বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ০৪ March ২০২২

ওয়ার্ল্ড ইয়ুথ আর্মি


আয়েশা আক্তার ইতি। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী। ২০২০ সালের মার্চ মাসে করোনা সংক্রমণ শুরু হলে বিশ্ববিদ্যালয় ছুটিতে গ্রামে ফিরে অসহায় দরিদ্র মানুষের দুর্দশা দেখে ‘ওয়ার্ল্ড ইয়ুথ আর্মি’   নামে একটি সংস্থা গড়ে তুলেন । সে সময়   লকডাউনে গ্রামের নিম্ন আয়ের মানুষগুলো কর্মসংস্থান হারিয়ে খাবার সংকটে পড়ে । একদিন ইতির বাসায় এক বিধবা নারী বাসি খাবার চায়। উনার বাচ্চা- ছেলে বাজার চায়ের দোকানে কাজ করত। করোনায় কাজ বন্ধ হওয়ায় কষ্টে ছিল তারা । উনার সমস্যার কথা ইতি ফেসবুকে পোস্ট দেন। বিষয়টি স্থানীয় এমপির নজরে আসলে তিনি ওই বিধবার  ১ সপ্তাহের খাবারের ব্যবস্থা করে দেন । ওই গ্রামে আরো অনেক পরিবার কর্মহীন হয়ে খাবারের কষ্টে রয়েছে ।

গ্রামের মানুষের কষ্ট লাগবের জন্য কিছু করবো, এমন মনোভাব নিয়ে ইতি তার  কাজ শুরু করলেন। খাদ্য সমস্যার এই করুণ অবস্থা নিয়ে প্রথমত স্থানীয় তরুণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত শিক্ষক ও সিনিয়রদের সাথে পরামর্শ করেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এস এম সাদাত হোসেনসহ ৩ জন শিক্ষককে উপদেষ্টা করে এলাকার  তরুণ ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে ‘ওয়ার্ল্ড ইয়ুথ আর্মি’র যাত্রা শুরু হয়। করোনার শুরু দিকে মাত্র ২৫ জন স্বেচ্ছাসেবী নিয়েই কাজ শুরু করেন ইতি। তাৎক্ষণিকভাবেই অর্থ সংগ্রহ শুরু করেন। প্রথমদিকে ইতি তার বাবাকে নিয়ে গ্রামে গ্রামে বিভিন্ন বাড়ি বাড়ি গিয়ে অসহায় ও কর্মহীন পরিবারের তালিকা করেন। এই কারণে নানা ধরনের কটু কথার সম্মুখীন হতে হয়েছে ইতিকে । এমন সময়ে তার বিশ্ববিদ্যালয়ের এবং পরিচিত অনেকেই  এই উদ্যোগের পাশে দাঁড়ান। ইতি বলেন, ‘আমরা এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা ৩, ৪ এবং ৫ নিয়ে কাজ করছি। তবে করোনার সময় ২ এবং ৩ নিয়ে কাজ করেছি। আমার এই সংগঠনের  সহ-প্রতিষ্ঠাতা হলেন রাকিব আল হাসান। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ।

সংগঠনটির কার্যক্রম : 

তালিকা করে নোয়াখালী জেলার প্রায় ২৫০ পরিবারের কাছে জরুরি খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়। ত্রাণসামগ্রী নিয়ে স্বেচ্ছাসেবীদের সাথে ইতি ও তার পরিবার একসাথে কাজ করে। সেই কাজের কথা ফেসবুকে পোস্ট করলে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ  সাহায্য চায়। তা দেখে ইতিরা শুধু গ্রাম নয়, আরেকটু বড় আকারে অর্থাৎ পুরো বাংলাদেশে সহযোগিতার চিন্তা শুরু করেন । বিভিন্ন জেলা থেকে স্বেচ্ছাসেবী আহ্বান করে তাদের সহযোগিতায় এই সংগঠনটি ২৪ টি জেলায় (নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চট্টগ্রাম, ঢাকা, খুলনা, খাগড়াছড়ি, পটুয়াখালী, মানিকগঞ্জ, ঝিনাইদাহ, লালমনিরহাট, ফেনী, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, চাঁদপুর, জামালপুর, দিনাজপুর, রংপুর, গাজীপুর ইত্যাদি) Rapid Response Relie fund প্রোজেক্টের অধীনে প্রায় ৩০০০+ পরিবারের কাছে আমাদের জরুরি খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দিয়েছেন ।

এছাড়াও ‘রমজান ফুড প্যাক’ এবং ‘বরকত-ই রমজান’ প্রজেক্টের মাধ্যমে ১৪ জেলায় কর্মহীন দরিদ্র পরিবারের মাঝে ২০২০ এবং ২০২১ সালে রমজানের খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। ঈদে ‘ঈদ উপহার’ এবং ‘জামিলুন ইদ’ প্রজেক্টের মাধ্যমে দরিদ্র পরিবারের মাঝে  ঈদের খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়।  এছাড়া Baby Care প্রজেক্টের মাধ্যমে শিশু খাদ্য এর জন্য আর্থিক সহায়তা করা হয় । খাদ্য সহায়তা ব্যতীত চাকরিহীন এবং করোনাকালীন অসুস্থ অসহায় পরিবারকে চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা দেয় সংগঠনটি। দেশব্যাপী মাস্ক বিতরণ, কম্বল বিতরণ, প্লাজমা ব্যাংক সেবা, গ্রামীণ নারীদের মাঝে প্যাড বিতরণ, বৃক্ষরোপণসহ অন্যান্য আরো অনেক সচেতনতামূলক প্রোগ্রামের আয়োজন করা হয়। শিক্ষার্থীকে করোনা পরবর্তী শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ এবং স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মাসিক হারে বৃত্তি প্রদান করা হয়।  ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবসে নারীদের পিরিয়ডকালীন সুরক্ষা নিশ্চিতে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের পিছিয়েপড়া নারীদের সচেতনতা বৃদ্ধিতে ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হয় এবং তাদের মাঝে ফ্রি প্যাড বিতরণ করা হয় । গ্রামের স্কুলগুলোতে মেয়েদের জন্য প্যাড স্টেশন (ফ্রি প্যাড) স্থাপনের প্রক্রিয়া এখনো চলমান । এছাড়াও সারা দেশে পারিবারিক এবং সব জায়গায় যৌন হয়রানি বৃদ্ধি পাওয়ায় আমরা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে মেয়েদের যৌন হয়রানি নিয়ে সচেতনতা সৃষ্টি এবং তাদের নিজেদের যৌন হয়রানি থেকে বাঁচানোর নানা কৌশল শিখিয়ে থাকে ওয়ার্ল্ড ইয়ুথ আর্মি। বর্তমানে সংগঠনে প্রায় ১৫০ জন স্বেচ্ছাসেবী কাজ করে।


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১