বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ০৫ April ২০২২

গুলজারকে প্রধানমন্ত্রী করার প্রস্তাব ইমরানের


পাকিস্তানের সাবেক প্রধান বিচারপতি গুলজার আহমেদকে তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মনোনীত করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রী তাকে মনোনীত করেছেন বলে এ তথ্য জানিয়েছেন দেশটির ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) নেতা ফাওয়াদ চৌধুরী। এদিকে, প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান দেশে আগাম নির্বাচনের যে ডাক দিয়েছেন তার বৈধতা নিয়ে গতকাল পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টে শুনানি শুরু হয়েছে।

তিনি বলেছেন, পিটিআইয়ের মূল কমিটির বৈঠকে তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সাবেক বিচারপতি গুলজার আহমেদকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তারপরই প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান গুলজার আহমেদকে তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মনোনীত করেছেন। প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভির কাছে লেখা চিঠিতে বলেছেন, ‌‘আমি তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগের জন্য পাকিস্তানের সাবেক প্রধান বিচারপতি গুলজার আহমেদের নাম প্রস্তাব করছি।

এর আগে, প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, সংবিধানের ২২৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এবং বিরোধী নেতা শেহবাজ শরীফের কাছে চিঠি লিখে তিন দিনের মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রীর নাম প্রস্তাব করতে বলেছেন প্রেসিডেন্ট আল ভি।

প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা ভোট খারিজ এবং পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়ার পর দেশটিতে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে; তা শেষ পর্যন্ত আদালতে গড়িয়েছে। বিরোধীদের অনাস্থা প্রস্তাব জাতীয় পরিষদে খারিজ হয়ে যাওয়ার পর সংসদ ভেঙে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান দেশে আগাম নির্বাচনের যে ডাক দিয়েছেন তার বৈধতা নিয়ে গতকাল সোমবার পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টে শুনানি শুরু হয়েছে। দেশটির ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ নেতৃত্বাধীন জোটের অন্যতম মিত্র মুত্তাহিদা কউমি মুভমেন্ট-পাকিস্তান (এমকিউএম-পি) জোট ছেড়ে যাওয়ায় সাবেক ক্রিকেট তারকা ইমরান খান গত সপ্তাহে দেশটির পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারান।

বিরোধীদের অনাস্থা প্রস্তাব এড়াতে নাটকীয় এক পদক্ষেপে প্রেসিডেন্টকে দিয়ে পার্লামেন্ট বিলোপ করে অসম্মানজনক বিদায় এড়ালেন ইমরান। কিন্তু তাতেও শেষ রক্ষা হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে, কেননা পাকিস্তানের সর্বোচ্চ আদালত বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করেছে। গত রোববার পাকিস্তানের পার্লামেন্টে বিরোধীদের আনা অনাস্থা প্রস্তাব ডেপুটি স্পিকার কাশিম সুরি বাতিল করে দেওয়ার পর তা সংবিধানসম্মত হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠার পরই আদালত হস্তক্ষেপ করে।

এদিকে ইমরান সরকারের তথ্যমন্ত্রী ফাওয়াদ আহমেদ এক প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, রাজনীতির বিষয় আদালতে নেওয়া ঠিক নয়।

অন্যদিকে, পাকিস্তানের রাজনীতির আসল ‘খেলোয়াড়’ হিসেবে বিবেচিত সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ভাষ্যে বলা হয়েছে, তারা রাজনীতিতে নেই।

ক্রিকেটের নায়ক থেকে তেহরিক-ই ইনসাফ (পিটিআই) দল গড়ে রাজনীতিতে নামা ইমরান ২০১৮ সালে ভোটে জিতে প্রধানমন্ত্রী হলেও তার পেছনে সেনাবাহিনীর আশীর্বাদ ছিল বলেই মনে করা হয়।

তিন বছর ক্ষমতায় থাকার পর সমপ্রতি তার সঙ্গে সেনাবাহিনীর সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এর বড় প্রকাশটা হয় কয়েক মাস আগে গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই প্রধান নিয়োগ নিয়ে।

বর্তমান সেনাপ্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়া ওই পদে লেফটেন্যান্ট জেনারেল নাদিম আঞ্জুমকে নিয়োগ দিলে তা নিয়ে আপত্তি জানান ইমরান। তিনি সরাসরি জেনারেল ফয়েজ হামিদকে ওই পদে বসানোর পক্ষে বলেন।

তা নিয়ে মনকষাকষি চলার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও সেনাপ্রধানের ভিন্ন বক্তব্য আসে। ইমরান অভিযোগ করেন, ওয়াশিংটন তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার ষড়যন্ত্র করছে। আবার রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধে ইউক্রেনের পক্ষে অবস্থান জানান জেনারেল বাজওয়া।

এছাড়া, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সাবেক স্ত্রী বুশরা বিবির ঘনিষ্ঠ বান্ধবী ফারাহ খান পাকিস্তান ছেড়ে দুবাই চলে গেছেন। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইমরানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় পরিষদ ভেঙে দেওয়ার পরই তিনি দুবাই চলে গেছেন।

পিটিআই সূত্রে জানা গেছে, ফারাহ রোববার দুবাইয়ের উদ্দেশে দেশ ছেড়েছেন। ফারাহ খানের স্বামী আমিরাতেই বসবাস করেন।

বুশরা খানের ঘনিষ্ঠ বান্ধুবী হিসেবে পরিচিত ফারাহ খানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।

