকীকরণের অগ্রযাত্রায় কৃষি অবদান রাখছে।

এদিকে কৃষি মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কৃষি ক্ষেত্রে সময়োপযোগী পদক্ষেপ এবং দিকনির্দেশনায় খোরপোষের কৃষি আজ বাণিজ্যিক কৃষিতে রূপান্তরিত হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খাদ্য শস্য উৎপাদন, টেকসই খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, কর্মসংসস্থান ও রপ্তানি বাণিজ্যে কৃষি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিশেষ করে জনসংখ্যা বৃদ্ধি, কৃষিজমি কমতে থাকাসহ জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বন্যা, খরা, লবণাক্ততা ও বৈরী প্রকৃতিতেও খাদ্যশস্য উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে উদাহরণ। ধান, গম ও ভুট্টা বিশ্বের গড় উৎপাদনকে পেছনে ফেলে ক্রমেই এগিয়ে চলছে বাংলাদেশ। আর সবজি উৎপাদনে তৃতীয় আর মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে।

কৃষির উন্নতি হলেই কৃষকের দুর্দশা লাঘব হবে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেছেন, কৃষকদের মধ্যে চেতনাবোধ জাগিয়ে তুলতে হবে। পুরনো আমলের চাষাবাদ প্রণালি পরিবর্তন করে আধুনিক বিজ্ঞান সম্মত চাষাবাদে মনোযোগী হতে হবে। আধুনিক কৃষি ব্যবস্থা সম্পর্কে কৃষকদের কৃষি বিশেজ্ঞ ও কৃষি কর্মকর্তাদের সক্রিয় সহযোগিতা তাদেরও এ সম্পর্কে সচেতন করে তুলতে হবে বলে মন্ত্রী জানান।

তিনি আরো জানান, দেশ আজ চালে উদ্বৃত্ত, ধান উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে চতুর্থ। ভুট্টা উৎপাদন বেড়ে হয়েছে ৪৬ লাখ মেট্রিক টন। নিবিড় চাষের মাধ্যমে বাংলাদেশ সবজি উৎপাদনে বিশ্বে তৃতীয় অবস্থানে উন্নীত হয়েছে। সবজি উৎপাদন বেড়ে ১ কোটি ৭২ লাখ ৪৭ হাজার মেট্রিক টন হয়েছে। আলু উৎপাদনে বাংলাদেশ উদ্বৃত্ত এবং বিশ্বে সপ্তম। দেশে ফল উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। আম উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে সপ্তম এবং পেয়ারায় অষ্টম। আম উৎপাদন প্রায় ২৪ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত হয়েছে।

এছাড়া কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আলুসহ বিভিন্ন সবজি, ফল ও ফুল রপ্তানি সম্প্রসারণের নিমিত্ত উৎপাদন ও বাজার ব্যবস্থা উন্নয়নসহ কার্যকর ব্যবস্থা গৃহীত হয়েছে। যশোরের গদখালির পলিহাউসে রপ্তানিযোগ্য ফুল এবং নিরাপদ সবজি উৎপাদনের উদ্যোগ দেশি-বিদেশি মহলে প্রশংসিত হয়েছে বলে সংশ্লিস্ট কৃষিবিদরা জানান।

ডাল, তেলবীজ, মসলা ও ভুট্টা চাষ বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন সহায়তা অব্যাহত আছে। এছাড়াও কাজু বাদাম, কফি ইত্যাদি অর্থকরি ফসল চাষ ও বাজার ব্যবস্থা উন্নয়নে মন্ত্রণালয় কাজ করছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে কৃষক পর্যায়ে ডিএপি সারের খুচরা মূল্য ২৫ টাকা থেকে কমিয়ে ১৬ টাকা করা হয়েছে, কৃষকদের জন্য এটা ছিল গত বছরে  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সেরা উপহার বলে বিশেষজ্ঞরা জানান।

কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্র আরও জানান, পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় ২০০৮-০৯ অর্থবছর হতে এ পর্যন্ত ৯৬০ কোটি ৩৩ লাখ ৫৭ হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে, যার মাধ্যমে ৮৬ লাখ ৪০ হাজার ৪৪ জন কৃষক উপকৃত হয়েছেন। এর মধ্যে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ১৩৩ কোটি ১৫ লাখ ৬২ হাজার টাকা কৃষি উপকরণ ও আর্থিক সহায়তা হিসেবে প্রদান করা হয়েছে।

ফসলের উন্নত ও প্রতিকূলতা সহিষ্ণু জাত উদ্ভাবনে অভূতপূর্ণ সাফল্য এসেছে। ২০১৮-১৯ সালে অবমুক্তকৃত উদ্ভাবিত জাত ১২টি, উদ্ভাবিত প্রযুক্তি ৯৫টি, এবং নিবন্ধিত জাত ২৬টি। গম ও ভুট্টার গবেষণা সম্প্রসারণের জন্য সরকার ২০১৮ সালে গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

এছাড়া কৃষি সেক্টরে বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে সারা দেশে ৫৩ লাখ ৫৪ হাজার ৮শ ২ নারিকেল, তাল, খেজুর ও সুপারি চারা বিতরণ ও রোপণ করা হয়েছে। মাল্টা, রামবুতান, ড্রাগন প্রভৃতি বিভিন্ন ধরনের অপ্রচলিত ও বিদেশি ফল চাষে উৎসাহ প্রদান অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে।

২০১৮-১৯ সম্প্রসারিত সেচ এলাকা ২২ হাজার ৮শ ৪০ হেক্টর। সরবরাহকৃত সেচ যন্ত্র ৫ শ ৪৭টি এবং স্থাপিত সোলার প্যানেলযুক্ত সেচযন্ত্র ৯৫টি। ৪শ ৮০টি সেচ অবকাঠামো, ৫৮১ কিলোমিটার খাল-নালা খনন, ৬৮২ কিলোমিটার ভূ-গর্ভস্থ (বারিড পাইপ) সেচনালা এবং ৮ কিলোমিটার ভূ-উপরিস্থ সেচনালা, ২৪ কিলোমিটার ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে।

দেশের হাওর ও দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকায় কৃষকের জন্য ৭০ শতাংশ এবং অন্যান্য এলাকার জন্য ৫০ শতাংশ হারে কৃষি যন্ত্রপাতি ক্রয়ে ভর্তুকি প্রদান করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত ৩২২ কোটি ৮০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। এজন্য নতুন প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১