আপডেট : ২৯ March ২০২২
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় চারদিকে সবজির সমারোহ। সবজি চাষে অপার সম্ভাবনা দেখা দেওয়ায় স্থানীয় কৃষকরা অর্থনীতি উন্নয়নে এক অগ্রণী ভূমিকা রাখছে। এখানকার সবজি নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে যাচ্ছে সারা দেশে। বাণিজ্যিকভাবে পতিত জমিতে দেশীয় পদ্ধতিতে সবজি আবাদ করায় বদলে যাচ্ছে কৃষকের জীবনযাত্রা। স্থানীয় কৃষকরা কোন প্রকার কীটনাশক ও রাসায়নিক সার ব্যবহার ছাড়াই দেশীয় পদ্ধতিতে মৌসুম অনুযায়ী বছর জুড়ে বেগুন, বরবটি, করলা, উচ্ছে, টমেটো, খিরা, মিষ্টি কুমড়া, ঝিঙ্গা, কাঁকরোল, জালি, আলো, মুখি, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, লাল শাখ, টমেটো, শিম, লাউ, পুইশাখসহ বিভিন্ন প্রজাতির সবজি চাষ করছেন। সেই সাথে তারা মরিচ, ভূট্টা, গম, পাট, ধান ও আবাদ করছেন। একই সাথে পরিবেশ রক্ষা জীব বৈচিত্র্য এবং মানবদেহের কোন প্রকার ক্ষতি না হয় সে বিষয়ে স্থানীয় কৃষকরা রয়েছে খুবই সতর্ক। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানায়, পৌর শহরসহ এ উপজেলায় প্রায় ৬শ হেক্টর জমিতে সবজির চাষ করা হচ্ছে। কম খরচে বেশী লাভ হওয়ায় দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে সবজির আবাদ। কোন প্রকার রাসায়নিক সার ব্যবহার না করেই করছেন সবজি চাষ। ফলন ভালো করতে সব সময় কৃষি অফিসের পরামর্শ নিচ্ছেন কৃষকরা। তবে গম, পাট, ধানের চাইতে সবজিতে বেশী আয় হওয়ায় বছর জুড়ে স্থানীয় কৃষকরা এ চাষ করছেন। তবে এখানকার সবজির সবজির সুনাম রয়েছে দেশের বিভিন্ন জায়গায়। তাই নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাচ্ছে পাইকাররা। স্থানীয় একাধিক কৃষক বলেন, ধান ও পাট চাষে ফলন ভালো না হওয়ায় বর্তমানে তারা নানা প্রজাতির সবজি চাষ করে সফলতা পেয়েছেন। তাই তারা সারা বছরই করছেন এ চাষ। সরেজমিনে উপজেলার আজমপুর, আনোয়ারপুর, রাজাপুর, রামধননগর, চানপুর, দুর্গাপুর, হিরাপুর, নুরপুর,উমেদপুর, আদমপুর, বাউতলা, সাতপাড়া, তুলাবাড়ি, ধাতুরপহেলা, তারাগন, কৃষ্ণনগর, বনগজ খারকোট, মিনারকোট, নিলাখাত, গিয়ে দেখা যায় চারদিকে শুধু সবজি আর সবজি নজরে পড়ছে। কৃষকরা সবজি পরিচর্যাসহ বাজার জাত করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কারণ সবজি ক্রয় করতে বিভিন্ন জেলার পাইকাররা ছুটে আসছেন তাই তারা বিক্রির জন্য সবজি তুলে প্রস্তুত করে রাখছেন। পাশাপাশি স্থানীয় বাজারগুলোতে ও রয়েছে এখানকার সবজির যথেষ্ট কদর। নানা জাতের টাটকা সবজি পসরা সাজিয়ে কৃষকরা বিক্রি করছেন। বনগজ গ্রামের কৃষক মো. জামির হোসেন বলেন, এ বিলে বর্ষা মৌসুমে প্রায় ৫ মাস জমিতে পানি থাকে । পানি চলে গেলে সবজি আবাদ করা হয়। এ মৌসুমে তিনি ৬০ শতক জায়গায় করলা, মিষ্টি কুমড়া, ,খিরাসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করেন। এতে তার ৪৫ হাজার টাকা উপর খরচ হয় বলে জানায়। ইতিমধ্যে তিনি ৭০ হাজার টাকার সবজি বিক্রি করেছেন বলে জানায়। তিনি বলেন ধান চাষে লোকশান হওয়ায় গত প্রায় ৫ বছর ধরে সবজির আবাদ করছেন। এবছর তার ফলন ও বাজার দর ভালো হওয়ায় যাবতীয় খরচ বাদে প্রায় ১ লাখ টাকার উপর আয় হবে বলে তিনি আশা করছেন। কৃষক মো: হারুন মিয়া