বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ০৫ March ২০২২

বিদ্যালয়ের নির্ধারিত জুতা পড়ে না আসায় শিক্ষার্থীদের বের করে দিলেন প্রধান শিক্ষক!


ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় একটি বিদ্যালয়ে নির্ধারিত জুতা পড়ে না আসায় প্রায় ২০-২৫জন শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয় থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। তিনি ৬ষ্ঠ ও দশম শ্রেণীর ২০-২৫জন শিক্ষার্থীকে সাদা কেডস জুতা পড়ে না আসায় তাদেরকে শ্রেণি কক্ষ থেকে থেকে বের করে দেন। অভিভাবকরা বিষয়টি জানতে পেরে ক্ষোভ প্রকাশ করলে ও কিছু সংখ্যক শিক্ষার্থীকে ক্লাসে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। লজ্জায় অপমানিত হয়ে অনেকে শিক্ষার্থী বাড়িতে চলে যায়।

শনিবার পৌরশহরের নাছরীন নবী পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

ওই বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, সাপ্তাহিক একদিন বিদ্যালয়ে শনিবার ৬ষ্ঠ ও দশম শ্রেণীর ক্লাস থাকায় সকাল থেকেই শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসেন। বিদ্যালয়ের যে ড্রেস থাকার কথা ওই ড্রেস সবাই পড়ে আসেন। তবে ড্রেসের সঙ্গে অনেক শিক্ষার্থী নানা জাতের কেডস ও স্যান্ডেল পড়ে শ্রেণি কক্ষে প্রবেশ করেন। কিন্তু শিক্ষার্থীদের সাদা কেস না থাকায় চেক করে বেকে বসেন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। যে সমস্ত শিক্ষার্থীরা সাদা কেস পড়ে আসেননি তাদেরকে শ্রেণি কক্ষ থেকে বের করে দেন প্রধান শিক্ষক দেবব্রত বনিক ও তার স্ত্রী শিক্ষক শিখা রানী বনিক। এতে অপমান বোধ করে অনেক শিক্ষার্থী বাড়ি গিয়ে কান্নাকাটি করলে তাদের অভিভাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ স্কুল গেইটে গিয়ে প্রতিবাদ করলে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে ক্লাসে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক বলেন প্রধান শিক্ষক নিজের ইচ্ছা মতো সব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। ওনি আর ওনার স্ত্রী মিলে যে সিদ্ধান্ত নিবেন সবাইকে তা মানতে হবে। তাদের মধ্যে মানবিকতা বলে কিছু নেই।

পৌরশহরের নারায়ণপুর গ্রামের মোঃ আনিসুর রহমান নামে এক অভিভাবক ফোনে জানান, আমার মেয়ে বাড়িতে এসে কান্নাকাটি করলে আমি তার স্কুলে গিয়ে বিষয়টির প্রতিবাদ জানায়। পরে তাকে ক্লাসে নিয়ে বসায়। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে আরো বলেন এই করোনাকালে প্রধান শিক্ষক মানবিক সব কিছু ভুলে গেছেন।
রাধানগর সাহাপাড়ার দিপা সাহা নামের আরেক অভিভাবক বলেন, প্রধান শিক্ষকের নির্দেশ স্কুল ড্রেস ও নির্ধারিত সাদা কেস জুতা না পরে আসলে শ্রেণি কক্ষে ঢুকতে দেন না। ৬ষ্ঠ শ্রেণির রিমা আক্তার বলেন, সাদা ছাড়া অন্য কেস জুতা পড়ে যখন বিদ্যালয়ে প্রবেশ করি তখন পায়ের দিকে নজর করে আমাকে প্রবেশ করতে দেন নি। অনেক অনুরোধ করে কোন কাজ হয়নি বলে জানায়।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেবব্রত বনিক বলেন, ক্লাসে স্কুল ড্রেস ও নির্ধারিত জুতা পরে আসার জন্য অনেক দিন আগেই নোটিশ দেওয়া আছে। তাছাড়া সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমেও বিষয়টি অবগত করা হয়েছে। তারপরও যারা নির্দেশ মানেনি তাদেরকে ক্লাস থেকে বের করে দেওয়ার বিষয়টি সত্য নয়। আমি তাদেরকে বিদ্যালয়ের নির্দেশ মানার বিষয়টি পুনরায় বলেছি। তারা যেন আর গাফিলতি না করে।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আক্তার বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তো মাত্র খুলল। এই সময়ে এতো কঠোর হওয়া উচিৎ হয়নি। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১