আপডেট : ০১ April ২০২২
অনার্সের প্রথম বর্ষে ভতির পরই পুলিশে কনস্টেবল পদে চাকুরি হয় নরসিংদীর হাকিম উদ্দিনের। কিন্তু চাকরির পাওয়ার পরও তিনি পড়ালেখা বন্ধ করেননি। তিনি নরসিংদী সরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে কৃতিত্বের সাথে প্রথম বিভাগ পেয়ে অনার্স শেষ করেন। এবার পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকুরিতে থাকা অবস্থায় বিসিএস পুলিশ ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন মেধাবী হাকিম উদ্দিন। বুধবার চল্লিশতম বিসিএস ক্যাডারের ফল বের হয়। সেখানে তিনি পুলিশ ক্যাডারে মেধাতালিকায় ৬৭তম হন । হাকিম উদ্দিন নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের সায়দাবাদ গ্রামের যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা মৃত সিরাজ মিয়ার ছেলে। পাঁচ ভাই ও এক বোনের মধ্যে হাকিম পঞ্চম। কনস্টেবল হিসেবে পুলিশে যোগ দেওয়া হাকিম বর্তমানে নায়েক হিসেবে বাহিনীতে কমর্রত রয়েছেন। জানা যায় , ২০১০ সালে সায়দাবাদ উচ্চবিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক সম্পন্ন করেছেন হাকিম। কিন্তু এসএসসি পরীক্ষার কয়েকদিন আগেই মারা যান তার বাবা। শোক আর কষ্ট নিয়ে কোনোরকম পরীক্ষার সিটে বসতে হয়েছিল। ফলও তেমন ভাল হয়নি। তারপর রায়পুরা কলেজ থেকে ২০১২ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পাঁস করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত নরসিংদী সরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ২০১২-১৩ সেশনে ভর্তি হন। ভর্তির কিছুদিন পরই পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকুরি হয় তার। ২০১৩ সালে তিনি নোয়াখালী জেলা পুলিশ লাইনে যোগদান করেন। এরপর তিনি গাজিপুর ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশে বদলী হউন। সেখানে প্রায় এক বছর কাজ করে বদলি হয় ঢাকা মেট্রোপলিপন পুলিশে । সেখানে থাকা অবস্থায়ই নরসিংদী সরকারি কলেজ থেকে ২০১৬ সালে অনার্স শেষ করেন । তারপর আর মার্স্টার্স করেননি তিনি। এরপর, ২০১৮ সালে ৪০ তম বিসিএস এ আবেদন করেন এবং প্রথমবারের মতো বিসিএস প্রিলিমিনারি টেস্ট দেন।সেখানে কৃতকার্য হওয়ার পর পর্যায়ক্রমে রিটেন ও ভাইভাতে অংশ নেন। সবশেষ, চলতি বছরের ৩০ মার্চ ৪০ তম বিসিএস এর রেজাল্টে পুলিশ ক্যাডার মেধাতালিকায় ৬৭ তম হিসেবে জায়গা করে নেন এই মেধাবী যুবক । হাকিম উদ্দিন বলেন, অনার্সে ভর্তির কিছু দিনের মধ্যেই চাকরি পেয়ে যাই।এরপর গাজীপুর ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশে যখন কর্মরত ছিলাম তখন কাজের চাপ কম ছিল। তাই কাজের পাশাপাশি পড়াশোনা করতে থাকি। কিন্তু ডিএমপি (ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ) বদলি হলে সেখানে প্রচুর কাজের চাপে পড়ি। সারাদিন কাজ করে বিশ্রামের সময় বিশ্রামের পাশাপাশি পড়াশোনা করতাম। যখন অনার্স চতুর্থ বর্ষ শেষদিকে তখন মাথায় ভালো মানের একটা চাকুরির পোকা ঢুকে। নূন্যতম ২য় শ্রেনীর একটা চাকুরির চাহিদা ছিল। এই চিন্তা থেকেই পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকুরির পাশাপাশি পড়াশোনা করতে থাকি ভালো একটা চাকুরির আশায়। তিনি বলেন, আমি ডিউটি থাকা কালীন সময়েও সঙ্গে বই রাখতাম। যখনই সময় পেতাম বই পড়তাম। অনেক সময় রাতে ডিউটিকালীন সময়ে রাস্তায় মশার কামড় খেয়েও পড়েছি। আমি বিসিএস প্রিপারেশনে কোন কোচিং করিনি। নীলক্ষেত থেকে বই কিনেই পড়াশোনা করেছি। মাঝে মধ্যে বড় ভাইদের পরামর্শ নিতাম। আর অনলাইনে বিসিএস এর বিভিন্ন ক্লাস করতাম। এভাবেই চাকুরির পাশাপাশি পড়াশোনা চালিয়ে যেতে থাকি।এক্ষেত্রে আমার উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আমাকে সাহায্য করেছে। প্রস্তুতি ভালো না থাকায় ৪০ তম এর আগে আবেদন করিনি। যখন আমার মনে হয়েছে আমি প্রতিযোগীতা করতে পারবো তখন আবেদন করি। ৪০ তম তে প্রথমবারের মতো বিসিএস পরীক্ষা দেই এবং সেখানেই ৬৭ তম অবস্থান গ্রহণ করি পুলিশ ক্যাডারে। তিনি আরো বলেন, পুলিশের পেশায় যে আদর্শ নিয়ে চাকুরি করেছি তা ভবিষ্যতেও অব্যহত রাখতে চাই। আমি দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করে যেতে চাই। এখন পুলিশ ক্যাডারে সুপারিশ প্রাপ্ত হওয়ায় তা আমার জন্য আরো সহজ হবে। সব সময় সত্যের পক্ষে ও অন্যায়ের বিপক্ষে থেকে কাজ করে যেতে চাই। হাকিমের মামা ইউনুছ আলী বলেন, হাকিম ছোট বেলা থেকেই খুবই পরিশ্রমী। তার আব্বা মারা যাওয়ার পর তার মা তাকে খুব কষ্ট করে লেখাপড়া করিয়েছে। সে চাকুরির পাশাপাশি ও পড়ালেখা চালিয়ে গেছে। অবশেষে তার আম্মার কষ্ট সার্থক হলো। কিন্তু তার আম্মা তা দেখে যেতে পারলো না। তবে আমরা পরিবারের সদস্যরা তার এই সফলতায় খুবই খুশি। রায়পুরা উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রিয়াজ মোর্শেদ খান রাসেল বলেন, আমার ইউনিয়ন থেকে তিন জন বিসিএসে সুযোগ পেয়েছে। যা আমাদের জন্য খুবই গৌরবের। এদের মধ্যে মো. উমর ফারুক কৃষিতে, সোহরাব হোসেন তারেক প্রাণী সম্পদে ও হাকিম উদ্দিন পুলিশে সুযোগ পেয়েছে। তবে হাকিম পুলিশের মত একটি ব্যস্ততা মূলক চাকুরি করেও যেভাবে নিজের মেধার স্বাক্ষর রেখেছে তা খুব প্রশংসনীয়। এসব মেধাবীদের সংবর্ধনার মাধ্যমে সম্মান জানানো হবে। নরসিংদী সরকারি কলেজ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ বলেন, হাকিমের খবরটি পেয়ে আমরা খুবই খুশি হয়েছি। সে আমাদের কলেজের গর্ব। সে পড়াশোনা থেকে শুরু করে প্রতিটি ক্ষেত্রে তার মেধার স্বাক্ষর রেখে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে ও সে দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করে কলেজের মুখ উজ্জ্বল করবে।
Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.
বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com
অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com
ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১