আপডেট : ১৭ March ২০২২
গাজীপুরের শ্রীপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের প্রধান ফটক সকল দর্শনাথীদের জন্য বিনা (উন্মুক্ত প্রবেশ ফ্রি) টিকেটে ঢুকার সুযোগ করা হয়েছিল। আজ বৃহস্পতিবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০২ তম জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে এ ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সকাল থেকেই পার্কে উপচে পড়া ভিড় ছিল সরকারি ছুটি উপলক্ষে। বিভিন্ন শ্রেণীর দর্শনার্থীরা পার্কে বিনা টিকেটে প্রবেশ করে উচ্ছাস প্রকাশ করে। শিশু দিবস উপলক্ষে অভিভাবকরাও তাদের শিশুদের নিয়ে পার্কে বেড়াতে আসেন। তবে সকাল সাড়ে দশটার পর এ খবর আসে প্রধান গেইট ইজারাদারদের কাছে। এর পর থেকে এ সুযোগ কার্যকর করা হয়। কিন্তু সকাল নয়টার আগেই যদি এ নোটিশ হাতে পাওয়া যেত তাহলে শুরু থেকেই বিনা টিকেটে সবাই প্রবেশ করতে পারত বলে জানান, গেই ইজারাদারের দায়িত্বরত কর্মকর্তা মাসুদ রানা। পৌনে এগারটার পরে যারা প্রবেশ করেছে তারই কেবল এ সুযোগ পেয়েছেন বলে এ কর্মকর্তা নিশ্চিত করেন। যোহরের নামাজের পরে পার্ক মসজিদে সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষে মিল্লাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেন। পার্কের প্রধান ফটক ইজারাদারের লোকজন জানান, আজ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের জন্মশতবার্ষিকীকে উপলক্ষ করে ও জাতীয় শিশু দিবসের জন্য পার্কে প্রবেশ ফ্রি করা হয়েছে। আজ বহু দর্শনার্থীদের আগম ঘটেছে। সরকারি ছুটি পেয়ে আশেপাশের বহু পোশাক কারখানার শ্রমিকরা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও পার্কে বেড়াতে আসেন। বেলা বাড়ার সাথে সাথে পর্যটকের ভিড় বাড়তে থাকে। তীব্র গরম উপেক্ষা করেও পার্কে নানা বয়সের দর্শনার্থীরা ঘুরতে আসে। দর্শনার্থীরা জানায়, যারা সকাল নয়টার পরেই ঢুকেছে তারা প্রবেশ ফি দিয়ে পার্কে ঢুকেন। কিন্তু এগারটার দিকে যারা প্রবেশ করেছে তারা বিনা টিকেটে(ফ্রি প্রবেশ) ঢুকেছে। এতে অনেকে অসন্তুষ্ট হয়েছে। দুই ঘন্টা পর আগত দর্শনার্থীরা জানলো পার্কে আজ প্রবেশ ফ্রি করা হয়েছে। একই দিনে দুই নিয়মের গ্যারাকলে পড়ে অনেকে ক্ষোভও প্রকাশ করেন। তারা আরও বলেন, যদি পার্ক কর্তৃপক্ষ পার্ক খোলার (সকাল ৯ টায়) আগেই এ নোটিশ গেইটে পৌঁছে দিত তাহলে সবাই এ সুযোগ পেত। যারা গেই খোলার সাথে সাথে প্রবেশ করেছে তারা এ সুযোগ পায়নি। আগত একাধিক দর্শনার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শুধু পার্কে প্রবেশ মূল্য মওকুফ করা হলে কি লাভ। পার্কের ভিতরেই ত যত বেশি খরচ লাগে। একটি ছোট্ট পরিবার পার্ক ঘুরে গেলে দেড় থেকে দুই হাজার টাকা খরচ পড়ে। পার্কে প্রবেশ মূল্য মাত্র ৫০ টাকা বেঁচে গেল। কিস্তু অন্যসব খরচ ত ঠিকই করা লাগছে। তারা দাবি জানান, এমন বিশেষ দিনে অন্তত সব রাইড উন্মুক্ত রাখা হোক। এতে সাধারন কোনো গরীব পরিবার তাদের শিশুদের পার্ক ঘুরিয়ে নিতে পারবে বিনা টাকায়। পার্কের ইজারাদারের পক্ষে দায়িত্বে থাকা মাসুদ রানা বলেন, সকালে পৌনে এগারটা দিকে আমাকে জানানো হয় আজ প্রবেশ ফ্রি করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আমার কাছে থেকে একটি নোটিশে স্বাক্ষরও নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এ নোটিশ যদি গতকাল বা আজ পার্ক খোলার আগেই আমাদের জানানো তাহলে সবাই পার্কে বিনা টিকেটে প্রবেশ করতে পারতো। আমরা সকালে পার্ক খোলার পর পর যারা প্রবেশ করেছে তাদের কাছ থেকে প্রবেশ মূল্য বাবদ (টিকিটি কেটে) ফি নিয়েছি। যখন জেনেছি তখন থেকে ফি বন্ধ করে বিনা টিকেটে প্রবেশ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পার্কে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, আজ পার্কে সকল দর্শনার্থীদের প্রবেশে কোনো টিকেট লাগেনি। সবাই ফ্রিতে পার্কে প্রবেশ করছে। বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষে পার্কে ও মসজিদে দোয়া ও মিলাদের আয়োজন করা হয়েছিল। প্রকল্প পরিচালক স্যার মিলাদে উপস্থিত ছিলেন এতো দেরিতে কেন নোটিশ পেল ইজারাদারের লোকজন এমন বিষয়ে জানতে প্রকল্প পরিচালক মোল্লা রেজাউল করিমের মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে সংবাদকর্মী পরিচয় জানার পর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। পরে একাধিকবার চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ক্ষুদে বার্তা দিলেও কোনো প্রশ্নের উত্তর মিলেনি। তিনি ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়ে বলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করতে।
Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.
বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com
অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com
ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১