আপডেট : ০৮ February ২০২২
বাঙালির দাবি ছিল একটাই উর্দু পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হোক, তার সঙ্গে বাংলাকেও যুক্ত করতে হবে। আর সে লক্ষ্যেই ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’ স্লোগানে ১৯৫২ সালের ৩০ জানুয়ারির ধর্মঘট ছিল বিস্ফোরণের পূর্বাভাস। সেদিন সবাই বুঝলেন, আন্দোলনকে আরো বড় করতে হবে। সম্পৃক্ত করতে হবে অন্য পেশাজীবীদের। সে উদ্দেশ্যে ছাত্রনেতা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক দলের নেতাদের সভা হলো ৩১ জানুয়ারি। তাতে সভাপতিত্ব করলেন আওয়ামী লীগের সভাপতি মওলানা ভাসানী। গঠিত হলো ‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা পরিষদ’। বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক দল, ছাত্র সংগঠন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলের ছাত্র ও পূর্ববঙ্গের বিধান পরিষদের সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত ‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা পরিষদ’-এ ৪০-৪২ জন সদস্য ছিলেন। এই পরিষদের আহ্বায়ক নিযুক্ত হন কাজী গোলাম মাহবুব। পরিষদে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে পূর্ব পাকিস্তানে হরতাল, সভা ও বিক্ষোভ হবে। ওই সময় মুসলিম লীগ সরকারের আরেকটা চক্রান্তও চলছিল। আরবি হরফে বাংলা ভাষা লেখা হোক, এমন একটা প্রচেষ্টা ছিল তাদের। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে এর বিরুদ্ধেও প্রতিবাদ করা হচ্ছিল। ৩১ জানুয়ারির সিদ্ধান্তের পর মাঠে নেমে পড়ে ‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা পরিষদ’। জনমত তাদের পক্ষেই ছিল। ভেতরে ভেতরে সবাই শপথ নেন— ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’ দাবি নিয়ে রাজপথে নামার সিদ্ধান্ত থেকে তখনই কেবল তারা ঘরে ফিরবেন, যখন পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলাকে মেনে নেবে শাসকগোষ্ঠী। এরই মধ্যে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলেন থেকে প্রধানমন্ত্রী নাজিমউদ্দিনের ব্যঙ্গচিত্র দেওয়ালে সাঁটানো হয়। ঢাকার মানুষ তখনই সত্যিকার অর্থে ভাষা নিয়ে আন্দোলনের আসল রূপ দেখতে পায়। আর ওই সময়ের কর্মসূচি সাধারণ মানুষকেও আন্দোলনের সঙ্গে আরো ব্যাপকভাবে সম্পৃক্ত করে তোলে। মাতৃভাষা রক্ষার এই আন্দোলন ৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ফের মাঠে গড়াল। এ দিন বেলা ১১টা থেকে বিভিন্ন স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীরা মিছিলসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জমা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন গাজীউল হক। সভা শেষে প্রায় ১০ হাজার ছাত্রছাত্রী মিছিল করতে করতে শহর প্রদক্ষিণ করে। বিকালে সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা পরিষদের উদ্যোগে জনসভা হয়। এই সভা বাংলা ভাষার দাবি প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত অবিরাম সংগ্রাম চালানোর সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। এ দিনই ২১ ফেব্রুয়ারির ধর্মঘটের ঘোষণা আসে। পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলাকে মেনে নেওয়ার দাবিতে সমগ্র পূর্ব পাকিস্তানে সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়। সে ঘোষণায় এটা স্পষ্ট হয়ে উঠে, বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা না দেওয়া পর্যন্ত বাঙালিরা থামবে না। বাংলার সঙ্গে বাঙালির যে হাজার বছরের সম্পর্ক, তা বিচ্ছিন্ন করাও সম্ভব নয়। এটা পূর্ব পাকিস্তানের প্রায় সবাই বুঝলেও, ঠাওর করতে পারল না শুধু তৎকালীন শাসকগোষ্ঠী।
Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.
বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com
অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com
ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১