আপডেট : ২৯ April ২০২২
গাজীপুরে শ্রীপুরের কাশিজুলী গ্রামে একদল মানবিক তরুণদের হাতে গড়ে তোলা স্বপ্নছোঁয়া সংস্থা মানবতা আর অসহায়ের পাশে দাঁড়ানোর দৃড় প্রত্যয় নিয়ে তাদের পথ চলা। সুযোগ পেলেই সাধ্যমত অসহায়ের পাশে দাঁড়ায় এ স্বপ্নছোঁয়া সংস্থা। বৃহস্পতিবার দুপুরে গোলাঘাট গ্রামের দিনমজুর মফিজুলের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে উপহারের (টমটম) এ গাড়িটি। এমন উপহার পেয়ে মফিজুলের পরিবারে এরই মধ্যে ঈদের আনন্দ লেগে গেছে। প্রতিবেশীরা জানান, দুটি শিশু কন্যা স্কুলে পড়ে । রয়েছে একটি শিশু পুত্র ও ছোট্ট আরও একটি মেয়ে। জন্ম থেকেই শিশু পুত্রটি শাররীক প্রতিবন্ধী। অভাবের সংসারে এ আরেক বোঝা মরার ওপর খাড়ার গা। বড় এ পরিবার নিয়ে দুবেলা দু-মুঠো ভাত ডাল মিলেয়ে সবার মুখের আহার জোগার করতেই জীবন হাসফাস দিনমজুর মফিজুলের। নানা কষ্টে দিনানিপাত তাদের। কম খেয়ে কম পড়ে সংসারের হাল ধরে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা দিনমজুর মফিজুলের। দিনমজুরি আর ধার দেনা করে সংসার চালানো শিশুদের পড়াশুনা করানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ছিল। একটা সময় আর পেরে উঠতে পারছিলেন না তিনি। হতাশ হয়ে পড়েন। জীবনের হাল ছেড়ে দিতে দিতে এক সুখবর সামনে হাজির। ঈদকে সামনে রেখে স্বপ্নের মতো এক উপহার নিয়ে হাজির স্থানীয় মানবিক উন্নয়নে কাজ করা এক দল তরুণের স্বপ্নছোঁয়া সংস্থা। এ ঈদে অসহায় দরিদ্র মফিজুলের জন্য ঈদের উপহার হিসাবে তাকে একটি টমটম কিনে দিয়েছে স্বপ্নছোঁয়া সংস্থা। স্বপ্নছোঁয়া সংস্থার উপদেষ্টা- অবসরপ্রাপ্ত মেজর-আবদুল্লা আল মাহমুদ জানান, আমরা একটা সার্বজনীন মানবিক স্বপ্ন নিয়ে আমাদের এ স্বপ্নছোঁয়া সংস্থার যাত্রা শুরু করেছি। চেষ্টা করছি সাধ্যমত অসহায়ের পাশে থেকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিতে। পাশের গ্রামের মফিজুল চার সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে এমন খবর পাই। আমরা সব সদস্য পরামর্শ করে দিনমজুর মফিজুলের জন্য দৈনিক আয়ের জন্য একটা টমটম(স্যালু ইঞ্জিন চালিত ভটভটি) কিনে দিয়েছি। এতে সে প্রতিদিন যা রোজগার করবে তা থেকে সংসার চালিয়ে কিছু আয়ও করতে পারবে। আশা করি এ উপহারে তার সংসার ভাল চলবে ও মেয়েদের শিক্ষাকার্যক্রমও চালিয়ে যাবে। উপহার পাওয়া মফিজুল জানান, সংসার চালাতে আর পারছিলাম না। অভাবে মাঝে মধ্যে পালাতে মন চায়ত। কিন্তু আমার এতগুলো শিশু সন্তান কে দেখবে তা ভেবে খেটে চলেছি সংসার বাুচাতে। তবুও চেষ্টা করছিলাম দেখি আল্লাহ কি রাখছে কপালে । আল্লাহ এ অসহায়ের দোয়া কবুল করছে। তিনি বলেন, এবার বহুদিন পর আমাগর বাড়িতে অন্যরকম ঈদের আনন্দ বইতাছে। কত দিন যে ঈদের দিনে চিনি সেমাই খাইতে দিতে পারি না পুলাপানগরে। আল্লাহর রহমতে জান ভালা থাকলে এইবার পোলও গোস্তও কিনে সবাইরে নিয়া ঈদের দিন খামু। টাকার জন্য কত দিন যে কিনে পোলও গোস্ত খাই না। তিনি বলেন যারা মানুষের এমন স্বপ্ন বাঁচিয়ে দেয় আল্লাহ তাদের সব স্বপ্ন পূরণ করুক। স্বপ্নছোঁয়া সংস্থার চেয়ারম্যান আশিক বিন ইদ্রিস জানান, আমাদের ২১ জন সদস্য রয়েছে। সম্মানিত উপদেষ্টা রয়েছেন ১০ জন। আমরা সদস্যরা মিলে মিলে নিজ অর্থায়নে তহবিল গঠন করে মানুষের জন্য মানবিক কাজ করতে বদ্ধপরিকর। যখনই কোনো অসহায় মানুষের খবর পাই চেষ্টা করি সাধ্যমত সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিতে। যে যে ভাবে জীবন যুদ্ধে ঘুরে দাঁড়াতে পারতে তাকে সেভাবে সহায়তা করা হবে। তিনি বলেন, যে কেউ মানবিক কাজে আমাদের সাথে একাত্বতা প্রকাশ করতে পারে। তিনি আরও বলেন আমাদের এ মানবিক সংগঠনের সকল সদদ্যের নিরলস প্রচেষ্টায় আমরা আরও সফল হবো বলে আশা করছি। অসহায় মফিজুলের বাড়িতে গাড়ি দিতে উপস্থিত ছিলেন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুর রহমান সহ-সভাপতি শাহীন আলম ও সাংগঠনিক সম্পাদক রুবেল পাভেজ প্রমুখ। ।
Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.
বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com
অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com
ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১