পাকিস্তান পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান বিলওয়াল ভুট্টো-জারদারি ও মুসলিম লীগ-নওয়াজের ভাইস প্রেসিডেন্ট মরিয়ম নওয়াজ বেশ কয়েকবারই ফারাহ খানের নাম উল্লেখ করেছেন এবং তার বিরুদ্ধে দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগের জবাবে ইমরান খানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী শেহবাজ গিল বলেছিলেন, বিরোধীরা সমালোচনার কারণ খুঁজে না পাওয়ায় বুশরা বিবির বান্ধবী ফারাহকে টার্গেট করতে শুরু করেছেন।

শেহবাজ বলেছিলেন, ফারাহ কোনো সরকারি গুরুত্বপূর্ণ পদে নেই, এমনকি পিটিআইতে তার কোনো পদ নেই।

শুধু ফারাহ খানই নন, পাকিস্তানের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতায় তেহরিক-ই-ইনসাফের অনেক নেতাও দেশ ছাড়ছেন বলে জানিয়েছে পাকিস্তানি পত্রিকা এক্সপ্রেস।

গতকাল রোববার ছিল পাকিস্তানের রাজনীতিতে একটি ঘটনাবহুল দিন। এদিন দুপুরে ইমরান খানের ক্ষমতায় টেকা-না টেকা নিয়ে বিরোধী পক্ষ জাতীয় পরিষদে যে অনাস্থা প্রস্তাব উত্থাপন করেছিল, তা খারিজ হয়ে যায়।

অধিবেশনের শুরুতে প্রস্তাব খারিজ করে দেন ডেপুটি স্পিকার কাশিম সুরি। ব্যাপারটিকে তিনি আখ্যা দিয়েছেন ‘অসাংবিধানিক’ বলে। অধিবেশন চলাকালে প্রধানমন্ত্রী ইমরান উপস্থিত ছিলেন না।

ষড়যন্ত্রের কারণে এই প্রস্তাব তোলা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন কাশিম সুরি। পরে অধিবেশন মূলতবি করেন তিনি। একপর্যায়ে বিরোধী দলগুলোর তোপের মুখে পড়তে হয় তাকে। স্লোগান দিয়ে প্রতিবাদ জানান বিরোধীরা। হট্টগোল তৈরি হয়।

এরপরই প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের পরামর্শে পাকিস্তানের পার্লামেন্ট ভেঙে দেন প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি। প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের পক্ষ থেকে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।

কর্তৃপক্ষ বৃিবতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, এখন নিয়ম অনুযায়ী, আগামী তিন মাসের মধ্যে এই দেশে নতুন করে আবার নির্বাচন হবে।

পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়ার কিছু সময় আগে ইমরান খান জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন। ওই ভাষণে তিনি বলেন, আমি প্রেসিডেন্টকে পার্লামেন্ট ভেঙে নতুন নির্বাচন দিতে চিঠি পাঠিয়েছে। পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী কে হবেন, তার সিদ্ধান্ত নেবে জনগণই।

জনগণকে দুশ্চিন্তা না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সৃষ্টিকর্তা পাকিস্তানের ওপর নজর রাখছেন। এ সময় ক্ষমতা থেকে তাকে সরানোর জন্য বিদেশি চক্রান্ত ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ইমরান খানের বিরুদ্ধে দেশ শাসনে অব্যবস্থাপনার অভিযোগ এনে গত ৮ মার্চ অনাস্থা প্রস্তাব জমা দেয় বিরোধী দলগুলো। এ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা ও ভোটাভুটির জন্য অধিবেশন ডাকতে স্পিকার আসাদ কায়সারের প্রতি লিখিত আবেদন জানান তারা।

পাকিস্তানের সংবিধান অনুযায়ী, লিখিত আবেদন জমার ১৪ দিনের মধ্যে স্পিকারকে আলোচনার জন্য অধিবেশন ডাকতে হবে। সে অনুযায়ী ২২ মার্চের মধ্যে অধিবেশন আয়োজন করার কথা ছিল। তবে ২২ মার্চ থেকে জাতীয় পরিষদে ওআইসির দুই দিনব্যাপী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলন শুরু হওয়ায় তা আর হয়নি। এরপরই অধিবেশনের তারিখ পেছায়। একপর্যায়ে তা রোববার এসে ঠেকে।

অনাস্থা প্রস্তাবে টিকে থাকতে হলে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) ইমরান খানকে অন্তত ১৭২ সদস্যের সমর্থন পেতে হতো। এরই মধ্যে তিন জোটসঙ্গী মুত্তাহিদা কওমি মুভমেন্ট পাকিস্তান (এমকিউএম-পি), পাকিস্তান মুসলিম লিগ-কায়েদ (পিএমএল-কিউ) এবং বালুচিস্তান আওয়ামী পার্টি (বিএপি) বিরোধী শিবিরে যোগ দেওয়ার ইঙ্গিত দেওয়ায় ব্যাপারটি অন্যদিকে মোড় নেয়।

এর আগে তিন বছরের মাথায় গত মার্চে অনাস্থা ভোট হয় ইমরানের বিরুদ্ধে। সেবার সুবিধাজনক অবস্থানে থাকায় অনায়াসেই উতরে গিয়েছিলেন তিনি।

দুর্নীতির দায়ে নওয়াজ শরিফ অভিশংসিত হওয়ার পর ২০১৮ সালে চার দলের সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় আসেন তারকা ক্রিকেটার থেকে রাজনীতিক বনে যাওয়া ইমরান খান। ২০২৩ সালের আগস্ট পর্যন্ত তার নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) সরকারের মেয়াদ ছিল।


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১