বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ০৬ February ২০২২

ভোজ্যতেলে জিম্মি সরকার!


ভোজ্যতেলে অসহায় ভোক্তারা। আর ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি সরকার। বাজার নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত নেই তদারকি। এমনকি তেলের বাজারে চাহিদা ও সরবরাহের সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই সরকারের কাছে। ফলে যখন-তখন তেলের দাম বাড়িয়ে দেন আমদানিকারকরা। একদিকে সব ধনের জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি অন্যদিকে তেলের দাম লাগাম ছাড়তে থাকায় হাঁসফাঁস অবস্থা মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের।

ভোক্তা অধিকার কর্মীরা বলছেন, বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের দৃঢ় কোনো পদক্ষেপ নেই। ফলে

বাজার নিয়ন্ত্রণে মন্ত্রী বলার পরের দিনই উল্টো হয়ে যায় বাজার। ভোজ্যতেলের এধরনের দাম বৃদ্ধিতে সিন্ডিকেট কাজ করছে। আর সেই সিন্ডিকেটের কাছে সরকার ও জনগণ জিম্মি বলে মন্তব্য করেন তারা।  

আসন্ন রমজানে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণ ও পুননির্ধারণের বিষয়ে আজ রোববার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের। এ বিষয়ে গত ১৯ জানুয়ারি বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি জানিয়ে ছিলেন যে, আগামী ৬ ফেব্রুয়ারির আগে ভোজ্যতেলের দাম বাড়বে না। কিন্তু মন্ত্রীর সেই কথা বাস্তবে রূপ নেয়নি। পরদিন থেকেই বাজারে তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়তে শুরু করে। বাণিজ্যমন্ত্রীর অনুরোধ উপেক্ষা করে আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে ২৫-২৬ জানুয়ারি থেকে ভোজ্যতেল সয়াবিন ও পাম অয়েলের দাম ফের বাড়িয়েছেন।

সরকার সিদ্ধান্তের আগেই এভাবে তেলের দাম বৃদ্ধির বিষয়ে খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, বোতলের সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৫ থেকে ৮ টাকা বেড়েছে। খোলা সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে ১০ টাকা পর্যন্ত। পাম অয়েলের দামও কেজিতে ১০ টাকার মতো বেড়েছে।

ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, নতুন আসা বোতলের এক লিটার তেলের গায়ের (লেভেলে লেখা) মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৬৫ থেকে ১৬৮ টাকা, যা আগে ছিল ১৬০ টাকা। আর পাঁচ লিটার বোতলের সয়াবিন তেলের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৮৫ থেকে ৮০০ টাকা, যা আগে ছিল ৭৬০ টাকা। এভাবে সরকার নির্ধারিত দাম উপক্ষো করে আসন্ন রমজানের আগেই তেলের দাম আরো এক দফা বাড়ার আশঙ্কা ব্যবাসীয়দের। 

 

যদিও সরকার নির্ধারিত দরে দেশে ভোজ্যতেল তেমন বেচাকেনা হয় না। তারপরও গত বছরের ১৯ অক্টোবর দেশে সর্বশেষ সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটারে সাত টাকা করে বাড়ায় সরকার। এতে কয়েক দফা বেড়ে এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি হয় ১৬০ টাকা দরে। এছাড়া পাঁচ লিটারের এক বোতল তেল বিক্রি হয় ৭৬০ টাকায়। এছাড়া খোলা সয়াবিন তেল লিটারপ্রতি ১৩৬ টাকা ও বোতলজাত পাম সুপার তেল ১১৮ টাকা দরে বিক্রি হয়। এর আগে গত বছর ৫ সেপ্টেম্বর লিটারে চার টাকা বাড়িয়ে ভোজ্যতেলের দাম নির্ধারণ করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। তখন দেশের বাজারে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল সর্বোচ্চ ১২৯ টাকা এবং এক লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৫৩ টাকা এবং প্রতি পাঁচ লিটার সয়াবিন তেল খুচরা পর্যায়ে সর্বোচ্চ ৭২৮ টাকা দর নির্ধারণ করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। আর প্রতি লিটার পাম সুপার ওয়েল খুচরা পর্যায়ে সর্বোচ্চ ১১৬ টাকা দর নির্ধারণ করা হয়।

