আপডেট : ২১ March ২০২২
বিভিন্ন দূষিত পদার্থের প্রকট উপস্থিতির কারণে গভীর নলকূপের পানিও এখন আর নিরাপদ নেই। এতে ঢুকে পড়েছে পানিবাহিত রোগের উপাদান ব্যাকটেরিয়া। সেটাও ভয়াবহ মাত্রায়। তাই এখনই ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমিয়ে ভূ-উপরিভাগের পানি ও বৃষ্টির পানির ব্যবহার বাড়ানোর পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের। গতকাল রোববার রাজধানীর সিরডাপ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবস্থাপনা : এসডিজি অর্জনে সুবিচার’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। বিশ্ব পানি দিবস ২০২২ উপলক্ষে যৌথভাবে এ সেমিনারের আয়োজন করে এনজিও ফোরাম ফর পাবলিক হেলথ ও ভোরের কাগজ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন এবং সমবায়মন্ত্রী তাজুল ইসলাম। ভোরের কাগজ-এর সম্পাদক শ্যামল দত্তর সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশ নেন—এনজিও ফোরামের নির্বাহী পরিচালক এস.এম.এ. রশিদ, গ্রাউন্ড ওয়াটার হাইড্রোলো-বিডব্লিউডিবির পরিচালক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাডজান্ট ফ্যাকাল্টি ডা. আনোয়ার জাহিদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. কাজী মতিন ইউ আহমেদ এবং বুয়েটের পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মাশফিকুস সালেহীন প্রমুখ। আলোচনায় বক্তারা বলেন, সত্তরের দশকের আগে দেশের মানুষের কাছে সুপেয় পানির প্রধান উৎস ছিল ভূপৃষ্ঠ বা পুকুর, নদী-খাল, বৃষ্টি আর জমিয়ে রাখা পানি। সত্তরের দশকের শুরুতে কৃষিকাজের জন্য দেশে প্রথম ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার শুরু হয়। আশির দশকে তা ব্যাপকতা পায়। সেই যে শুরু এরপর আর থামানো যায়নি। ফলে গত চার দশকে দেশে ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার বেড়েছে প্রায় ১০০ শতাংশ। খাবার পানি, রান্না, গোসল, সেচ, এমনকি দৈনন্দিন কাজেও ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে মানুষ। যদিও নিরাপদ নয় ভূগর্ভস্থ পানিও। ভূগর্ভের পানি অতিরিক্ত উত্তোলনের কারণে দেশের বিভিন্ন অংশে মার্চ-এপ্রিলে ভূগর্ভের পানির স্তর সমুদ্রের পানির উচ্চতার চেয়ে তিন থেকে ১০ ফুট পর্যন্ত নিচে নেমে যাচ্ছে। তাছাড়া স্বাভাবিক নিয়মে ভূগর্ভস্থ পানির যে স্তর খালি হয়, তা পরবর্তী সময়ে প্রাকৃতিকভাবেই পূরণ হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু ঢাকাসহ আরো কিছু এলাকায় তা হচ্ছে না। ভূগর্ভের পানি শুধু কমছে, বাড়ছে না। আগে থেকেই অপরিকল্পিত ও অনিয়ন্ত্রিতভাবে অতিমাত্রায় নলকূপ বসিয়ে ইচ্ছামতো পানি তুলে ফেলায় অবস্থা এমন হয়েছে যে এখন আর পানি আমাদের নাগালে পাওয়া যাচ্ছে না। সরকার বিভিন্নভাবে চেষ্টা করলেও ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট দিয়ে পানির সঠিক মাত্রায় নিরাপদ করা যাচ্ছে না মারাত্মকভাবে পানিদূষণের কারণে। বক্তারা জানান, ১৫০-৫০০ ফুট গভীরে কাদামাটির স্তরের নিচের জলাধার সাধারণত নিরাপদ। কিন্তু একটি গবেষণা জানাচ্ছে, ঢাকায় পানির স্তর অনেক নিচে নেমে যাওয়ায় এখানকার গভীর নলকূপগুলো আশপাশের এলাকার জলাধারের পানিতে টান দিচ্ছে। তাতে এসব এলাকায় কাদামাটির স্তর থেকে সক্রিয় কার্বন বেরিয়ে আসছে। জলাধারের বালুর আর্সেনিক সহজে বেরিয়ে আসতে পারছে। কলাম্বিয়াসহ যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষকের গবেষণায় এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে। পানি বিশেষজ্ঞরা আরো বলেন, ভূগর্ভস্থ পানির অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে পানির স্তর নিচে নেমে যায়, এতে প্রাকৃতিক পরিবেশে বা ইকোসিস্টেমে ভারসাম্য ক্ষুণ্ন হয়। প্রত্যক্ষভাবে যে সমস্যা সৃষ্টি হয় তা হলো, পানির স্তর ক্রমাগত নেমে যাওয়ার ফলে পানি তোলার ব্যয় বেড়ে যায় এবং পানির প্রাপ্যতা কমে যায়, এমনকি ভূগর্ভস্থ পানিতে দূষণের ঝুঁকিও দেখা দিতে পারে। দ্বিতীয়ত, মাটির নিচ থেকে অতিরিক্ত পানি তোলা চলতে থাকলে ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়ে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, ভূগর্ভস্থ পানির স্তরের যে নিম্নগামিতা, সেখান থেকে উত্তরণে দরকার ভূপৃষ্ঠের উপরিভাগের পানির ব্যবহার বাড়ানো। বিশেষ করে ঢাকা ও বরেন্দ্র এলাকায় বৃষ্টির পানি ধরে রেখে তা পুনর্ভরণের ব্যবস্থা করতে হবে। আর পানিতে যে ভারী ধাতু, আর্সেনিক ও দূষিত পদার্থ পাওয়া যায়, সেখান থেকে উত্তরণেও বৃষ্টির পানি ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দেন তারা।
Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.
বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com
অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com
ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১