আপডেট : ১৯ February ২০২২
খুলনার তেরখাদায় জমজ শিশু (মনি-মুক্তা) হত্যার অভিযোগে মা কানিজ ফাতেমা কনাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় শিশুদের বাবা মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। জমজ সন্তান দুটির মা কনা প্রাথমিকভাবে সে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। তিনি প্রথমে শিশু দুটিকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে পুকুরে ফেলে দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও তেরখাদা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. এনামুল হক বলেন, চার বছর আগে বিয়ে হয় তাদের। বিয়ের তিন বছরের মাথায় কনা অন্তঃসত্ত্বা হন। এরপর তাকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয়। জমজ কন্যাসন্তান হওয়ার পর থেকে গত দুই মাস ১১ দিন বাবার বাড়িতেই ছিলেন তিনি। শিশু দুটি খুব কান্নাকাটি করত। এ বিষয়ে কনা স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। স্বামী জানান, আগামী মাসে তাকে বাড়ি নিয়ে যাবেন। কিন্তু এর আগেই শিশু দুটিকে হত্যা করেন কনা। তিনি আরও বলেন, মনি-মুক্তা রাতে অস্বাভাবিক জ্বালাতন করছিল। প্রথমে কনা তাদের দুধ খাওয়ায়। এরপরও তারা থামছিল না। রাত আড়াইটার দিকে বাচ্চা দুটির মুখে চড় মারেন। পরবর্তীতে মুখে বালিশচাপা দিয়ে তাদের শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। হত্যার পর কি করবেন ভেবে পাচ্ছিলেন না। তাই নাটক সাজানোর জন্য বাচ্চা দুটিকে পুকুরে ফেলে দেন। শিশুদের পুকুরে ফেলে দেয়ার পর ঘরের দরজা খুলে ঘুমিয়ে পড়েন কনা। যেন বিষয়টি কেউ ঠিক না পায়। রাত ৪টার দিকে ঘুম থেকে উঠে চিৎকার করেন। পাড়ার লোকজন তাদের বাড়িতে জড়ো হয়। এরপর সবাই শিশুদের খোঁজ নিতে থাকেন। সকাল সাড়ে ৬টার দিকে বাড়ির পাশের একটি পুকুর থেকে দু’জনের মরদেহ উদ্ধার করে নানি শরিফা খাতুন ও মামা নুর আলম। পরে পুলিশ সুরতহাল রিপোর্ট তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। এরপর ওই পরিবারের প্রতিটি সদস্যের ওপর নজর রাখেন এই কর্মকর্তা। পরবর্তীতে বিকেলে কনা, তার বাবা ও মাকে থানায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে নেয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদে কনা অসংলগ্ন কথা বলতে থাকে। একপর্যায়ে কনা জমজ শিশু হত্যার কারণ পুলিশের কাছে ব্যাখ্যা করে। পরে অপর দু’জনকে ছেড়ে দিয়ে কনাকে আটক রাখে। এ ঘটনায় শিশুদের বাবা মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন।
Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.
বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com
অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com
ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১