বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ১৩ June ২০২২

গরু চুরি করে মাংস বিক্রি

রাস্তায় রক্তের ফোটা দেখে ধরা হলো চোর


রাত আনুমানিক প্রায় ৩টা। পুলিশ দিচ্ছে পাহাড়া। তাদের সামনে দিয়ে দ্রুত গতিতে চলে যায় একটি গাড়ি। এরপর রাস্তায় নজর দিলে চোখে পড়ে ফোটা ফোটা রক্ত। বিষয়টি তাদেরকে ভাবিয়ে তুলে। এরপর নৈশ প্রহরীর মাধ্যমে গাড়িটি অবস্থান জানতে চেষ্টা করে পুলিশ। রাস্তায় রাস্তায় রক্তের ফোটা দেখে কৌশলে সামনে এগিয়ে বের হয় আসল রহস্য। হাতেনাতে ধরা পড়লো চুরি করা গরুর মাংসসহ এক যুবক। আটক যুবক হলেন কায়কোবাদ (৪০) ।

এমনই এক ঘটনা হচ্ছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায়। সোমবার ভোররাতে পৌরশহরের লাল বাজার এলাকায় কসাই এরশাদ মিয়ার বাড়ি থেকে তাকে হাতেনাতে আটক করা হয়। অভিনব কায়দায় চুরি করা গরু জবাই করে মাংস বিক্রি করতে এসে সে পুলিশের হাতে আটক হন। আটক কায়কোবাদ উপজেলার দক্ষিণ ইউনিয়নের ছোট কুড়িপাইকা গ্রামের মৃত আব্দুল আজিজ মিয়ার ছেলে ও উপজেলা পরিষদর চেয়ারম্যান আবুল কাশেম ভূইয়ার ভাতিজা। এ সময় পুলিশ মাংস, জবাইয়ের ছুরি, চাপাতি রশিসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি উদ্ধার করে। এ ঘটনা এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশ জানায়, পৌর এলাকায় গভীর রাতে একটি রক্তমাখা গাড়ি দেখে টহল পুলিশের সন্দেহ হয়। পরে লালবাজার এলাকায় নৈশ প্রহরীর মাধ্যমে গাড়িটি অবস্থান জানতে পারে পুলিশ। রাস্তায় রক্তের ফোটা দেখে সামনের দিকে আসতে থাকে পুলিশ সদস্যরা। লালবাজার এলাকায় কসাই এরশাদ মিয়ার বাড়ির সামনে রক্ত দেখে তাদের সন্দেহ হয়। এক পর্যায়ে পুলিশ সদস্যরা তার বাড়িতে গিয়ে উপস্থিত হয়। এসময় পুলিশ দেখে কসাই এরশাদ মিয়াসহ কয়েকজন দ্রুত পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও চুরি করা জবাইকৃত মাংসসহ কায়কোবাদকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে মাংস , গরু জবাইয়ের যন্ত্রপাতিসহ তার ব্যবহৃত মটর একটি সাইকেল জব্দ করে থানায় নিয়ে আসেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রোববার দিবাগত রাত ১ টার দিকে কায়কোবাদসহ তার সঙ্গীরা পাশ্ববর্তী বড় কুড়িপাইকা গ্রামের হাজী ফরিদ মাস্টারের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে গরুটি চুরি করে। পরে মাষ্টারের প্রতিবেশী জমশিদ মিয়ার বসত ঘরে নিয়ে ওই রাতেই গরুটি বিক্রির জন্য জবাই করে। এরপর জবাইকৃত মাংস বিক্রি করতে কসাই এরশাদ মিয়ার বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। এসময় পুলিশ তাকে আটক করে।

বড় কুড়িপাইকা গ্রামের হাজী মো: ফরিদ মাষ্টারের ছেলে মো: আবুল ফয়সাল বলেন, দীর্ঘ দিন ধরেই তারা বাড়িতে কয়েকটি গরু পালন করছেন। এরইমধ্যে একটি গরু এই কোরবানির ঈদে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করছেন। তাই নেওয়া হচ্ছে ওই গরুর বাড়তি নজর। রোববার সন্ধ্যায় ভালো করে দেখে গোয়াল ঘর তালা লাগানো হয়। এরপর রাত ১১ টার দিকে গোয়াল ঘর পুনরায় দেখে পরিবারের লোকজন ঘুমাতে যান। হঠাৎ রাত প্রায় ৪ টার দিকে ইউপি সদস্য মোহাম্মদ আলী তাদের বাড়িতে এসে ডাকাডাকি শুরু করেন। এক পর্যায়ে ঘরের লোকজন ঘুম থেকে উঠে আসেন। এরপর ইউপি সদস্য বলেন আপনাদের গোয়াল ঘরে থাকা গরু আছে কি না। সঙ্গে সঙ্গে গোয়াল ঘরে গিয়ে দেখতে পান একটি গরু নেই। তিনি বলেন চুরসহ একজনকে আটক করেছে পুলিশ। তবে গরুটি জবাই করা হয়েছে। মাংস বিক্রি করতে গিয়ে পুলিশ একজনকে আটক করেছে। আমাকে ফোন করে তারা বলেছে আপনাদের বাড়ি দেখতে। তাৎক্ষণিকভাবে থানায় গিয়ে তারা নিশ্চিত হন চুরি হওয়া গরুটি ছিল তাদের। এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র এলাকা থেকে গরু চুরি করে মাংস নিয়ে কসাই এরশাদ মিয়ার কাছে বিক্রি করছেন। এ ঘটনার পর থেকে এরশাদ মিয়া পলাতক রয়েছে।

আখাউড়া থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আটক কায়কোবাদের বিরুদ্ধে চুরিসহ থানায় চারটি মামলা রয়েছে। এ চুরির ঘটনায় জড়িত সকলকে আটকের চেষ্টা চলছে। জবাই করা গরুর ১০৫ কেজি মাংস ৩ টি বস্তায় ছিল। যার আনুমানিক বাজার মূল্য সাড়ে ৭৩ হাজার টাকা। চুরি যাওয়া গরুর চামড়াসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১