আপডেট : ২৭ February ২০২২
মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া উপজেলার আংগুটিয়া গ্রামে দুইপাশে সংযোগ সড়ক না করেই একটি সেতু প্রায় ২৪ বছর ধরে পরে আছে। জনসাধারনের চলাচলে সেতুটি কোন কাজে না লাগলেও কৃষকের হয়েছে বিপদ। খনন করা খালটিপ্রায় দখল করে নিয়েছে এলাকার মানুষ। সেতুর পাটাতনের উপর মই বেয়ে গরুর গোবর শুকিয়ে জ্বালানী তৈরী করছে কৃষাণীরা। সেতুর চারিদিকের রেলিং ভেঙ্গে গেছে। বড় বড় আগাছা ও জঙ্গলে ভরে গেছে সেতু। এছাড়া মানুষের কোন কাজে আসছে না সেতুটি। এদিকে কয়েক হাজার কৃষকের আবাদী জমির ফসল এ সেতুর নিচ দিয়ে আনা নেওয়ায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন এলাকার কৃষকরা। সাটুরিয়া উপজেলা প্রকৌশলী বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এ উপজেলায় সড়ক বিহীন এমন একটি সেতু আছে তা তাদের জানা নেই। তাদের প্রশ্ন কার স্বার্থে এ সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছিল। সেতুটি এলজিইডির না ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা করেছে তা নথিপত্র যাচাই বাছাই করে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ব্যবস্থা নিবেন বলে উভয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন। তবে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দপ্তর জানিয়েছেন সেতুটি তাদের নয়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দিঘলিয়া ইউনিয়নে এক জমিদার বসবাস করত। তাদের মালপত্র আনা নেওয়ার জন্য বড় একটি খাল খনন করেন প্রায় ২ শত বছর আগে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আমলে ওই বড় খাল থেকে একটি ছোট খাল খনন করা হয় দক্ষিণ চকের কৃষি জমি আবাদের জন্য। বর্তমানে সেই খালের কোন চিহৃ নেই। ওই ছোট খালের উপর ১৯৯৮ সালে প্রায় ৬০ ফুট একটি সেতু নির্মাণ করা হয়। সেতু নির্মানের আগে কথা ছিল এলাকাবাসী সেতুর দুপাশে সংযোগ সড়কের জন্য জমি ছেড়ে দেবে। কিন্তু জমি ছেড়ে না দেওয়ায় সেতুটি নির্মানের পর থেকেই ২৪ বছর ধরে এ অবস্থায় পরে আছে। এলাকাবাসী জানায়, এ সেতুটি সচল থাকলে আংগুটিয়ার সাথে পৌলশুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কড়াইল গ্রামে মানুষ সহজে চলাচল করতে পারত। কিন্তু সেতু বরাবর যাদের জমি সড়কের জন্য দেওয়ার কথা ছিল তারা জমি না দেওয়ায় এখন বিপদ হয়েছে কৃষকের। সরু খালের উপর নির্মিত সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছিল অনেক নিচু করে। জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা হয়েছে ওই সেতুর নিচ দিয়ে। কয়েক হাজার একর জমির আবাদী ফসল আনা নেওয়ার ক্ষেত্রে চরম বিপাকে পরে কৃষকরা। কৃষকের মরার উপর খাড়ার ঘাঁ হয়ে দাড়িয়েছে সেতুটি। এলাকাবাসীর দাবী সেতুটি দ্রুত অপসারণ করলে অনেক কৃষক ও সাধারণ মানুষ স্বস্থি ফিরে পাবে। সেতু সংলগ্ন মো. হুমায়ন কবির জানান, এক সময় দক্ষিণ ফসলী জমিতে কৃষি আবাদ হতো না। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময় বড় খাল থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার ছোট খাল খনন করা হয় পানি নিঃস্কাশনের জন্য। এটি আংগুটিয়া হয়ে দরগ্রাম গাজীখালি নদীর সাথে মিশে গেছে। এ ছোট খাল দিয়ে এক সময় ছোট বড় নৌকা চলাচল করত। এখন খালের দুপারে মানুষ খালটি ভরাট করে দখল নিয়েছে। ১৯৯৮ সালের বন্যার পর এ সেতুটি সংযোগ সড়ক না করে নির্মাণ করা হয়। সেতুটি নির্মাণের পর একজন মানুষও পায়ে হেঁটে সেতুর উপর দিয়ে চলাচল করতে পারেনি বলে তিনি জানান। কৃষক রফিকুলের স্ত্রী জানায়, আমার বিয়ে হয়েছে ২০ বছর ধরে। বিয়ের পর থেকেই দেখে আসছি সেতুটি পরিত্যাক্ত অবস্থায় পরে আছে। সেতুটি এ অবস্থায় থাকায় চরম বিপাকে পরেছে এলাকার মানুষ ও কৃষকরা। তিনি আরো বলেন, রাতের বেলা এ সেতুর নিচ দিয়ে চলাচল করতে ছোট ছোট শিশুরা ভয় পায়। সেতুর উপর বড় আকারে বটগাছ জম্মানোর ফলে ভূত পিসাশের ভয়ে মহিলাদের মধ্যে আংতঙ্ক বিরাজ করে। দিঘলিয়া ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান মো. মতিউর রহমান জানান, সেতুটি অপসারণের জন্য উপজেলা প্রকৌশলী বিভাগকে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে তারা কোন পদক্ষেপ নেননি বলে তিনি জানান। এ বিষয়ে সাটুরিয়া উপজেলা প্রকৌশলী মো. নাজমুল করিম বলেন, দুদিন ধরে আমি যোগদান করেছি। অনেক আগেকার সেতু। এটির নথিপত্র আছে কিনা তা খুঁজে দেখতে হবে। তবে সেতুটির খোঁজ খবর নিয়ে অপসারণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানান তিনি।
Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.
বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com
অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com
ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১