বলেন, দেশীয় পদ্ধতিতে ৫০ শতাংশ জায়গায় করলা, উচ্ছে, খিরা চাষ করেন। জমি তৈরী পরিচর্যা, পানি, সার ও মাচা তৈরীসহ অন্যান্য কাজে তার ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়। ইতিমধ্যে বাজারে সবজি বিক্রি শুরু হয়েছে। দেশের বিভিন্ন জায়গার পাইকাররা এসে এখান থেকে সবজি ক্রয় করে নিয়ে যাচ্ছেন। তবে অন্যান্য বছরের চাইতে এবার বাজার দর ভালো থাকায় দ্বিগুন লাভবান হবেন বলে আশা করছেন। কৃষক মো. মান্নান মিয়া বলেন, দেশীয় পদ্ধতিতে প্রায় ৩ বিঘা জমিতে ফুলকপি, লাউ, মুলা, লাল শাখ, টমোটোসহ নানা জাতের সবজির আবাদ করা হয়। এ পযর্ন্ত তিনি ১লাখ ২০ হাজার টাকার উপর সবজি বিক্রি করেন। শেষ পযর্ন্ত আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে যাবতীয় খরচ বাদে ও নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে ১ লাখ টাকার উপর তার আয় হবে বলে তিনি আশা করছেন। তিনি আরো বলেন, এই জমিতে যদি ধান আবাদ করা হতো তাহলে ৩০ হাজার টাকার বেশী ধান পাওয়া যেতো না। তাই ধান ছেড়ে বারমাসই তিনি সবজি আবাদ করছেন। কৃষক মো. ছিদ্দিক মিয়া বলেন, ধান ও পাট চাষে ভালন না হওয়ায় বর্তমানে মৌসুম বেঁধে নানা প্রকার সবজি তারা বার মাসই আবাদ করছেন। সবজি চাষেই তার অর্থনীতির উন্নয়ন হয়েছে। যা অন্য কোন চাষে হয়নি। এক সময় সংসারে তাদের অভাব অনটন লেগে থাকতো। জীবিকা নির্বাহ করা ছিল খুবই কষ্টকর। কিন্তু সবজি চাষের মাধ্যমে তাদের অভাব অনটন দুর হয়। দেশীয় পদ্ধতিতে চাষ হওয়ায় স্থানীয় বাজারে সবজির যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে। বিক্রিতেও ভালো দাম পাওয়া যায় বলে জানান। ধাতুর পহেলা গ্রামের কৃষক মো. মোস্তাকিম সরকার বলেন, গত ৩ বছর ধরে ২০ বিঘা ইজারা নিয়ে মৌসুন অনুযায়ী টমেটো, করলা, শসাসহ নানা প্রকার সবজি চাষ করেন। কৃষি অফিসের পরামর্শে জমিতে পরিচর্যা করায় তার ফলন ও বেশ ভালো হয়েছে। তিনি বলেন তার সবজি বাজারে নিয়ে বিক্রি করতে হয় না। বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকাররা এসে নিয়ে যাচ্ছে। বাজার দর ভালো থাকায় যাবতীয় খবর বাদে এ মৌসুমে তার ১০-১২ লাখ টাকার উপর আয় হবে বলে তিনি আশা করছেন। কৃষক মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, বাড়ি সংলগ্ন ৫০ শতাংশ জায়গায় তিনি লাউ, লাল শাক, টমেটো, করলা, পেঁপে, কাঁকরোল, বরবটি চাষ করেন। এতে তার খরচ হয় ১৫ হাজার টাকা। ইতিমধ্যে তিনি ২৫ হাজার টাকার সবজি বিক্রি করেন। তিনি আশা আখাউড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানা বেগম বলেন, এ উপজেলার বেশীভাগ গ্রাম সবজি চাষের জন্য খুবই উপযোগী। এসব এলাকার কৃষকরা নিজ উদ্যোগে দেশীয় পদ্ধতিতে সবজি আবাদে অভিজ্ঞ হয়ে উঠেছেন। ফলন ভাল করতে সব সময় তাদেরকে পরামর্শ দেওয়া হয়। মৌসুম বেঁধে সবজি আবাদে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা।
করছেন খরচ বাদে ও পারিবারিক চাহিদা মিটিয়ে এই জমি থেকে ৪৫-৫০ হাজার টাকা আয় হবে।
Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.
বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com
অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com
ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১