আপডেট : ১৩ February ২০২২
ভারতের আসামের বিভিন্ন কারাগারে দীর্ঘ কারাভোগের পর দেশে ফিরেছে বড়লেখার বোবারথলের যুবক কয়েছ উদ্দিন তালুকদারসহ ২২ বাংলাদেশি নাগরিক। গতকাল শনিবার বিকেলে সিলেট বিয়ানীবাজার শেওলা স্থলবন্দরে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ও সীমান্ত পুলিশ এসব প্রত্যাবাসনকারীদের বিজিবি ও ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। প্রত্যাবাসনকারীদের হস্তান্তরকালে উপস্থিত ছিলেন শেওলা স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন চেকপোষ্টের ইনচার্জ মো. মাসুদুজ্জামান, ৫২ বিজিবি’র বড়গ্রাম কোম্পানী কমান্ডার সুবেদার বাবুল খান, ভারত সীমান্ত পুলিশের আইপিএস অফিসার রেণু কান্ত শীতল কুমার, সুতারকান্দি ইমিগ্রেশন চেকপোষ্টের ইনচার্জ শামেন্দ্র চক্রবর্তী, বিএসএফের সুতারকান্দি কোম্পানী কমান্ডার সমির দাস প্রমুখ। প্রত্যাবাসনকারীদের মধ্যে অনেকে দালালের খপ্পরে পড়ে অবৈধ পথে ভারতে গিয়ে পুলিশের হাতে আটক হয়। পাসপোর্ট ভিসা ছাড়া অনুপ্রবেশের দায়ে ভারতীয় আদালত বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছিল। সাজা শেষ হওয়ার পরও অনেক বাংলাদেশী তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ না থাকায় ও তাঁরা তাদের পূর্ণাঙ্গ নাম ও ঠিকানা বলতে না পারায় দেশে পেরা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। এমন ব্যাক্তিদের দেশে ফেরাতে ভারতে নিযুক্ত সহকারী হাইকমিশনার ড. শাহ মোহাম্মদ তানভীর মনসুর ও যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা, সমাজকর্মী অমলেন্দু কুমার দাসের সহযোগিতায় এপর্যন্ত ২৫০ জন বাংলাদেশী দেশে ফিরেছে। প্রত্যাবর্তনকারী ব্যক্তিরা হলেন, মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার কয়েছ উদ্দিন তালুকদার, কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার শহিদুল ইসলাম, রউমারী উপজেলার আশিক মিয়া, মোঃ সাইজুদ্দিন, দিনাজপুর জেলার খানশামা উপজেলার জয় চন্দ্র শর্মা, সেরপুর সদর উপজেলার সাব্বির মিয়া, চাঁদপুর জেলার মতলব উপজেলার লিটন গাজি, পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা উপজেলার আলম হাওলাদার, নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার আব্দুল গণি, রাজশাহী জেলার তানুর উপজেলার মোঃ আছলম আলী, ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার আইনুল হক, টাংগাইল জেলার সখিপুর উপজেলার অমূল্য বর্মন, খুলনা জেলার আব্দুল হাকিম, মাদারীপুর জেলার সদর উপজেলার জুয়েল হাওলাদার, হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার শরিফুদ্দিন মিয়া, সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলার নাসির আলী ও শাহিনুর ,সিলেট জেলার কানাইঘাট উপজেলার সেলিম আহমদ, গোলাপগঞ্জ উপজেলার রুহান আহমদ, সিলেট সদরের লিটন ভূমিজ, ঢাকা জেলার জামাল উদ্দিন,কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালি উপজেলার রাজু আহমদ ও নওগাঁ জেলার রানী নগর উপজেলার মোঃ ফিরুজ। শেওলা ইমিগ্রেশন পুলিশ চেকপোস্ট ইনচার্জ মো. মাসুদুজ্জামান জানিয়েছেন, এই ২২ ব্যাক্তি পাসপোর্ট ভিসা ছাড়া ভারতে অনুপ্রবেশের দায়ে ভারতীয় পুলিশের হাতে আটক হয়। পরে আদালতের মাধ্যমে তারা জেলহাজতে যায়। কারাভোগের পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে আজ তারা দেশে ফিরেছে। ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মৌলভীবাজার সদর উপজেলার সহকারী যুবউন্নয়ন কর্মকর্তা ও সমাজকর্মী অমলেন্দু কুমার দাশ জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে উভয় দেশের বন্দী প্রত্যাবাসনে কাজ করছেন। স্বেচ্ছায় বিনা পারিশ্রমিকে অসহায় মানুষকে মুক্ত করে দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনকে সার্বিক সহযোগিতা করছেন। ভারতের আসাম রাজ্যের ৫ টি ও মেঘালয় রাজ্যের ২টি জেল থেকে ইতিমধ্যে প্রায় ২৫০ বাংলাদেশীকে মুক্ত করে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। এই মানবিক কার্যক্রমের সম্মুখযোদ্ধা আসামের গৌহাটিস্থ বাংলাদেশের সহকারী হাই কমিশনার ড. শাহ মোহাম্মদ তানভীর মনসুর। তার কুটনৈতিক প্রচেষ্টায় ভারতের জেলে অসহায়ভাবে পড়ে থাকা মানুষগুলো মৃত্যুর মূখ থেকে দেশে ফিরতে সক্ষম হচ্ছেন।
Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.
বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com
অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com
ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১