গেলো এক বছরে চারবার বৃদ্ধির পর আবারো বাড়তে শুরু করেছে ভোজ্যতেলের দাম। বরাবরই সরকারের নির্দেশনাকে তোয়াক্কা না করে নিজেদের মতো করে দাম নির্ধারণ করেন আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা। ভোক্তাদের নিয়ে কাজ করা সংগঠনের নেতারা বলছেন, ব্যবসায়ীদের ওপর থেকে সরকারের নিয়ন্ত্রণ কমে যাওয়া ও ব্যবসায়ীদের অতিমুনাফা প্রবণতার কারণে সরকার নির্ধারিত মূল্য কার্যকর করা যাচ্ছে না।

সরবরাহে তেমন ঘাটতি না থাকলেও শুধুমাত্র আন্তর্জাতিক বাজারে বুকিং রেট বেড়ে যাওয়ায় ২০২০ সালের জুন থেকে গত বছর (২০২১) অক্টোবর পর্যন্ত কয়েক ধাপে প্রতি লিটার পাম অয়েলে ৭৪ টাকা, সুপার সয়াবিনে ৬৮ টাকা এবং সয়াবিনে ৬১ টাকা দাম বেড়েছে। শ্রমিক সংকটের কারণে রপ্তানিকারক দেশগুলোতে উৎপাদন কম হওয়ায় বুকিং রেট লাগামহীন বলে দাবি ব্যবসায়ীদের। ২০২০ সালের পহেলা এপ্রিল করোনা সংক্রমণের শুরুতে পাইকারি পর্যায়ে প্রতি মণ সয়াবিন ৩ হাজার ৩০০ টাকা, পাম অয়েল ২ হাজার ৪০০ টাকা এবং সুপার সয়াবিন ২ হাজার ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হলেও দেড় বছরে ভোজ্যতেলের দাম হয়েছে দ্বিগুণ। প্রকারভেদে প্রতি কেজি ভোজ্যতেলে ৬০ থেকে ৭৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। অথচ বাজারে ভোজ্যতেলের তেমন কোনো ঘাটতি ছিল না। এর মধ্যে চলতি বছরের শুরুতেই আবার দাম বাড়ায় ব্যবসায়ীরা।

হঠাৎ করে তেলের দাম বৃদ্ধির বিষয়টি স্বীকার করলেও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলছে, তারা ব্যবসায়ীদেরকে দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত দেননি। তারা নিজেরাই দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। বাজার নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। আর বাজারের পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি মিল মালিক ও আমদানিকারকরা যে দাম নির্ধারণ করে দেয় সেই দামেই তাদের বিক্রি করতে হয়। তাদের মতে, এর বাইরে পাইকারি ব্যবসায়ীদের কিছু করার থাকে না। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে- এমন কথা বলে দফায় দফায় বাড়ানো হয় ভোজ্যতেলের দাম।

শুধু ব্যবাসায়ীরা নয়, খোঁদ রাষ্ট্রায়ত্ত ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)ও তেলের দাম বাড়িয়েছে। সংস্থাটির তথ্যমেত, সয়াবিন তেল (বোতল), সয়াবিন তেল (লুজ) ও পাম অয়েল (লুজ) এর দাম গেলো এক বছরে ১৮ থেকে ৩৭ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। গেলো এক মাসে অন্তত ৩ শতাংশ বেড়েছে সব ধরনের তেলের দাম। এদিকে তেলের দাম লাগাম ছাড়তে থাকায় হাঁসফাঁস অবস্থা মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের।

মন্ত্রীর নির্দেশনা না মেনে দাম বাড়ানোয় ব্যবসায়ীদের ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ কমে গেছে কি-না এমন আশঙ্কা প্রকাশ করছেন কনজ্যুমার এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এর সহ সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন। তিনি বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে বলছি, বাংলাদেশের ভোক্তারা অসহায়। মন্ত্রী বলার পরের দিন উল্টো হয়ে যায়। তার কোনো প্রতিকারও পাওয়া যায় না। আমাদের কাছে অনেক সময় মনে হয় যে, মন্ত্রণালয় চালায় কারা? ব্যবসায়ী না-কি সরকারি লোকজন? এখানেই সন্দেহের তৈরি হয়।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালে ভোজ্যতেলের দাম মোট চার বার বাড়ানো হয়েছে। এরপর ২০২১ সালের মে মাসে প্রতি লিটার ভোজ্যতেলের দাম ৯ টাকা বাড়ানো হয়। বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১৪৪ টাকা থেকে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ১৫৩ টাকা নির্ধারণ করে দেয় সরকার। এছাড়া সয়াবিন তেলের (লুজ) দাম ১২৯ টাকা এবং লুজ সুপার পাম তেলের নির্ধারণ করা হয় প্রতি লিটার ১১৬ টাকা। আর পাঁচ লিটার বোতলের দাম নির্ধারণ করা হয় ৭২৮ টাকা।

