বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ২১ February ২০২২

স্বাধীনতার ৫০ বছর পর দুল্যা গ্রামে শহীদ মিনার নির্মাণ


স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পর এবার টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার ভাতগ্রাম ইউনিয়নের মুনসুর দুল্যা গ্রামে নির্মাণ করা হয়েছে বীর শহীদদের স্মরণে শহীদ মিনার। শত চেষ্টা পেরিয়ে কাজ শুরুর দীর্ঘ ৯ বছর পর দৃষ্টিনন্দন এমন একটি স্মৃতিবিজড়িত শহীদ মিনার নির্মাণ করায় আনন্দিত এলাকার ছোট থেকে শুরু করে সকলেই।

মিনার নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণকারী মির্জাপুর সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি শাহরিয়ার নাহিদ জানান, তার গ্রামে কোনো বীর মুক্তিযোদ্ধা নেই, নেই স্কুল-কলেজ এমনকি একটি শহিদ মিনারও। তিনি ছাত্র রাজনীতিতে আসার পর থেকেই শহীদদের স্মরণে একটি মিনার তৈরির চিন্তাভাবনা করেন। গেলো ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে তিনি তার এলাকার পাঁচ তরুণকে সঙ্গে নিয়ে নিজ উদ্যোগে মিনার নির্মাণ শুরু করেন। কিন্তু অর্থাভাবে কাজটি কিছুদিন পর থেমে যায়। বিষয়টি স্থানীয় প্রয়াত এমপি মো. একাব্বর হোসেনের ছেলে ব্যারিস্টার তাহরীম হোসেন সীমান্তকে জানানো হলে তিনি সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। পরে প্রয়াত এমপি একাব্বর হোসেন একটি বরাদ্দ দিলে আবারও শুরু হয় নির্মাণ কাজ। কোনো রাজমিস্ত্রির সহযোগিতা ছাড়াই এলাকার ছাত্র-তরুণদের নিয়ে টানা ৬ মাসে কাজটি সম্পন্ন করা হয়। উক্ত শহীদ মিনারটি নির্মাণ করতে ২ লক্ষাধিক টাকা ব্যয় হয়েছে বলে জানা গেছে।

ওই গ্রামের বাসিন্দা ইয়াকুব মিয়া বলেন, আজ আমরা খুব আনন্দিত। আমাদের একটি স্বপ্ন আজ বাস্তবায়িত হয়েছে। এখন জাতীয় দিবসগুলোতে আর কষ্ট করে আমাদের দূরে যেতে হবে না, যারা নিরলসভাবে কাজ করে এটি নির্মাণ করেছে আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

জানতে চাইলে ব্যারিস্টার তাহরীম হোসেন সীমান্ত জানান, আমি খুব আনন্দিত এতো সুন্দর একটি শহীদ মিনার দেখে। কোনো মিস্ত্রি ছাড়া শহীদ মিনার নির্মাণ করে একটি নজির সৃষ্টি করলো আমার ছাত্রলীগের ভাইয়েরা। এরআগেও আমার এই ছাত্র ভাইয়েরা বিভিন্ন সময় অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে কাজ করেছেন ভবিষ্যতেও এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে। সবশেষ তিনি দিনরাত পরিশ্রম করে শহীদ মিনার নির্মাণের পেছনে যাদের অবদান তাদের সকলের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। দেশপ্রেম থেকেই এ কাজটি করা সম্ভব বলে তিনি উল্লেখ করেন।

রোববার বিকেলে বীর শহীদদের স্মরণে নির্মিত এই মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়ে উদ্বোধন করেন কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সহ-সম্পাদক ব্যারিস্টার তাহরীম হোসেন সীমান্ত। শহিদ বেদিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের পর এলাকার সকলের উপস্থিতিতে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। পরে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভাতগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে উদ্বোধক হিসেবে বক্তৃতা করেন, ব্যারিস্টার তাহরীম হোসেন সীমান্ত।

এ সময় শাহরিয়ার নাহিদের সঞ্চালনায় অন্যান্যের মধ্যে, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. সাদ্দাম খান, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম সিয়াম, সহ-সভাপতি শেখ রাসেল হাসান রকি, উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সুজন খান, উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ফুয়াদ হোসেন হৃদয়, সাংগঠনিক সম্পাদক জিহাদ হাসান, পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ওয়াকিল আহমেদ, মির্জাপুর সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মারুফ হোসেন, পৌর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাগর, ভাতগ্রাম ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রাতুল মৃর্ধা, গ্রন্থ ও প্রকাশনা সম্পাদক রিফাত আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১