যদিও ঈদ-উল-আযহার আগে কোভিড-১৯ মহামারির মধ্যে গ্রাহকদের ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনা করে জুলাই মাসে প্রতি লিটারে ৪ টাকা কমিয়ে ১৪৯ টাকা নির্ধারণ করে সরকার। পরে সেপ্টেম্বর মাসে আবারো বোতলজাত তেল লিটার প্রতি ৪ টাকা বাড়ানো হয়। যদিও ব্যবসায়ীরা এই দাম বাড়ানোকে আগের কমিয়ে ফেলা দামের সাথে সমন্বয় করা হয়েছে বলে দাবি করেন।

এরপর অক্টোবর মাসে সয়াবিন তেলের দাম লিটারপ্রতি ১৫ টাকা বাড়িয়ে ১৬৮ টাকা করার প্রস্তাব করে বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার ও বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন। সেসময় প্রস্তাব যাচাই বাছাই করে আবারো লিটারপ্রতি ৭ টাকা তেলের দাম বৃদ্ধি করা হয়। লিটারপ্রতি বোতলজাত তেল ১৫৩ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৬০ টাকা ও পাঁচ লিটারের সয়াবিন তেল ৭২৮ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭৬০ টাকা করা হয়। এছাড়া লুজ সয়াবিন ১২৯ টাকা থেকে ১৩৬ টাকা এবং পাম তেল লিটারপ্রতি ২ টাকা বাড়িয়ে ১১৮ টাকা করা হয়।

ভোক্তা অধিকার কর্মী মহিউদ্দিন বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের কথা বলে দফায় দফায় দাম বাড়ানো হচ্ছে। অন্যদিকে সরকার যে দাম নির্ধারণ করে দেয়, সে দামেও জনগণ কিনতে পারে না। বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের দৃঢ় কোনো পদক্ষেপও নেই। বাজারে ডিমান্ড কত, সাপ্লাই কত, স্টক কত সরকারের কাছে এসবের সুনির্দিষ্ট কোনো ডাটা নেই। বাজার বিন্যাস নেই। রাজধানীর যত্রতত্র বাজার। এরকম হলে তো রেগুলেশন করা কষ্টসাধ্য ব্যাপার।

দাম বৃদ্ধির পেছনে সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের আগাম কথাবার্তা অনেকাংশে দায়ী বলে মনে করেন তিনি।

মহিউদ্দিন বলেন, সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হয়ে যদি বলেন- সামনে রমজান তেলের দাম কমবে না, আরো বাড়বে। সামনে ভালো দাম পাওয়া যাবে এ আশায় ব্যবসায়ীরা এখনি মজুত শুরু করবে। কারণ সরকারই বলছে দাম কমবে না। জনগণের স্বার্থে সরকার বলবে বাজার নিয়ন্ত্রণের কথা। কিন্তু তারা যদি আগাম বলে দেন বাড়বে, তাহলে তো দাম বাড়বেই।

কনজুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) সহ সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, আমরা মিটিংয়ে গিয়ে দাম বৃদ্ধির বিষয় বলি, মিডিয়াতে লেখালেখি হয়। কিন্তু সরকার তো কোনোভাবেই আমলে নিচ্ছে না। বাজারে দাম বৃদ্ধির বিষয়টি তুলে ধরা হলে সরকারের পক্ষ থেকে এটা স্বীকারও করা হয় না। ইনভেস্টিগেট করা হয় না। এটা নিয়ে তাদের কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সূত্র মতে, প্রতি বছর দেশে ২০ লাখ টন পরিশোধিত তেলের চাহিদা রয়েছে। এর ৯৫ শতাংশই আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা হয়ে থাকে। গত বছরে (২০২১) সয়াবিন তেল (লুজ) লিটারপ্রতি ১১২ থেকে ১১৬ টাকায় বিক্রি হলেও চলতি বছরে ২৯ দশমিক ৩৯ শতাংশ বেড়ে ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সয়াবিন তেল (বোতল) লিটারপ্রতি দাম ছিল ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা। এক বছরে ১৮ দশমিক ৫২ শতাংশ বেড়ে সেই তেলের দাম দাঁড়িয়েছে ১৬৫ টাকায়।

সয়াবিন তেল দুই লিটারের বোতলের দাম ২৩০ টাকা থেকে ২৫০ টাকা ৩৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ বেড়ে ৩১০ থেকে ৩৩০ টাকা করা হয়। পাম অয়েল (লুজ) লিটারপ্রতি ৯৬ থেকে ১০২ টাকা বিক্রি হলেও ৩৬ দশমিক ৮৭ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩৫ থেকে ১৩৬ টাকা। পাঁচ লিটারের সয়াবিন তেল (বোতল) ৫৬০ থেকে ৬২০ টাকা বিক্রি হলেও ২৭ দশমিক ১২ শতাংশ বেড়ে ৭২০ থেকে ৭৮০টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাম অয়েল সুপার লিটারপ্রতি ১০২ থেকে ১০৫ টাকা ৩২ দশমিক ৮৫ শতাংশ বেড়ে ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (আইআইটি) এ.এইচ.এম. সফিকুজ্জামান বলেন, আমরা তেলের দাম বাড়াইনি। ব্যবাসায়ীরা কেন বাড়িয়েছেন তা, তাদের প্রশ্ন করুন। ব্যবসায়ীরা সরকারের নির্দেশনা অমান্য করে দাম বাড়ানোর ব্যাপারে এ.এইচ.এম. সফিকুজ্জামান বলেন, তারা (ব্যবসায়ীরা) জানুয়ারি মাসের ২ তারিখে দাম বাড়ানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছিল। পরে আমি নিজে মিটিং করে তাদের বলেছি, মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দিবেন। তিনি অসুস্থ ছিলেন। পরে ১৯ তারিখে মিটিংয়ে বসার আগেই তারা ১৭ তারিখে তেলের দাম লিটারে ৮ টাকা বাড়িয়ে দিয়েছে, যে জিনিসটা আমরা জানতাম না। পরে মিটিংয়ে আমরা বলেছি, বাজার টোটাল এ্যানালিসিস করে ৬ তারিখে একটা ঘোষণা দেওয়া হবে। এ ব্যাপারে মন্ত্রী মহোদয় মিডিয়াতে স্টেটমেন্টও দিয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, আমরা তাদেরকে দাম বাড়ানোর কথা বলিনি। দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে। আগামিকাল (আজ ৬ তারিখ) আমরা অফিশিয়ালি জানাবো।

বাংলাদেশ পাইকারি ভোজ্যতেল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি গোলাম মাওলা বলেন, বিশ্বজারে তেলের সংকট, দামও বাড়তির দিকে। ৭০০ ডলারের তেল এখন ১৫০০ ডলার হয়েছে। ডলারের দাম বেশি, জাহাজে ভাড়া বেশি। মিল মালিকরা ইমপোর্ট করে নিয়ে আসছে বেশি দামে। দামে কিনলে তো দামে বিক্রি করতে হবে। দাম কমাতে হলে ভ্যাট, ট্যাক্স কমানো কিংবা ভর্তুকি দিতে পারে।

সরকারের নির্দেশনা অমান্য করে তেল বেশি দাম বিক্রি হচ্ছে কেন? জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকারের কোনো মিল নেই। সরকার কোনো সাপ্লাইও দিচ্ছে না। ট্যারিফ কমিশন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বিশ্ববাজারের সঙ্গে মিল রেখে দাম ঠিক করে। বোতলজাত ব্যবসায়ীরা মিল মালিকদের ওপর শতভাগ নির্ভরশীল। এতে আমাদের কোনো হাত নেই। আদেশে কোনো ভায়োলেশন হলে সরকার ব্যবস্থা নিতে পারে।


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১